পড়ার নোট
দুটি শব্দ একই রকম জোরে হলেও একটি মোটা, অন্যটি তীক্ষ্ণ শোনাতে পারে; আবার একই শব্দ জোরে বা আস্তে হতে পারে। প্রথমটির জন্য দায়ী পীচ, দ্বিতীয়টির জন্য তীব্রতা।
পীচ
শব্দ কতটা তীক্ষ্ণ বা মোটা শোনায়, তাকে পীচ বলে। পীচ নির্ভর করে শব্দের কম্পাঙ্কের উপর: কম্পাঙ্ক বেশি হলে শব্দ তীক্ষ্ণ বা উচ্চ পীচের, কম হলে মোটা বা নিম্ন পীচের।
পুরুষের গলার স্বর মোটা এবং নারী ও শিশুদের স্বর তীক্ষ্ণ। কারণ বয়সের সাথে পুরুষের ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যায়, ফলে তারা কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে; নারীদের ভোকাল কর্ড কোমল থাকে, তারা বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে।
তীব্রতা
শব্দ কতটা জোরালো, তা নির্ভর করে শব্দ তরঙ্গের বিস্তারের উপর। শব্দের তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক: বিস্তার বেশি হলে তীব্রতা বেশি, কম হলে কম। তীব্রতার স্তর ডেসিবেল (dB) এককে প্রকাশ করা হয়।
| শব্দের উৎস | পরিমাণ (dB) |
|---|---|
| জেট ইঞ্জিন | 110–140 |
| ট্রাফিক | 80–90 |
| গাড়ি | 60–80 |
| টেলিভিশন | 50–60 |
| কথাবার্তা | 40–60 |
| নিঃশ্বাস | 10 |
| মশার পাখার শব্দ | 0 |
পার্থক্য
| পীচ | তীব্রতা | |
|---|---|---|
| বোঝায় | তীক্ষ্ণ না মোটা | জোরে না আস্তে |
| নির্ভর করে | কম্পাঙ্কের উপর | বিস্তারের উপর |
| উদাহরণ | পাখির ডাক বনাম ঢোলের শব্দ | চিৎকার বনাম ফিসফিস |
উদাহরণ: একজন শিক্ষক একই বাক্য একবার আস্তে, একবার জোরে বললেন; জোরে বলার সময় শব্দ তরঙ্গের বিস্তার আগের দ্বিগুণ হলো। তীব্রতা কত গুণ হবে? তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক, তাই গুণ। কিন্তু একই মানুষের একই স্বর বলে কম্পাঙ্ক প্রায় একই থাকে, তাই পীচ বদলায়নি।
সাধারণ ভুল হলো তীক্ষ্ণ শব্দকেই জোরালো শব্দ ভাবা। মশার ভনভন উচ্চ পীচের কিন্তু তীব্রতা খুব কম, আর ঢোলের শব্দ নিম্ন পীচের কিন্তু তীব্র।
মনে রাখো: পীচ কম্পাঙ্কের উপর নির্ভর করে, শব্দ তীক্ষ্ণ না মোটা তা বোঝায়; তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক, শব্দ জোরে না আস্তে তা বোঝায় এবং ডেসিবেলে মাপা হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।