পড়ার নোট
শ্রাব্যতার সীমা
আমরা কান দিয়ে সব কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই না। শব্দের কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে 20000 Hz (20 kHz) এর মধ্যে হলে তা শোনা যায়; একে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড: কম্পাঙ্ক 20 Hz এর কম।
- শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসাউন্ড: কম্পাঙ্ক 20 kHz এর বেশি।
এসব শব্দ বাতাসে আলোড়ন তৈরি করলেও আমরা শুনতে পাই না; এদের অস্তিত্ব বুঝতে বিশেষ মাইক্রোফোন বা রিসিভার লাগে। অনেক পশুপাখি কম কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়; ভূমিকম্পের ঠিক আগে তৈরি কম কম্পাঙ্কের শব্দ শুনে পশুপাখি আতঙ্কে ছোটাছুটি করেছে বলে জানা গেছে। বাদুড় প্রায় 100 kHz এর আল্ট্রাসাউন্ড তৈরি করে।
কানে হেডফোন লাগিয়ে অবিরত গান শুনলে বা প্রচণ্ড শব্দদূষণে থাকলে শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
শব্দের ব্যবহার
- প্রচলিত ব্যবহার: কথা বলা, গান শোনা; চিকিৎসকেরা হৃৎস্পন্দন শোনেন, প্রকৌশলীরা যন্ত্রের শব্দ শুনে ত্রুটি বোঝেন।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি: আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে মায়ের গর্ভের শিশুকে দেখা যায়।
- ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে: মাটির নিচে ছোট বিস্ফোরণের শব্দ বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে জিওফোনে ধরা পড়ে; তা থেকে গ্যাস বা তেলের অবস্থান বের করা যায়।
- আল্ট্রাসাউন্ড ক্লিনার: ল্যাবরেটরিতে ছোট যন্ত্রপাতি তরলে ডুবিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পাঠালে কম্পনে সব ময়লা বেরিয়ে আসে।
- প্রতিধ্বনিতে দূরত্ব মাপা: বাদুড় অন্ধকারে চলে।
উদাহরণ: নিচের শব্দগুলো আমরা শুনতে পাব কি না?
| উৎস ও কম্পাঙ্ক | শ্রেণি | শোনা যাবে? |
|---|---|---|
| ভূমিকম্পের আগের 10 Hz শব্দ | ইনফ্রাসাউন্ড | না |
| মানুষের কথা, প্রায় 1000 Hz | শ্রাব্য | হ্যাঁ |
| বাদুড়ের 100 kHz শব্দ | আল্ট্রাসাউন্ড | না |
| আল্ট্রাসাউন্ড ক্লিনারের 40 kHz | আল্ট্রাসাউন্ড | না |
শ্রাব্যতার সীমার দুই প্রান্তে বাতাসে তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 20 Hz এ m এবং 20 kHz এ m।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে আমরা শুনতে পাই না বলে আল্ট্রাসাউন্ড বা ইনফ্রাসাউন্ড শব্দ নয়। এগুলোও যান্ত্রিক তরঙ্গ; শুধু কম্পাঙ্ক আমাদের শ্রাব্যতার সীমার বাইরে।
মনে রাখো: মানুষ 20 Hz থেকে 20 kHz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়; এর কমটি ইনফ্রাসাউন্ড, বেশিটি আল্ট্রাসাউন্ড, আর আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিসমিক সার্ভে ও আল্ট্রাসাউন্ড ক্লিনার শব্দের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।