offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৭ · টপিক ৯

শ্রাব্যতার সীমা ও শব্দের ব্যবহার

পড়ার নোট

শ্রাব্যতার সীমা

আমরা কান দিয়ে সব কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পাই না। শব্দের কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে 20000 Hz (20 kHz) এর মধ্যে হলে তা শোনা যায়; একে শ্রাব্যতার সীমা বলে।

  • শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড: কম্পাঙ্ক 20 Hz এর কম।
  • শব্দোত্তর বা আল্ট্রাসাউন্ড: কম্পাঙ্ক 20 kHz এর বেশি।

এসব শব্দ বাতাসে আলোড়ন তৈরি করলেও আমরা শুনতে পাই না; এদের অস্তিত্ব বুঝতে বিশেষ মাইক্রোফোন বা রিসিভার লাগে। অনেক পশুপাখি কম কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়; ভূমিকম্পের ঠিক আগে তৈরি কম কম্পাঙ্কের শব্দ শুনে পশুপাখি আতঙ্কে ছোটাছুটি করেছে বলে জানা গেছে। বাদুড় প্রায় 100 kHz এর আল্ট্রাসাউন্ড তৈরি করে।

কানে হেডফোন লাগিয়ে অবিরত গান শুনলে বা প্রচণ্ড শব্দদূষণে থাকলে শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

শব্দের ব্যবহার

  • প্রচলিত ব্যবহার: কথা বলা, গান শোনা; চিকিৎসকেরা হৃৎস্পন্দন শোনেন, প্রকৌশলীরা যন্ত্রের শব্দ শুনে ত্রুটি বোঝেন।
  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি: আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে মায়ের গর্ভের শিশুকে দেখা যায়।
  • ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে: মাটির নিচে ছোট বিস্ফোরণের শব্দ বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে জিওফোনে ধরা পড়ে; তা থেকে গ্যাস বা তেলের অবস্থান বের করা যায়।
  • আল্ট্রাসাউন্ড ক্লিনার: ল্যাবরেটরিতে ছোট যন্ত্রপাতি তরলে ডুবিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড পাঠালে কম্পনে সব ময়লা বেরিয়ে আসে।
  • প্রতিধ্বনিতে দূরত্ব মাপা: বাদুড় অন্ধকারে চলে।

উদাহরণ: নিচের শব্দগুলো আমরা শুনতে পাব কি না?

উৎস ও কম্পাঙ্কশ্রেণিশোনা যাবে?
ভূমিকম্পের আগের 10 Hz শব্দইনফ্রাসাউন্ডনা
মানুষের কথা, প্রায় 1000 Hzশ্রাব্যহ্যাঁ
বাদুড়ের 100 kHz শব্দআল্ট্রাসাউন্ডনা
আল্ট্রাসাউন্ড ক্লিনারের 40 kHzআল্ট্রাসাউন্ডনা

শ্রাব্যতার সীমার দুই প্রান্তে বাতাসে তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 20 Hz এ 33020=16.5\frac{330}{20} = 16.5 m এবং 20 kHz এ 33020000=0.0165\frac{330}{20000} = 0.0165 m।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে আমরা শুনতে পাই না বলে আল্ট্রাসাউন্ড বা ইনফ্রাসাউন্ড শব্দ নয়। এগুলোও যান্ত্রিক তরঙ্গ; শুধু কম্পাঙ্ক আমাদের শ্রাব্যতার সীমার বাইরে।

মনে রাখো: মানুষ 20 Hz থেকে 20 kHz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়; এর কমটি ইনফ্রাসাউন্ড, বেশিটি আল্ট্রাসাউন্ড, আর আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিসমিক সার্ভে ও আল্ট্রাসাউন্ড ক্লিনার শব্দের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • বাঁশির সুর থেকে কুকুরের বাঁশি: কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যচালিয়ে দেখো

    একটি গ্রামীণ মেলায় একজন বাদক বাঁশিতে ৪৪০ Hz কম্পাঙ্কের সুর বাজাচ্ছেন। মেলায় কুকুরের বিশেষ বাঁশি বাজে ২৫,০০০ Hz (২৫ kHz) কম্পাঙ্কে এবং দূরে হাতির দল ১৫ Hz কম্পাঙ্কে শব্দ তৈরি করে। বাতাসের তাপমাত্রা ৩০ °C হওয়ায় এখানে শব্দের বেগ ৩৫০ m/s। বাঁশির সুরের চেয়ে কুকুরের বাঁশির কম্পাঙ্ক অনেক বেশি। বাতাসে এই বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের বেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য কেমন হবে?

  • আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে প্রতিধ্বনি ও অঙ্গের গভীরতাচালিয়ে দেখো

    একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হচ্ছে। মানবদেহের নরম কলায় (টিস্যু) আল্ট্রাসাউন্ডের বেগ ১৫৪০ m/s। ত্বকের পৃষ্ঠ থেকে ০.০৭৭ m (৭.৭ cm) গভীরে থাকা একটি অঙ্গ থেকে প্রতিধ্বনি ১×১০⁻⁴ s পর ফিরে আসে। ডাক্তার যদি আরও গভীরে থাকা ০.১৫৪ m (১৫.৪ cm) দূরত্বের একটি অঙ্গ পর্যবেক্ষণ করেন, তবে প্রতিধ্বনি ফিরে আসতে কেমন সময় লাগবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহীর একটি আমবাগানে রাতের বেলা একটি বাদুড় ৫০ kHz কম্পাংকের শব্দোত্তর (ultrasound) তরঙ্গ নির্গত করল। ওই সময় বাতাসে শব্দের বেগ ৩৫০ m/s হলে, শব্দ তরঙ্গটির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?

    1. ক

      ০.০০৭ m

    2. খ

      ৭ m

    3. গ

      ১৪৩ m

    4. ঘ

      ১৭,৫০০ m

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ০.০০৭ m

    1. তরঙ্গবেগ v, কম্পাংক f এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ-এর মধ্যকার সম্পর্ক হলো v = fλ বা λ = v ⁄ f।
    λ=vf\lambda = \frac{v}{f}
    1. এখানে কম্পাংক f = ৫০ kHz = ৫০,০০০ Hz এবং বাতাসে শব্দের বেগ v = ৩৫০ m/s।
    2. মান বসিয়ে পাই: λ = ৩৫০ ⁄ ৫০,০০০ = ০.০০৭ m।
    λ=35050000=0.007 m\lambda = \frac{350}{50000} = 0.007\text{ m}
  2. বাদুড় চোখে ভালো দেখতে পায় না, তবুও রাতের অন্ধকারে গাছের ডালপালা বা কোনো বাধার সাথে ধাক্কা না খেয়ে কীভাবে নির্ভুলভাবে চলাচল ও শিকার করে — পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    বাদুড় উড়ে চলার সময় মুখ বা নাক দিয়ে ক্রমাগত উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর (ultrasound) তরঙ্গ নির্গত করে চারদিকে পাঠায়। এই শব্দ সামনে থাকা কোনো বাধা বা শিকারে প্রতিফলিত হয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে এলে বাদুড়ের সংবেদনশীল কান তা গ্রহণ করে। শব্দ নির্গমন ও প্রতিধ্বনি প্রাপ্তির সময়ের ব্যবধান বিশ্লেষণ করে বাদুড় বাধার দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করে এবং অন্ধকারেও নির্ভুলভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে চলাচল করে।

    1. বাদুড় ২০,০০০ Hz-এর চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর (ultrasound) তরঙ্গ তৈরি করতে ও শুনতে পারে।
    2. সামনে থাকা কোনো বাধা থেকে এই শব্দ প্রতিফলিত হয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে।
    d=vt2d = \frac{vt}{2}
    1. প্রতিধ্বনি শোনার সময়ের ব্যবধান t হিসাব করে বাদুড় মস্তিষ্কে বাধার দূরত্ব d ও অবস্থান নির্ণয় করে নিরাপদে গতিপথ পরিবর্তন করে।
  3. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সোনোগ্রাফি বিভাগে একজন রোগীর পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হচ্ছে। আল্ট্রাসাউন্ড ট্রান্সডিউসার (transducer) থেকে রোগীর পেটের ত্বকে প্রবেশ করানো শব্দোত্তর তরঙ্গ পিত্তথলির (gallbladder) একটি পাথর থেকে প্রতিফলিত হয়ে ১.০ × ১০⁻⁴ s পর প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে। মানবদেহের নরম কলায় আল্ট্রাসাউন্ডের বেগ ১৫৪০ m/s হলে, ত্বকের পৃষ্ঠ থেকে পিত্তথলির পাথরটির গভীরতা কত মিটার (m)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.০৭৭ m

    1. প্রতিধ্বনি শোনার ক্ষেত্রে শব্দের অতিক্রান্ত দূরত্ব ২d = vt, যেখানে d হলো প্রতিফলক অঙ্গের গভীরতা, v হলো কলায় শব্দের বেগ এবং t হলো প্রতিধ্বনির সময়।
    2d=vt  ⟹  d=vt22d = vt \implies d = \frac{vt}{2}
    1. এখানে v = ১৫৪০ m/s এবং t = ১.০ × ১০⁻⁴ s বসিয়ে পাই, d = (১৫৪০ × ১.০ × ১০⁻⁴) / ২ = ০.১৫৪ / ২ = ০.০৭৭ m।
    d=1540×1.0×10−42=0.077 md = \frac{1540 \times 1.0 \times 10^{-4}}{2} = 0.077\text{ m}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো