পড়ার নোট
শব্দ আমাদের জীবনে খুব প্রয়োজনীয়, কিন্তু এর বাড়াবাড়ি জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ও বিরক্তিকর শব্দ যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ক্ষতি করে, তখন তাকে শব্দদূষণ বলে।
উৎস
- রাস্তায় বাস, গাড়ি, ট্রাকের ইঞ্জিনের শব্দ এবং অনবরত হর্ন; বড় রাস্তার পাশে এ শব্দ প্রায়ই সহনশীল সীমা ছাড়িয়ে যায়।
- কলকারখানার যন্ত্রপাতির শব্দ।
- উচ্চ শব্দে মাইক বা লাউডস্পিকারের ব্যবহার।
- উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিন।
শব্দের মাত্রা
| উৎস | মাত্রা (dB) |
|---|---|
| জেট ইঞ্জিন | 110–140 |
| ট্রাফিক | 80–90 |
| গাড়ি | 60–80 |
| টেলিভিশন | 50–60 |
| কথাবার্তা | 40–60 |
| নিঃশ্বাস | 10 |
তুলনা করলে দেখা যায় ট্রাফিকের শব্দ সাধারণ কথাবার্তার চেয়ে অনেক বেশি; বড় রাস্তার পাশে থাকা মানুষ সারা দিন এই মাত্রায় থাকেন।
ক্ষতিকর প্রভাব
- শোনার ক্ষমতা কমে যাওয়া: শব্দদূষণের কারণে শোনার ক্ষমতা অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- অভ্যস্ততার ফাঁদ: দীর্ঘদিন শব্দদূষণে থাকতে থাকতে মানুষ তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাই ক্ষতি টের পায় না; নিরিবিলি জায়গায় গেলে হঠাৎ নীরব জীবনের মূল্য বোঝা যায়।
- হেডফোনের অভ্যাস: অপ্রয়োজনে কানে হেডফোন লাগিয়ে অবিরত জোরে গান শুনলে সমস্যা আরও জটিল হয়।
- বিরক্তি, কাজে ও পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হওয়া।
উদাহরণ: একটি স্কুল ব্যস্ত সড়কের পাশে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কথা প্রায় 50 dB, আর জানালা দিয়ে আসা ট্রাফিকের শব্দ প্রায় 85 dB। কী সমস্যা হবে? ট্রাফিকের শব্দ শিক্ষকের কথার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র, তাই শিক্ষার্থীরা কথা শুনতে পাবে না, শিক্ষককে জোরে কথা বলতে হবে, মনোযোগ নষ্ট হবে, আর দীর্ঘদিনে শোনার ক্ষমতারও ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে শব্দে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর ক্ষতি হয় না। অভ্যস্ত হলেও কানের ক্ষতি চলতে থাকে, শুধু আমরা তা টের পাই না।
মনে রাখো: যানবাহনের হর্ন ও ইঞ্জিন, কলকারখানা ও মাইকের মাত্রাতিরিক্ত শব্দই শব্দদূষণ, যা শোনার ক্ষমতা নষ্ট করে এবং মনোযোগ ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।