রেললাইনে শব্দ: মাধ্যম ও শব্দের বেগ
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
টঙ্গীর একটি লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে রাফি লক্ষ করল, ২৫৫ m দূরে রেললাইনে হাতুড়ির আঘাতের শব্দ বাতাসের চেয়ে রেললাইনের ইস্পাতের ভেতর দিয়ে অনেক আগে পৌঁছায়। ইস্পাত (কঠিন), পানি (তরল) ও বায়ু (বায়বীয়): এই তিন মাধ্যমে শব্দের বেগের ক্রম কেমন হবে?
লোহা বা ইস্পাত, পানি এবং বায়ুর মধ্যে শব্দের বেগের সঠিক ক্রম কোনটি?
- বায়ু > পানি > ইস্পাত: বায়ু সবচেয়ে হালকা হওয়ায় এতে শব্দ দ্রুত চলে
- পানি > বায়ু > ইস্পাত: কঠিন পদার্থের ভেতর দিয়ে শব্দ যেতে পারে না
- ইস্পাত > পানি > বায়ু: কঠিনে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি, বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম
যা বদলাতে পারবে
- মাধ্যম: বায়ু, পানি, ইস্পাত
- বাতাসের তাপমাত্রা: ০ থেকে ৪০ °C
যা মেপে দেখাবে
- শব্দের বেগ (m/s)
- প্রতিধ্বনির সময় (s)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- মাধ্যম পরিবর্তন করে বায়ু, পানি ও ইস্পাত নির্বাচন করো। বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ এবং প্রতিধ্বনির সময় কীভাবে বদলায় লক্ষ করো।
নিজে করে দেখো
- বাতাসে শব্দের বেগ ঠিক ৩৫০ m/s করার জন্য বাতাসের তাপমাত্রা কত ডিগ্রিতে নির্ধারণ করবে?
ইঙ্গিত
বাতাসে v = ৩৩২ + ০.৬T। ৩৫০ m/s বেগ পেতে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেখো।
- ২৫৫ m দূরের প্রতিফলক থেকে প্রতিধ্বনি ঠিক ০.১ s সময়ে ফিরে আসার মাধ্যমটি খুঁজে বের করো।
ইঙ্গিত
প্রতিধ্বনির সময় t = 2d ÷ v। ২৫৫ m দূরত্বে যাওয়া ও আসার মোট পথ ৫১০ m। কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ ৫১০০ m/s?
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ ও তাপমাত্রা
শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন। মাধ্যমের ঘনত্ব ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর শব্দের বেগ নির্ভর করে। কঠিন মাধ্যমে অণুগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি এবং দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে বলে এতে স্থিতিস্থাপকতা বেশি, তাই কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি (যেমন ইস্পাতে ৫১০০ m/s)। তরল মাধ্যমে বেগ তার চেয়ে কম (পানিতে ১৪৮০ m/s) এবং বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম (০ °C তাপমাত্রায় বাতাসে ৩৩২ m/s)। বাতাসে প্রতি ১ °C তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য বেগ ০.৬ m/s বাড়ে, যার সূত্র: v = ৩৩২ + ০.৬T m/s। তাই টঙ্গীর লেভেল ক্রসিংয়ে ২৫৫ m দূরের রেললাইনে হাতুড়ির আঘাতের শব্দ বাতাসের চেয়ে ইস্পাতের ভেতর দিয়ে অনেক আগেই শোনা যায়।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
অনেকে মনে করে বায়ু হালকা হওয়ায় শব্দ বায়ুতে সবচেয়ে দ্রুত চলে, অথবা কঠিন পদার্থের ভেতর দিয়ে শব্দ যেতেই পারে না। বাস্তবে শব্দ তরঙ্গে কণাগুলোর পারস্পরিক ধাক্কার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালিত হয়। কঠিন পদার্থে কণাগুলো খুব কাছাকাছি ও দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় কম্পন সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই ইস্পাতে শব্দের বেগ বাতাসের বেগের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- বায়ু হালকা ও পাতলা হওয়ায় এতে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে
- কঠিন পদার্থের ভেতর দিয়ে শব্দ চলাচল করতে পারে না
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- রেললাইন পরীক্ষা ও ট্রেনের আগমন শনাক্তকরণ: বাংলাদেশ রেলওয়েতে লাইনে সেন্সর বা কান পেতে বহুদূর থেকে ছুটে আসা ট্রেনের শব্দ বাতাসে পৌঁছানোর অনেক আগেই ইস্পাতের লাইনে কম্পন হিসেবে শনাক্ত করা যায়।
- নদী ও উপকূলীয় নৌপথে গভীরতা পরিমাপ: পদ্মা ও মেঘনা নদীতে নৌযান চলাচলের সময় পানিতে শব্দের নির্দিষ্ট বেগ (১৪৮০ m/s) ব্যবহার করে ইকোসাউন্ডার দিয়ে নদী ও ডুবোচরের গভীরতা মাপা হয়।