ডগা ঢাকলে চারা কি আর জানালার দিকে বাঁকবে?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
রিনার জানালার টবে সরিষার চারাগুলো সব জানালার দিকে হেলে আছে। সে একটি চারার ডগায় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ছোট টুপি পরিয়ে দিল, বাকি কাণ্ড খোলা রাখল। একদিন পর এই চারাটি কি জানালার দিকে বাঁকবে?
ডগায় ফয়েলের টুপি পরানো চারা একদিন পর কী করবে?
- সোজা উপরে বাড়বে, কারণ আলো টের পায় ডগা, আর ডগা অন্ধকারে
- বাকিদের মতোই বাঁকবে, কাণ্ডের বাকি অংশ তো আলো পাচ্ছে
- আলো থেকে উল্টো দিকে বাঁকবে
- ডগা ঢাকলে চারা মরে যাবে
যা বদলাতে পারবে
- পরীক্ষার ব্যবস্থা: জানালা দিয়ে এক পাশের আলো, উপর থেকে আলো, পুরো অন্ধকার, টব কাত করে শোয়ানো (অন্ধকারে), ক্লাইনোস্ট্যাটে ধীরে ঘোরে, আলো এক পাশে
- কাণ্ডের ডগা: অক্ষত ডগা, ডগায় ফয়েলের টুপি, ডগা কেটে ফেলা
- সময়: ০ থেকে ৭২ h
যা মেপে দেখাবে
- কাণ্ড বেঁকেছে (°)
- ছায়ার (বা নিচের) দিকে অক্সিন (%)
- সাড়া
- মূল নিচে বেঁকেছে (°)
- কাণ্ডের বৃদ্ধি (mm)
- কাণ্ডের রং
চালানোর সময় খেয়াল করো
- অক্ষত ডগা, ফয়েলের টুপি আর কাটা ডগা: তিনটির অক্সিন কোথায় থাকে দেখো।
- টব কাত করে শুইয়ে দাও। কাণ্ড আর মূল কোন দিকে যায়?
নিজে করে দেখো
- কাণ্ডকে অন্তত ৬০° উপরের দিকে বাঁকাও।
ইঙ্গিত
টব শুইয়ে দাও, তারপর অপেক্ষা।
- একটি লম্বা, ফ্যাকাশে হলুদ চারা জন্মাও।
ইঙ্গিত
আলো ছাড়া অন্তত এক দিন।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
উদ্ভিদে সমন্বয় ও বৃদ্ধি: অক্সিন ও ট্রপিক চলন
উদ্ভিদের স্নায়ু নেই; তার কাজের সমন্বয় হয় হরমোন দিয়ে। অক্সিন তৈরি হয় কাণ্ডের ডগায় এবং নিচে নেমে কোষকে লম্বা হতে সাহায্য করে; জিবেরেলিন কাণ্ড লম্বা করে ও বীজ অঙ্কুরিত করে, সাইটোকাইনিন কোষ বিভাজন বাড়ায়, ইথিলিন ফল পাকায়, অ্যাবসিসিক এসিড পাতা ঝরায় ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে। বৃদ্ধি মানে আকার ও ওজনের স্থায়ী বৃদ্ধি, যা ঘটে ডগার কাছে কোষ বিভাজন ও কোষ লম্বা হওয়ায়। এক পাশ থেকে আলো এলে ডগা তা টের পায় এবং অক্সিন ছায়ার দিকে বেশি সরে যায়; ছায়ার দিক দ্রুত বাড়ে, তাই কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে (ধনাত্মক আলোকবৃত্তি)। ডগা ঢাকলে বা কেটে ফেললে বাঁকা থামে, যা ডারউইন পিতাপুত্র দেখিয়েছিলেন। টব শোয়ালে অভিকর্ষে অক্সিন নিচের দিকে জমে: কাণ্ড উপরে ওঠে (ঋণাত্মক অভিকর্ষবৃত্তি), মূল নিচে নামে (ধনাত্মক অভিকর্ষবৃত্তি)। অন্ধকারে চারা লম্বা, সরু ও ফ্যাকাশে হয় (ইটিওলেশন)।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
আলো টের পায় ডগা, কাণ্ডের বাকি অংশ নয়। ডগা অন্ধকারে থাকলে অক্সিন দুই পাশে সমান ভাগ হয়, তাই দুই পাশ সমান বাড়ে আর চারা সোজা থাকে।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- কাণ্ডের যেকোনো অংশ আলো টের পেয়ে বাঁকে
- ডগা ঢাকলে উল্টো দিকে বাঁকে
- ডগা ঢাকলে চারা মরে যায়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- ঘরের টবের গাছ মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে দিলে গাছ এক দিকে হেলে না পড়ে সোজা বাড়ে।