ভাত খাওয়ার পর রক্তের চিনি কে নামায়?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
দুপুরে এক থালা ভাত খাওয়ার পর রাফির রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়, কিন্তু দুই ঘণ্টার মধ্যেই আবার প্রায় স্বাভাবিক। কোনো ওষুধ না খেয়েও এটা কীভাবে হয়? শরীরের কোন হরমোন কোথা থেকে এসে গ্লুকোজ নামায়?
ভাতের পর রক্তের গ্লুকোজ কে নামায়?
- অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন: কোষে গ্লুকোজ ঢোকায়, যকৃতে গ্লাইকোজেন বানায়
- অগ্ন্যাশয়ের গ্লুকাগন
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির অ্যাড্রেনালিন
- কিডনি প্রস্রাবের সঙ্গে সব বাড়তি চিনি বের করে দেয়
যা বদলাতে পারবে
- খাবার: কিছু খায়নি (খালি পেট), এক থালা ভাত, মিষ্টি (রসগোল্লা), ডিম আর ডাল
- খাওয়ার পর হাঁটা: চালু বা বন্ধ
- খাওয়ার পরে সময়: ০ থেকে ৬ h
যা মেপে দেখাবে
- রক্তে গ্লুকোজ (mmol/L)
- সর্বোচ্চ গ্লুকোজ (mmol/L)
- সক্রিয় হরমোন
- অবস্থা
চালানোর সময় খেয়াল করো
- ভাত বেছে সময় বদলাও। কখন ইনসুলিন কাজ করে?
- মিষ্টি আর ডিম-ডাল তুলনা করো।
নিজে করে দেখো
- এমন খাবার খুঁজে বের করো যাতে গ্লুকোজ সর্বোচ্চ ৯ mmol/L ছাড়ায়।
ইঙ্গিত
যা দ্রুত হজম হয় আর শর্করা বেশি।
- এমন খাবার খুঁজে বের করো যাতে গ্লুকোজ সামান্য বাড়ে (৫.২ থেকে ৬ mmol/L)।
ইঙ্গিত
প্রোটিনে শর্করা কম।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
হরমোনের মাধ্যমে সমন্বয়
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নালি ছাড়াই সরাসরি রক্তে হরমোন ছাড়ে, আর রক্ত তা দূরের অঙ্গে নিয়ে যায়; একে রাসায়নিক সমন্বয় বলে। পিটুইটারি (বৃদ্ধি হরমোন, অন্য গ্রন্থির নিয়ন্ত্রক), থাইরয়েড (থাইরক্সিন: বিপাকের হার; আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড), অ্যাড্রিনাল (অ্যাড্রেনালিন: বিপদে তৎপরতা), অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস (ইনসুলিন ও গ্লুকাগন), আর শুক্রাশয়-ডিম্বাশয় (জনন হরমোন) প্রধান। খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ বাড়লে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ছাড়ে: এটি দেহকোষে গ্লুকোজ ঢোকায় আর যকৃত ও পেশিতে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমায়, ফলে গ্লুকোজ নামে। উপোস থাকলে গ্লুকোজ কমে, তখন গ্লুকাগন গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ বাড়ায়। এই বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় গ্লুকোজ প্রায় ৪ থেকে ৭.৮ mmol/L এর মধ্যে থাকে। মিষ্টি দ্রুত গ্লুকোজ বাড়ায়, ডিম-ডালে শর্করা কম, আর খাওয়ার পর হাঁটলে পেশি গ্লুকোজ খরচ করে।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
গ্লুকাগন আর অ্যাড্রেনালিন গ্লুকোজ বাড়ায়, কমায় না। সুস্থ কিডনি গ্লুকোজ ফেরত শুষে নেয়। গ্লুকোজ নামানোর একমাত্র হরমোন ইনসুলিন।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- গ্লুকাগন রক্তের চিনি কমায়
- অ্যাড্রেনালিন রক্তের চিনি কমায়
- সুস্থ কিডনি বাড়তি চিনি প্রস্রাবে ফেলে দেয়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলে থাইরয়েড ঠিকভাবে থাইরক্সিন বানাতে পারে, গলগণ্ড হয় না।