offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ১১

প্রাণরস (Hormone)

পড়ার নোট

প্রাণরস বা হরমোন হলো অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ, যা রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোষে পৌঁছে দেহের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা নালিবিহীন গ্রন্থির ক্ষরণ পরিবহণের জন্য আলাদা নালি নেই। তাই এর হরমোন সরাসরি রক্তে মেশে। যে কোষ কোনো হরমোনের প্রভাবে সাড়া দেয়, সেটিই সেই হরমোনের লক্ষ্য কোষ।

হরমোন অতি অল্প পরিমাণে কার্যকর। এটি পুষ্টিদ্রব্য নয়; কোষের জৈব রাসায়নিক কাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো হরমোন কাজকে উদ্দীপিত করে, আবার কোনোটি বাধা দেয়। এভাবে বৃদ্ধি, বিকাশ, বিপাক, প্রজনন এবং আবেগের মধ্যে সমন্বয় ঘটে। অনেক হরমোনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

নিচের ছকে প্রধান হরমোনগুলোর উৎস ও কাজ তুলনা করা হলো।

হরমোনউৎসপ্রধান কাজ
সোমাটোট্রপিন বা বৃদ্ধি হরমোনপিটুইটারিদেহের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ
থাইরক্সিনথাইরয়েডবৃদ্ধি ও বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ
ক্যালসিটোনিনথাইরয়েডক্যালসিয়ামের বিপাকে সহায়তা
প্যারাথরমোনপ্যারাথাইরয়েডক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ
অ্যাড্রেনালিনঅ্যাড্রেনালতীব্র মানসিক ও দৈহিক চাপ মোকাবিলা
ইনসুলিনঅগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সরক্তের গ্লুকোজ কমাতে সহায়তা
গ্লুকাগনঅগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সরক্তের গ্লুকোজ বাড়াতে সহায়তা
ইস্ট্রোজেনডিম্বাশয়স্ত্রী যৌন বৈশিষ্ট্য ও জননক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
টেস্টোস্টেরনশুক্রাশয়পুরুষ যৌন বৈশিষ্ট্য ও জননক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ

পিটুইটারি মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত। এর কিছু হরমোন অন্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে; তাই আকারে ছোট হলেও এর গুরুত্ব অনেক। থাইরয়েড শ্বাসনালির উপরের অংশে, চারটি প্যারাথাইরয়েড তার পেছনে এবং অ্যাড্রেনাল দুটি বৃক্কের উপরে থাকে। থাইমাস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং বয়স বাড়লে ছোট হয়।

ধরো, রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ কাছে রিকশা চলে এল। ভয় ও চাপের পরিস্থিতিতে অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়তে পারে; দেহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়। অন্যদিকে খাবারের পরে ইনসুলিন গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

একটি সাধারণ ভুল হলো সব হরমোনকে শুধু উত্তেজক ভাবা। হরমোন উদ্দীপক অথবা নিবৃত্তিকারক হতে পারে। স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন একসঙ্গে কাজ করে; প্রয়োজনের তুলনায় ক্ষরণ কম বা বেশি হলে স্বাভাবিক সমন্বয় ব্যাহত হয়।

মনে রাখো: হরমোন অল্প পরিমাণে রক্তের মাধ্যমে লক্ষ্য কোষে পৌঁছে দেহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দুপুরের খাবার গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) থেকে কোন হরমোন ক্ষরিত হয়ে রক্ত থেকে যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লুকোজ প্রবেশ এবং গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক করে?

    1. ক

      ইনসুলিন (Insulin)

    2. খ

      গ্লুকাগন (Glucagon)

    3. গ

      থাইরক্সিন (Thyroxin)

    4. ঘ

      অ্যাড্রেনালিন (Adrenalin)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ইনসুলিন (Insulin)

    1. অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা (β) কোষ থেকে ইনসুলিন (Insulin) হরমোন ক্ষরিত হয়। খাবার পর রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে ইনসুলিন কোষপর্দায় গ্লুকোজ পরিবহন বাড়ায় এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃৎ ও পেশিতে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।
    2. বিপরীতভাবে, রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে আলফা (α) কোষ থেকে গ্লুকাগন ক্ষরিত হয়ে গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে; থাইরক্সিন দেহের সামগ্রিক বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে; এবং অ্যাড্রেনালিন জরুরি পরিস্থিতিতে দেহকে প্রস্তুত করে।
  2. চট্টগ্রামের একটি ডায়াবেটিস হাসপাতালে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হলো। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজের ঘনমাত্রা পাওয়া গেল ৯.০ mmol/L। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুসারে খালি পেটে একজন সুস্থ মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রা হলো ৬.০ mmol/L। ওই ব্যক্তির দেহে মোট ৫.০ L রক্ত বিদ্যমান থাকলে, তাঁর সমগ্র রক্তে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে মোট কত মিলিমোল (mmol) অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রবাহিত হচ্ছে? (এখানে অতিরিক্ত গ্লুকোজের পরিমাণ = (পরিমাপকৃত ঘনমাত্রা − স্বাভাবিক ঘনমাত্রা) × মোট রক্তের আয়তন)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ১৫ mmol

    1. রক্তে গ্লুকোজের অতিরিক্ত ঘনমাত্রা = পরিমাপকৃত ঘনমাত্রা − স্বাভাবিক সর্বোচ্চ ঘনমাত্রা = ৯.০ mmol/L − ৬.০ mmol/L = ৩.০ mmol/L।
    ΔC=9.0 mmol/L−6.0 mmol/L=3.0 mmol/L\Delta C = 9.0\text{ mmol/L} - 6.0\text{ mmol/L} = 3.0\text{ mmol/L}
    1. সমগ্র রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের মোট পরিমাণ = অতিরিক্ত ঘনমাত্রা × মোট রক্তের আয়তন = ৩.০ mmol/L × ৫.০ L = ১৫ mmol।
    nexcess=3.0 mmol/L×5.0 L=15 mmoln_{\text{excess}} = 3.0\text{ mmol/L} \times 5.0\text{ L} = 15\text{ mmol}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো