পড়ার নোট
দেহের প্রয়োজনের তুলনায় কোনো হরমোন কম বা বেশি নিঃসৃত হওয়ার ফলে যে শারীরিক গোলযোগ দেখা দেয়, তাকে হরমোনজনিত অস্বাভাবিকতা বলে। হরমোন অল্প পরিমাণে কাজ করলেও বৃদ্ধি, বিপাক এবং অঙ্গের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পরিমাণের পরিবর্তনে একাধিক অঙ্গের কাজে প্রভাব পড়তে পারে। বেশি হরমোন মানেই বেশি উপকার নয়।
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষতি, কাজের গোলযোগ বা টিউমার হরমোনের ক্ষরণ বদলে দিতে পারে। বংশগতি, পুষ্টির ঘাটতি, অসুস্থতা ও পরিবেশের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, খাবারে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে বাধা আসে। আবার পারিবারিক প্রবণতা, স্থূলতা ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।
প্রধান কয়েকটি অস্বাভাবিকতা তুলনা করলে বিষয়টি বোঝা সহজ হয়।
| হরমোন ও উৎস | স্বাভাবিক কাজ | অস্বাভাবিকতার ফল |
|---|---|---|
| থাইরক্সিন, থাইরয়েড | বৃদ্ধি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ | ঘাটতিতে মানসিক বিকাশে বাধা, রুক্ষ ত্বক ও গোলাকার মুখ; আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড |
| ইনসুলিন, অগ্ন্যাশয় | রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ | ঘাটতিতে রক্তের গ্লুকোজ বেড়ে ডায়াবেটিস |
থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিতে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে; ত্বক রুক্ষ এবং মুখ গোলাকার হতে পারে। আয়োডিনের ঘাটতিতে থাইরয়েড বড় হয়ে গলগণ্ড দেখা দিতে পারে। ইনসুলিনের ঘাটতিতে ঘন ঘন প্রস্রাব, বেশি তৃষ্ণা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
ধরো, বাংলাদেশের একটি পরিবারের শিশু সমবয়সীদের তুলনায় খুব ধীরে বাড়ছে। পরিবার তাকে নিজের সিদ্ধান্তে হরমোন না দিয়ে চিকিৎসকের কাছে নেবে। বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস ও প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার ভিত্তিতে কারণ নির্ণয় করা হয়। কারণ অনুযায়ী খাদ্য পরিবর্তন, ঔষধ বা হরমোন দেওয়া হতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো একই লক্ষণ দেখলেই একই হরমোনের রোগ ধরে নেওয়া। ক্লান্তি বা ওজনের পরিবর্তনের একাধিক কারণ থাকতে পারে; চিকিৎসা নির্ভর করে নির্দিষ্ট কারণের উপর।
মনে রাখো: হরমোনের সঠিক পরিমাণ দরকার; ঘাটতি ও অতিরিক্ততা উভয়ই স্বাভাবিক শারীরিক কাজ ব্যাহত করতে পারে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।