পড়ার নোট
গলার সামনে শ্বাসনালির উপরের অংশে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। থাইরক্সিন দেহের বৃদ্ধি ও বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ করে। বিপাক হলো কোষে সংঘটিত বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি। থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণ দৈহিক বৃদ্ধি এবং শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরক্সিন তৈরিতে আয়োডিন প্রয়োজন। খাদ্যে আয়োডিন কম থাকলে যথেষ্ট হরমোন তৈরি হয় না। এ অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলার সামনে ফোলা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েডের এই বৃদ্ধিকে গলগণ্ড বলে। ফোলা খুব বড় হলে গিলতে বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। তবে গলার সব ফোলা গলগণ্ড নয়।
সমুদ্রের পানিতে আয়োডিন থাকে বলে সামুদ্রিক মাছ মানুষের আয়োডিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সমুদ্র থেকে দূরের অঞ্চলে খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি বেশি হতে পারে। হিমালয়ের পাদদেশ, নেপাল এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে গলগণ্ডের প্রকোপের সঙ্গে এই ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে। শুধু পানির বৈশিষ্ট্য দেখে কারও ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না; সম্পূর্ণ খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করতে হয়।
, চুল পড়া ও ত্বক রুক্ষ হওয়া দেখা যেতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত এবং মুখ গোলাকার হতে পারে।; কিছু ক্ষেত্রে চোখ সামনের দিকে উঁচু দেখায়।
বাংলাদেশের একটি পরিবার রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে খাদ্যে আয়োডিন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। সুষম খাদ্যের সঙ্গে সামুদ্রিক মাছও উপকারী। কলা, অন্যান্য ফল, কচু ও শাকসবজি খাদ্যের বৈচিত্র্য বজায় রাখে; এগুলোকে আয়োডিনযুক্ত লবণের নিশ্চিত বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।
লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে হরমোনের অবস্থা জানা যায়। কারণ অনুযায়ী ঔষধ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো সব থাইরয়েড সমস্যাকে আয়োডিনের অভাব ভাবা। গ্রন্থির ক্ষতি ও বংশগত প্রভাবও থাকতে পারে; আয়োডিনযুক্ত লবণ সব ধরনের থাইরয়েড রোগ সারায় না।
মনে রাখো: আয়োডিন থাইরক্সিন তৈরির জন্য দরকার; আয়োডিনের ঘাটতিজনিত গলগণ্ড প্রতিরোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।