পড়ার নোট
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শর্করার বিপাক এবং রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে। খাবার হজমের পর গ্লুকোজ রক্তে আসে। ইনসুলিন বিভিন্ন কোষে গ্লুকোজ গ্রহণ, ব্যবহার ও সঞ্চয়ে সাহায্য করে; ফলে রক্তে গ্লুকোজ অতিরিক্ত জমে থাকে না।
ইনসুলিন যথেষ্ট তৈরি না হলে অথবা দেহ তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে না পারলে রক্তের গ্লুকোজ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বা বহুমূত্র বলে। গ্লুকোজ বেশি হলে প্রস্রাবের সঙ্গেও বের হতে পারে। রক্তে গ্লুকোজ থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হওয়ায় রোগী দুর্বল বোধ করতে পারে।
- টাইপ–১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন উৎপাদন থাকে না বা অত্যন্ত কম হয়। রোগীকে নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। এটি শৈশবেও দেখা দিতে পারে।
- টাইপ–২ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন তৈরি হলেও তার কার্যকারিতা বা পরিমাণ যথেষ্ট হয় না। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধ দরকার হয়। পরে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হলে অথবা অন্য কারণে মুখে খাওয়ার ঔষধ ব্যবহার করা না গেলে ইনসুলিন লাগতে পারে।
লক্ষণ হলো ঘন ঘন প্রস্রাব, বেশি তৃষ্ণা ও ক্ষুধা, পর্যাপ্ত খেয়েও ওজন কমা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, চোখে কম দেখা, ত্বক রুক্ষ হওয়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি। রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজ পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।
বংশগতি, অতিরিক্ত ওজন এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব ঝুঁকি বাড়ায়। সব বয়সে রোগটি হতে পারে; এটি ছোঁয়াচে নয়। ধরো, একজন দোকানদার দিনের অধিকাংশ সময় বসে থাকেন এবং তাঁর পরিবারে ডায়াবেটিস আছে। নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভাত রান্নার পাত্র নিজে ডায়াবেটিসের কারণ নয়।
নিয়ন্ত্রণে তিনটি ‘D’ মানতে হয়:
- শৃঙ্খলা: নিয়মিত জীবন, ব্যায়াম, পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন।
- খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: সময়মতো পরিমিত সুষম খাবার এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো মিষ্টি ও চর্বিজাতীয় খাবার সীমিত রাখা।
- ঔষধ সেবন: চিকিৎসকের নির্দেশে ঔষধ বা ইনসুলিন নিয়মিত নেওয়া।
সাধারণ ভুল হলো শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই রোগ সেরে যায় ভাবা। চিকিৎসায় রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে; ঔষধের পরিমাণ নিজে বদলালে গ্লুকোজ বিপজ্জনকভাবে কমতে বা বাড়তে পারে।
মনে রাখো: ইনসুলিন গ্লুকোজের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে; ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ একসঙ্গে দরকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।