offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ১৪

বহুমূত্র (Diabetes) - ইনসুলিনের কার্যকারিতা

পড়ার নোট

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামের কোষগুচ্ছ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন শর্করার বিপাক এবং রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে। খাবার হজমের পর গ্লুকোজ রক্তে আসে। ইনসুলিন বিভিন্ন কোষে গ্লুকোজ গ্রহণ, ব্যবহার ও সঞ্চয়ে সাহায্য করে; ফলে রক্তে গ্লুকোজ অতিরিক্ত জমে থাকে না।

ইনসুলিন যথেষ্ট তৈরি না হলে অথবা দেহ তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে না পারলে রক্তের গ্লুকোজ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বা বহুমূত্র বলে। গ্লুকোজ বেশি হলে প্রস্রাবের সঙ্গেও বের হতে পারে। রক্তে গ্লুকোজ থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হওয়ায় রোগী দুর্বল বোধ করতে পারে।

  • টাইপ–১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন উৎপাদন থাকে না বা অত্যন্ত কম হয়। রোগীকে নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। এটি শৈশবেও দেখা দিতে পারে।
  • টাইপ–২ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন তৈরি হলেও তার কার্যকারিতা বা পরিমাণ যথেষ্ট হয় না। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধ দরকার হয়। পরে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হলে অথবা অন্য কারণে মুখে খাওয়ার ঔষধ ব্যবহার করা না গেলে ইনসুলিন লাগতে পারে।

লক্ষণ হলো ঘন ঘন প্রস্রাব, বেশি তৃষ্ণা ও ক্ষুধা, পর্যাপ্ত খেয়েও ওজন কমা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, চোখে কম দেখা, ত্বক রুক্ষ হওয়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি। রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজ পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

বংশগতি, অতিরিক্ত ওজন এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব ঝুঁকি বাড়ায়। সব বয়সে রোগটি হতে পারে; এটি ছোঁয়াচে নয়। ধরো, একজন দোকানদার দিনের অধিকাংশ সময় বসে থাকেন এবং তাঁর পরিবারে ডায়াবেটিস আছে। নিয়মিত হাঁটা, পরিমিত খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভাত রান্নার পাত্র নিজে ডায়াবেটিসের কারণ নয়।

নিয়ন্ত্রণে তিনটি ‘D’ মানতে হয়:

  • শৃঙ্খলা: নিয়মিত জীবন, ব্যায়াম, পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন।
  • খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: সময়মতো পরিমিত সুষম খাবার এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো মিষ্টি ও চর্বিজাতীয় খাবার সীমিত রাখা।
  • ঔষধ সেবন: চিকিৎসকের নির্দেশে ঔষধ বা ইনসুলিন নিয়মিত নেওয়া।

সাধারণ ভুল হলো শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই রোগ সেরে যায় ভাবা। চিকিৎসায় রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে; ঔষধের পরিমাণ নিজে বদলালে গ্লুকোজ বিপজ্জনকভাবে কমতে বা বাড়তে পারে।

মনে রাখো: ইনসুলিন গ্লুকোজের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে; ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ একসঙ্গে দরকার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দুপুরের খাবার গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) থেকে কোন হরমোন ক্ষরিত হয়ে রক্ত থেকে যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লুকোজ প্রবেশ এবং গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক করে?

    1. ক

      ইনসুলিন (Insulin)

    2. খ

      গ্লুকাগন (Glucagon)

    3. গ

      থাইরক্সিন (Thyroxin)

    4. ঘ

      অ্যাড্রেনালিন (Adrenalin)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ইনসুলিন (Insulin)

    1. অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা (β) কোষ থেকে ইনসুলিন (Insulin) হরমোন ক্ষরিত হয়। খাবার পর রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে ইনসুলিন কোষপর্দায় গ্লুকোজ পরিবহন বাড়ায় এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃৎ ও পেশিতে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।
    2. বিপরীতভাবে, রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে আলফা (α) কোষ থেকে গ্লুকাগন ক্ষরিত হয়ে গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে; থাইরক্সিন দেহের সামগ্রিক বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে; এবং অ্যাড্রেনালিন জরুরি পরিস্থিতিতে দেহকে প্রস্তুত করে।
  2. চট্টগ্রামের একটি ডায়াবেটিস হাসপাতালে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হলো। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজের ঘনমাত্রা পাওয়া গেল ৯.০ mmol/L। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুসারে খালি পেটে একজন সুস্থ মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রা হলো ৬.০ mmol/L। ওই ব্যক্তির দেহে মোট ৫.০ L রক্ত বিদ্যমান থাকলে, তাঁর সমগ্র রক্তে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে মোট কত মিলিমোল (mmol) অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রবাহিত হচ্ছে? (এখানে অতিরিক্ত গ্লুকোজের পরিমাণ = (পরিমাপকৃত ঘনমাত্রা − স্বাভাবিক ঘনমাত্রা) × মোট রক্তের আয়তন)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ১৫ mmol

    1. রক্তে গ্লুকোজের অতিরিক্ত ঘনমাত্রা = পরিমাপকৃত ঘনমাত্রা − স্বাভাবিক সর্বোচ্চ ঘনমাত্রা = ৯.০ mmol/L − ৬.০ mmol/L = ৩.০ mmol/L।
    ΔC=9.0 mmol/L−6.0 mmol/L=3.0 mmol/L\Delta C = 9.0\text{ mmol/L} - 6.0\text{ mmol/L} = 3.0\text{ mmol/L}
    1. সমগ্র রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের মোট পরিমাণ = অতিরিক্ত ঘনমাত্রা × মোট রক্তের আয়তন = ৩.০ mmol/L × ৫.০ L = ১৫ mmol।
    nexcess=3.0 mmol/L×5.0 L=15 mmoln_{\text{excess}} = 3.0\text{ mmol/L} \times 5.0\text{ L} = 15\text{ mmol}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো