offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ১৫

স্ট্রোক

পড়ার নোট

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাতের ফলে স্নায়ুতন্ত্রের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়াকে স্ট্রোক বলে। মস্তিষ্কের কোষ রক্ত থেকে অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়। সরবরাহ ব্যাহত হলে কোষ স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত হতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক যে অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অঙ্গেও সমস্যা দেখা দেয়।

স্ট্রোক প্রধানত দুইভাবে ঘটে। ইসকেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। হেমোরেজিক স্ট্রোকে রক্তনালি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। উচ্চ রক্তচাপ রক্তক্ষরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। উভয় অবস্থাতেই স্বাভাবিক রক্ত সরবরাহ ও স্নায়ুকোষের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়ানো, হাত-পা অবশ হওয়া বা সংজ্ঞা হারানো দেখা দিতে পারে। কখনো ঘাড় শক্ত, পেশি শিথিল এবং শ্বাসন ও নাড়ির স্পন্দন ধীর হয়। আবার তীব্র লক্ষণ ছাড়াও সামান্য মুখ বেঁকে যাওয়া বা অল্প সময় অজ্ঞান থাকার ঘটনা ঘটতে পারে।

ধরো, বাড়িতে ভাত খাওয়ার সময় বাবার হঠাৎ কথা জড়িয়ে গেল এবং এক হাত নাড়াতে অসুবিধা হলো। পরিবারের উচিত দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা, লক্ষণ শুরুর সময় মনে রাখা এবং শ্বাস চলছে কি না দেখা। রোগীকে নিরাপদে শুইয়ে রাখতে হবে; মুখে খাবার, পানি বা নিজের সিদ্ধান্তে ঔষধ দেওয়া যাবে না।

হাসপাতালে রক্ত জমাট নাকি রক্তক্ষরণ হয়েছে তা নির্ণয় করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগের তীব্রতা বোঝার জন্য পর্যবেক্ষণও প্রয়োজন। জ্ঞান ফিরে এলেই সব ক্ষতি সেরে গেছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বাক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে কথা জড়াতে পারে; পক্ষাঘাত, স্মৃতির সমস্যা বা হাতের সূক্ষ্ম কাজের অসুবিধা থেকে যেতে পারে।

সাময়িকভাবে অকার্যকর স্নায়ু সুস্থ হলে দ্রুত উন্নতি হয়, কিন্তু সম্পূর্ণ নষ্ট স্নায়ুর কাজ স্থায়ীভাবে হারাতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা এবং পরবর্তী পরিচর্যা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং দুশ্চিন্তা কমানো ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সাধারণ ভুল হলো স্ট্রোককে হৃৎপিণ্ডের রোগ বলা। স্ট্রোকের ক্ষতির প্রধান স্থান মস্তিষ্ক, যদিও তার প্রভাব শরীরের অন্য অংশে প্রকাশ পায়।

মনে রাখো: স্ট্রোক মস্তিষ্কের জরুরি অবস্থা; লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ৬০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তির হঠাৎ শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে গেল, মুখ বাঁকা হয়ে গেল এবং কথা অস্পষ্ট হয়ে এলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানালেন যে রোগীর মস্তিষ্কের একটি ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে স্নায়ুকোষে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে এই রোগটির নাম কী?

    1. ক

      স্ট্রোক (Stroke)

    2. খ

      হার্ট অ্যাটাক (Heart attack)

    3. গ

      মৃগীরোগ (Epilepsy)

    4. ঘ

      পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) স্ট্রোক (Stroke)

    1. মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে বা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়; চিকিৎসাবিজ্ঞানে মস্তিষ্কের এই অবস্থাকে স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।
    2. পাঠ্যপুস্তকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ, হৃৎপিণ্ডের নয়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে হৃৎপেশির রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে। মৃগীরোগ হলো মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গের কারণে সৃষ্ট খিঁচুনি এবং পারকিনসন হলো ডোপামিন ক্ষয়জনিত দীর্ঘমেয়াদি কাঁপুনি রোগ।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো