পড়ার নোট
স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে স্নায়ুতন্ত্রের কাজে ব্যাঘাত ঘটা। এর কারণ ও লক্ষণের সম্পর্ক বুঝতে মনে রাখতে হবে, মস্তিষ্ক দেহের চলাফেরা ও কথা বলাসহ বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মস্তিষ্কের ক্ষতি হলে এসব কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ প্রকাশ পায়।
কীভাবে স্ট্রোক হয়
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ প্রধানত দুইভাবে ব্যাহত হতে পারে:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ: রক্তনালি থেকে রক্ত বেরিয়ে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে।
- রক্ত জমাট বাঁধা: মস্তিষ্কের রক্তনালির ভিতরে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলের পথ আটকে দিতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট অংশে স্বাভাবিক রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
ঘটনাক্রমটি হলো: রক্তক্ষরণ বা জমাটের কারণে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে; এরপর মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ফলে সেই অংশের নিয়ন্ত্রিত শারীরিক কাজে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, বাক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে কথা জড়িয়ে যেতে পারে, আর চলাফেরা নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অঙ্গ অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়
সম্ভাব্য লক্ষণগুলো হলো:
- প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমি।
- কয়েক মিনিটের মধ্যে সংজ্ঞা হারানো।
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
- মাংসপেশি শিথিল হয়ে যাওয়া।
- শ্বাসের হার ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া।
- মুখমণ্ডল লাল হয়ে যাওয়া।
- মুখ বেঁকে যাওয়া এবং অঙ্গ অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া।
- বাক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে কথা জড়িয়ে যাওয়া।
সব রোগীর সব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায় না। কখনো তীব্র উপসর্গ ছাড়াই শুধু মুখ বেঁকে যায়, অথবা রোগী অল্প সময় অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফিরে পান। এমন অবস্থাকেও হালকা ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। যেমন, পরিবারের কারও হঠাৎ মুখ বেঁকে গেলে এবং কথা জড়িয়ে গেলে তা স্ট্রোকের সম্ভাব্য লক্ষণ। রোগের তীব্রতা নির্ধারণে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
মনে রাখো: হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়ানো বা সংজ্ঞা হারানো স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে—দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা দরকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।