পড়ার নোট
স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের ব্যাঘাতে স্নায়ুকোষের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তাৎক্ষণিক করণীয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রোগীকে নিরাপদ রাখা এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। ঘরে বসে রক্ত জমাট ও রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক আলাদা করা যায় না; সঠিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।
হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়ানো, হাত-পা অবশ হওয়া, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি বা সংজ্ঞা হারানোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সব লক্ষণ একসঙ্গে থাকা জরুরি নয়। অল্প সময় অজ্ঞান থাকার পরে জ্ঞান ফিরলেও বিপদ কেটে গেছে ধরে নেওয়া যাবে না।
তাৎক্ষণিক কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে করা যায়:
- সাহায্য ডাকো এবং অ্যাম্বুলেন্স বা দ্রুত নিরাপদ পরিবহণের মাধ্যমে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করো। লক্ষণ কমে কি না দেখার জন্য অপেক্ষা কোরো না।
- কখন লক্ষণ শুরু হয়েছে তা মনে রাখো বা লিখে রাখো। রোগীর পরিচিত অসুখ ও চলমান ঔষধের তথ্য চিকিৎসককে জানাও।
- রোগীকে আরামদায়কভাবে শুইয়ে মাথা ও কাঁধ সামান্য উঁচুতে রাখো। গলার আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে শ্বাস নিতে বাধা আছে কি না দেখো।
- অচেতন কিন্তু স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া রোগীকে কাত করে রাখো, যাতে বমি হলে তা বের হতে পারে।
- খাবার, পানি বা নিজের সিদ্ধান্তে ঔষধ মুখে দিও না। গিলতে সমস্যা থাকলে এগুলো শ্বাসনালিতে ঢুকতে পারে।
- শ্বাস পর্যবেক্ষণ করো। স্বাভাবিক শ্বাস না থাকলে জরুরি সহায়তা চাও; প্রশিক্ষণ থাকলে পুনরুজ্জীবনের ব্যবস্থা নাও।
ধরো, বাজার থেকে ফিরে দাদার মুখ হঠাৎ বেঁকে গেল। একজন পরিবারের সদস্য পরিবহণের ব্যবস্থা করতে পারেন, আরেকজন তাঁর পাশে থেকে শ্বাস দেখবেন ও লক্ষণ শুরুর সময় লিখবেন। এইভাবে কাজ ভাগ করলে অপ্রয়োজনীয় দেরি কমে।
দ্রুত চিকিৎসায় কিছু স্নায়ুকোষের ক্ষতি সীমিত করা এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো যায়। নির্দিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব কি না তা স্ট্রোকের ধরন, সময় ও রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
সাধারণ ভুল হলো রোগী জ্ঞান ফিরে পেলে হাসপাতালে যাওয়া বাতিল করা। স্ট্রোকের তীব্রতা বোঝার জন্য হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ দরকার হতে পারে। জ্ঞান ফিরলেও কথা বলা বা অঙ্গ নাড়ানোর সমস্যা থেকে যেতে পারে।
মনে রাখো: স্ট্রোকের সন্দেহ হলেই নিরাপদে দ্রুত হাসপাতালে নাও; লক্ষণ কমার অপেক্ষায় সময় নষ্ট কোরো না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।