পড়ার নোট
স্ট্রোক প্রতিরোধ বলতে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা বোঝায়। সব স্ট্রোক নিশ্চিতভাবে ঠেকানো যায় না, তবে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং বিদ্যমান রোগের চিকিৎসা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। রোগ হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ। উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত ঔষধ গ্রহণ করা দরকার। ঔষধ খেয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক হলে নিজে থেকে তা বন্ধ করা ঠিক নয়; স্বাভাবিক থাকা চিকিৎসার ফলও হতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। দীর্ঘদিন গ্লুকোজ বেশি থাকলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিয়মিত ঔষধ, পরিমিত খাবার, ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এখানে একসঙ্গে কাজ করে। হৃদ্রোগ বা রক্তনালির সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
ধূমপান বর্জন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তামাক রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্তচাপের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সিগারেট, অন্যান্য তামাক ও মাদক এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়াতে পারে, তাই তা এড়ানো দরকার।
খাবারে শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত শস্য রাখো; অতিরিক্ত লবণ, চর্বি ও মিষ্টি সীমিত করো। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য হয়। কোনো বিশেষ গুড় বা রান্নার যন্ত্র স্ট্রোক প্রতিরোধ করে না; খাবারের ধরন ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের সামর্থ্য ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করা যায়। দৈনিক প্রায় ত্রিশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস উপকারী হতে পারে। ধরো, একজন অফিসকর্মী নিরাপদ পথের কিছুটা হেঁটে যান এবং দুপুরের খাবারে বাড়তি লবণ না নিয়ে শাকসবজি রাখেন। ছোট পরিবর্তনগুলো নিয়মিত করলে স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।
দুশ্চিন্তা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনও দরকার। বিশ্রাম, প্রার্থনা বা শান্তভাবে সময় কাটানো মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশমতো রক্তচাপ, গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত।
সাধারণ ভুল হলো শুধু ব্যায়াম করলেই ঔষধের দরকার নেই ভাবা। সুস্থ অভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরস্পরের পরিপূরক।
মনে রাখো: রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন এবং নিয়মিত সুস্থ জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।