offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ১৯

স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা

পড়ার নোট

স্নায়ুতন্ত্রের কোনো অংশের কাজ ব্যাহত হলে অনুভূতি, চলন এবং অঙ্গগুলোর সমন্বয়ে যে সমস্যা দেখা দেয়, তাকে স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা বলা হয়। মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড ও স্নায়ু দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংকেত বহন ও নিয়ন্ত্রণ করে। এই ব্যবস্থার ক্ষতি হলে পেশি অক্ষত থাকলেও যথাযথ নির্দেশ না পাওয়ায় স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না।

কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, মাথা বা মেরুদণ্ডে আঘাত, সংক্রমণ, জন্মগত বা বংশগত ত্রুটি এবং কিছু স্নায়ুকোষের ক্রমশ ক্ষয়। দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিসও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। তবে সব স্নায়ুবিক রোগের কারণ এক নয়; কোনো কোনো রোগের সঠিক কারণ সম্পূর্ণ জানা যায় না।

এই সমস্যাগুলোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো:

  • প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত: দেহের কোনো অংশের অনুভূতি ও ঐচ্ছিক পেশির চলন হারিয়ে যাওয়া। স্ট্রোক বা সুষুম্নাকাণ্ডের ক্ষতির পরে এটি হতে পারে।
  • এপিলেপসি বা মৃগীরোগ: বারবার খিঁচুনি হওয়ার একটি মস্তিষ্কের রোগ; অনেক ক্ষেত্রে রোগী সংজ্ঞা হারায় এবং সাময়িকভাবে কাজ করতে পারে না।
  • পারকিনসন রোগ: ডোপামিন উৎপাদনকারী স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়ায় কাঁপুনি, পেশির দৃঢ়তা ও চলাফেরায় অসুবিধা হওয়ার রোগ।

লক্ষণ রোগ ও ক্ষতির স্থান অনুযায়ী বদলায়। পেশির দুর্বলতা, ব্যথা, স্পর্শ বা তাপ অনুভবের ঘাটতি, ভারসাম্য হারানো, কথা বলা বা গিলতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতির সমস্যা থাকে। অনুভূতি কমে গেলে গরম জিনিসে আঘাত পেলেও তা দ্রুত বোঝা কঠিন হতে পারে।

ধরো, গ্রামের পুকুরপাড়ে কারও খিঁচুনি শুরু হলো। খিঁচুনির সঙ্গে পানির সরাসরি সম্পর্ক নেই, কিন্তু রোগী পানিতে পড়লে নিজে উঠতে না পেরে ডুবে যেতে পারেন। তাই পুকুর, আগুন ও বিপজ্জনক স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি। এটি রোগের কারণ এবং রোগের ফলে তৈরি বিপদকে আলাদা করে বোঝায়।

সমস্যা সাময়িক বা স্থায়ী হতে পারে। কারণ ও অবস্থাভেদে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা, ঔষধ, ফিজিওথেরাপি, প্রশিক্ষণ অথবা কখনো অস্ত্রোপচার লাগে। দৈনন্দিন কাজে সহায়তা ও মানসিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চলাফেরার সীমাবদ্ধতা রোগীর মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো সব কাঁপুনি, খিঁচুনি ও অবশতাকে একই রোগ ভাবা। লক্ষণের মিল থাকলেও রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আলাদা হতে পারে।

মনে রাখো: স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি অনুভূতি, চলন ও সমন্বয় ব্যাহত করে; কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা দরকার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. পারকিনসন (Parkinson's disease) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পায়ে অনৈচ্ছিক কাঁপুনি সৃষ্টি হয় এবং চলাফেরা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে কেন? মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তনের আলোকে কারণ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মস্তিষ্কের যে স্নায়ুকোষগুলো পেশির চলন ও শারীরিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো ডোপামিন (dopamine) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের এই ডোপামিন উৎপাদনকারী স্নায়ুকোষগুলো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক থেকে সংকেত বা উদ্দীপনা পেশিতে যথাযথভাবে পৌঁছাতে পারে না, যার কারণে পেশি স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রোগীর হাত-পায়ে অনৈচ্ছিক কাঁপুনি (tremor), পেশির আড়ষ্টতা ও হাঁটাচলায় তীব্র সমস্যা দেখা দেয়।

    1. ডোপামিন (dopamine) হলো মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার যা স্নায়ুকোষ থেকে কঙ্কালপেশিতে চলন সমন্বয়ের নির্দেশ পাঠাতে অপরিহার্য।
    2. পারকিনসন রোগে ডোপামিন ক্ষরণকারী স্নায়ুকোষগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে ডোপামিনের ঘাটতি ঘটে এবং পেশিতে উদ্দীপনা প্রবাহ ব্যাহত হয়ে হাত-পায়ের অনৈচ্ছিক কম্পন ও পেশির অসাড়তা সৃষ্টি হয়।
  2. উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—

    i. মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

    ii. হাত-পায়ে অনৈচ্ছিক কম্পন ও পেশির অনমনীয়তা দেখা দেয়

    iii. নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i, ii ও iii

    1. উদ্দীপকের লক্ষণগুলো (হাত-পা কাঁপা, পেশির অনমনীয়তা ও ভারসাম্যের সমস্যা) পারকিনসন রোগকে (Parkinson's disease) নির্দেশ করে, যা ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক বৈকল্যের কারণে হয়।
    2. এ রোগে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে ডোপামিন হরমোন বা নিউরোট্রান্সমিটারের উৎপাদন কমে যায়। রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির সাহায্যে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো