offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ১০

আবেগ সঞ্চালন (Impulse Transmission)

পড়ার নোট

আবেগ সঞ্চালন হলো স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ুবার্তা বা সংকেত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া। এখানে স্নায়ু আবেগ বলতে অনুভূতির উত্তেজনা নয়, উদ্দীপনার ফলে সৃষ্টি হওয়া স্নায়ুসংকেত বোঝায়। এই সংকেতের মাধ্যমে পরিবেশের তথ্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায় এবং সেখানকার নির্দেশ পেশি বা গ্রন্থিতে যায়।

একটি নিউরনের সাধারণ বার্তাপথ হলো: ডেনড্রাইট → কোষদেহ → অ্যাক্সন → অ্যাক্সনের প্রান্ত। নিউরন বরাবর সংকেত বৈদ্যুতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে চলে। এক নিউরন থেকে পরের নিউরনে যাওয়ার সময় সিন্যাপস অতিক্রম করতে হয়। অ্যাক্সনের প্রান্ত থেকে নিঃসৃত নিউরোট্রান্সমিটার পরবর্তী নিউরনে নতুন সংকেত সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এভাবে পরিবহণে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক উভয় প্রক্রিয়া যুক্ত থাকে।

মায়েলিন আবরণ বার্তা দ্রুত চলতে সাহায্য করে। স্নায়ু আবেগের বেগ নিউরনের প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী বদলায়; প্রায় ১০০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হতে পারে। তাই এই মানকে সব নিউরনের অপরিবর্তনীয় বেগ ধরা ঠিক নয়।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পড়ে শোনাচ্ছেন এবং তুমি লিখছ—এই ঘটনায় আবেগ সঞ্চালনের ধাপগুলো হলো:

  1. বই থেকে প্রতিফলিত আলো শিক্ষকের চোখের রেটিনাকে উদ্দীপিত করে।
  2. স্নায়ুবার্তা মস্তিষ্কের দর্শনকেন্দ্রে পৌঁছায়; চিন্তা ও স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে লেখা বোঝা হয়।
  3. মুখের ঐচ্ছিক পেশিতে নির্দেশ পৌঁছালে শিক্ষক কথা বলেন।
  4. সেই শব্দ তোমার কানে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে; বার্তা মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে পৌঁছায়।
  5. মস্তিষ্ক থেকে মোটর স্নায়ুর মাধ্যমে হাতের পেশিতে নির্দেশ গেলে তুমি লেখো।

বার্তা পেশিতে পৌঁছালে পেশি সংকুচিত হয়; গ্রন্থিতে পৌঁছালে নিঃসরণ ঘটতে পারে। ফলে একই ধরনের স্নায়ুবার্তা ভিন্ন কার্যকরী অঙ্গে ভিন্ন সাড়া সৃষ্টি করে।

একটি হিসাবের উদাহরণ: ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট পথে বার্তাকে ০.৮ মিটার যেতে হবে এবং বেগ ১০০ মিটার প্রতি সেকেন্ড। সময়ের সূত্র t=d/vt=d/v; এখানে tt সময়, SI একক সেকেন্ড; dd দূরত্ব, SI একক মিটার; vv বেগ, SI একক মিটার প্রতি সেকেন্ড। মান বসালে t=0.8/100=0.008 st=0.8/100=0.008\,\mathrm{s}। এটি শুধু ঐ পথে চলার সময়, সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়ার সময় নয়।

সাধারণ ভুল হলো শব্দ বা আলো নিজেরাই স্নায়ুর ভেতর দিয়ে মস্তিষ্কে যায় মনে করা। গ্রাহকে উদ্দীপনা থেকে তৈরি স্নায়ুবার্তাই স্নায়ুতে চলে।

মনে রাখো: নিউরন বরাবর বৈদ্যুতিক সংকেত এবং সিন্যাপসে রাসায়নিক বার্তাবাহক আবেগ সঞ্চালন ঘটায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • প্রতিবর্ত চক্র: উত্তপ্ত পাত্রে তাৎক্ষণিক সাড়াচালিয়ে দেখো

    একদিন রান্নাঘরে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়ার হাত চুলার ওপর থাকা উত্তপ্ত কড়াইতে লেগে গেল। কিন্তু তানিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের পলকে তার হাতটি আপনা-আপনি সরে এলো! একটি সরল প্রতিবর্ত চক্রের ৫টি প্রধান অংশ থাকে। তানিয়ার হাত সরানোর এই প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় সময় লাগল মাত্র ৫০ ms (০.০৫ s), অথচ মস্তিষ্কে সচেতনভাবে চিন্তা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে মানুষের সময় লাগে প্রায় ২৫০ ms। এই অতি দ্রুত প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় উত্তপ্ত কড়াই থেকে হাত সরানোর তাৎক্ষণিক নির্দেশটি আসলে কে দিয়েছিল?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রান্নাঘরে কাজ করার সময় তানিয়ার হাত হঠাৎ চুলার একটি উত্তপ্ত পাত্রে লাগামাত্র সে সচেতনভাবে চিন্তা করার আগেই অত্যন্ত দ্রুত হাতটি টেনে নিল। এই প্রতিবর্ত চক্রে (reflex arc) স্নায়ু উদ্দীপনা সঞ্চালনের সঠিক ধারাবাহিক গতিপথ কোনটি?

    1. ক

      গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → অনুভূতিবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড (রিলে নিউরন) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    2. খ

      গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড → অনুভূতিবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    3. গ

      গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → অনুভূতিবাহী নিউরন → গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    4. ঘ

      কারক অঙ্গ (পেশি) → অনুভূতিবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড → আজ্ঞাবাহী নিউরন → গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → অনুভূতিবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড (রিলে নিউরন) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    1. প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি অনৈচ্ছিক ও তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষামূলক সাড়া। একটি আদর্শ প্রতিবর্ত চক্রের পাঁচটি অংশ ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকে: গ্রাহক অঙ্গ, অনুভূতিবাহী (সংজ্ঞাবহ) নিউরন, প্রতিবর্ত কেন্দ্র (সুষুম্নাকাণ্ডের রিলে নিউরন), আজ্ঞাবাহী (চালক) নিউরন এবং কারক অঙ্গ (পেশি)।
    2. হাতের ত্বকের গ্রাহক অঙ্গ তাপ অনুভব করার পর সংজ্ঞাবহ নিউরনের মাধ্যমে তাড়না সুষুম্নাকাণ্ডে পাঠায়। সুষুম্নাকাণ্ডের রিলে নিউরন তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশটি চালক নিউরনে পাঠায় এবং চালক নিউরন হাত সরানোর পেশিকে (কারক অঙ্গ) সংকুচিত করে। মস্তিষ্ক এ ঘটনার তথ্য পরে পেলেও তাৎক্ষণিক হাত সরানোর সিদ্ধান্তটি মস্তিষ্ক দেয় না।
  2. রাজশাহীর একটি আমবাগানে কাজ করার সময় এক কিশোরের আঙুলে অসাবধানতাবশত একটি ধারালো কাঁটা বিঁধল। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে মানব স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ু তাড়না বা আবেগের (nerve impulse) প্রবাহের বেগ প্রায় ১০০ m/s। আঙুলের গ্রাহক অঙ্গ থেকে সুষুম্নাকাণ্ড পর্যন্ত অনুভূতিবাহী স্নায়ুর দৈর্ঘ্য ০.৭৫ m এবং সুষুম্নাকাণ্ড থেকে হাত সরানোর পেশি পর্যন্ত চালক স্নায়ুর দৈর্ঘ্য ০.৪৫ m হলে, এই প্রতিবর্ত চক্রে (reflex arc) স্নায়ু তন্তু বরাবর মোট ১.২০ m দূরত্ব অতিক্রম করতে স্নায়ু আবেগের কত মিলিসেকেন্ড (ms) সময় লাগবে? (১ s = ১,০০০ ms এবং সময় = দূরত্ব ÷ বেগ)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ১২ ms

    1. প্রতিবর্ত চক্রে স্নায়ু তন্তু বরাবর অতিক্রান্ত মোট দূরত্ব d = ০.৭৫ m + ০.৪৫ m = ১.২০ m এবং স্নায়ু তাড়না প্রবাহের বেগ v = ১০০ m/s।
    d=0.75 m+0.45 m=1.20 m,v=100 m/sd = 0.75\text{ m} + 0.45\text{ m} = 1.20\text{ m}, \quad v = 100\text{ m/s}
    1. স্নায়ু তাড়না পরিবহনে প্রয়োজনীয় সময় t = d ⁄ v = ১.২০ m ⁄ ১০০ m/s = ০.০১২ s।
    t=dv=1.20 m100 m/s=0.012 st = \frac{d}{v} = \frac{1.20\text{ m}}{100\text{ m/s}} = 0.012\text{ s}
    1. যেহেতু ১ s = ১,০০০ ms, তাই প্রয়োজনীয় সময় = ০.০১২ × ১,০০০ ms = ১২ ms।
    t=0.012×1000 ms=12 mst = 0.012 \times 1000\text{ ms} = 12\text{ ms}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো