পড়ার নোট
আবেগ সঞ্চালন হলো স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ুবার্তা বা সংকেত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া। এখানে স্নায়ু আবেগ বলতে অনুভূতির উত্তেজনা নয়, উদ্দীপনার ফলে সৃষ্টি হওয়া স্নায়ুসংকেত বোঝায়। এই সংকেতের মাধ্যমে পরিবেশের তথ্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায় এবং সেখানকার নির্দেশ পেশি বা গ্রন্থিতে যায়।
একটি নিউরনের সাধারণ বার্তাপথ হলো: ডেনড্রাইট → কোষদেহ → অ্যাক্সন → অ্যাক্সনের প্রান্ত। নিউরন বরাবর সংকেত বৈদ্যুতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে চলে। এক নিউরন থেকে পরের নিউরনে যাওয়ার সময় সিন্যাপস অতিক্রম করতে হয়। অ্যাক্সনের প্রান্ত থেকে নিঃসৃত নিউরোট্রান্সমিটার পরবর্তী নিউরনে নতুন সংকেত সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এভাবে পরিবহণে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক উভয় প্রক্রিয়া যুক্ত থাকে।
মায়েলিন আবরণ বার্তা দ্রুত চলতে সাহায্য করে। স্নায়ু আবেগের বেগ নিউরনের প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী বদলায়; প্রায় ১০০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হতে পারে। তাই এই মানকে সব নিউরনের অপরিবর্তনীয় বেগ ধরা ঠিক নয়।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পড়ে শোনাচ্ছেন এবং তুমি লিখছ—এই ঘটনায় আবেগ সঞ্চালনের ধাপগুলো হলো:
- বই থেকে প্রতিফলিত আলো শিক্ষকের চোখের রেটিনাকে উদ্দীপিত করে।
- স্নায়ুবার্তা মস্তিষ্কের দর্শনকেন্দ্রে পৌঁছায়; চিন্তা ও স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে লেখা বোঝা হয়।
- মুখের ঐচ্ছিক পেশিতে নির্দেশ পৌঁছালে শিক্ষক কথা বলেন।
- সেই শব্দ তোমার কানে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে; বার্তা মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে পৌঁছায়।
- মস্তিষ্ক থেকে মোটর স্নায়ুর মাধ্যমে হাতের পেশিতে নির্দেশ গেলে তুমি লেখো।
বার্তা পেশিতে পৌঁছালে পেশি সংকুচিত হয়; গ্রন্থিতে পৌঁছালে নিঃসরণ ঘটতে পারে। ফলে একই ধরনের স্নায়ুবার্তা ভিন্ন কার্যকরী অঙ্গে ভিন্ন সাড়া সৃষ্টি করে।
একটি হিসাবের উদাহরণ: ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট পথে বার্তাকে ০.৮ মিটার যেতে হবে এবং বেগ ১০০ মিটার প্রতি সেকেন্ড। সময়ের সূত্র ; এখানে সময়, SI একক সেকেন্ড; দূরত্ব, SI একক মিটার; বেগ, SI একক মিটার প্রতি সেকেন্ড। মান বসালে । এটি শুধু ঐ পথে চলার সময়, সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়ার সময় নয়।
সাধারণ ভুল হলো শব্দ বা আলো নিজেরাই স্নায়ুর ভেতর দিয়ে মস্তিষ্কে যায় মনে করা। গ্রাহকে উদ্দীপনা থেকে তৈরি স্নায়ুবার্তাই স্নায়ুতে চলে।
মনে রাখো: নিউরন বরাবর বৈদ্যুতিক সংকেত এবং সিন্যাপসে রাসায়নিক বার্তাবাহক আবেগ সঞ্চালন ঘটায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।