offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ৯

প্রতিবর্তী প্রতিক্রিয়া

পড়ার নোট

প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো নির্দিষ্ট উদ্দীপনার ফলে সচেতন চিন্তা বা সিদ্ধান্তের অপেক্ষা ছাড়াই ঘটে যাওয়া দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া। অসাবধানে গরম হাঁড়িতে হাত লাগলে হাত সরিয়ে নেওয়া কিংবা সেলাইয়ের সময় সুচ ফুটলে হাত ঝাঁকিয়ে সরানো এর উদাহরণ। এ ধরনের সাড়া দেহকে ক্ষতিকর উদ্দীপক থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে সাহায্য করে।

হাত সরানোর প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক নির্দেশ সুষুম্না কাণ্ডের মাধ্যমে আসে। প্রথমে মস্তিষ্কে সচেতনভাবে ব্যথা বিশ্লেষণ করে তারপর হাত সরানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে মস্তিষ্ক কখনো ঘটনাটির খবর পায় না। পরে ব্যথা অনুভব করা ও কী ঘটেছে বোঝার সঙ্গে মস্তিষ্ক যুক্ত থাকে।

প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় স্নায়ুবার্তা যে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে, তাকে প্রতিবর্তী চাপ বলে। সুচ ফুটে হাত সরানোর ঘটনায় ধাপগুলো হলো:

  1. আঙুলের ত্বকের গ্রাহক সুচ ফোটার উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং স্নায়ুবার্তা সৃষ্টি হয়।
  2. সংবেদী নিউরন সেই বার্তা আঙুল থেকে সুষুম্না কাণ্ডের ধূসর পদার্থে নিয়ে যায়।
  3. সেখানে সংযোগকারী নিউরন বার্তা মোটর নিউরনে পৌঁছাতে সাহায্য করে। নিউরনগুলোর সিন্যাপসে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংকেত পার হয়।
  4. মোটর নিউরন নির্দেশ হাতের সংশ্লিষ্ট পেশিতে বহন করে।
  5. পেশি কার্যকরী অঙ্গ হিসেবে সংকুচিত হয় এবং হাত উদ্দীপকের উৎস থেকে সরে যায়।

অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত পথটি হলো: গ্রাহক → সংবেদী নিউরন → সংযোগকারী নিউরন → মোটর নিউরন → পেশি। গ্রাহক উদ্দীপনা শনাক্ত করে, কিন্তু হাত সরানোর কাজ করে পেশি। তাই গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন আলাদা অঙ্গের কাজ হলেও তারা একই প্রক্রিয়ার অংশ।

বাংলাদেশের রান্নাঘরে গরম পাতিলের সংস্পর্শে হাত সরানো এই প্রক্রিয়া বোঝার পরিচিত ঘটনা। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে বলে আমরা সাধারণত পৃথক ধাপগুলো অনুভব করি না। তবু স্নায়ুবার্তা একটি নির্দিষ্ট পথেই চলেছে।

সাধারণ ভুল হলো ইচ্ছাকৃত হাঁটা বা কথা বলাকেও প্রতিবর্তী ক্রিয়া মনে করা। প্রতিবর্তী ক্রিয়া আমরা ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না; এটি নির্দিষ্ট উদ্দীপনায় হঠাৎ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে। আবার মস্তিষ্ক পরে ব্যথা টের পায় বলে হাত সরানোকে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত ভাবাও ভুল।

মনে রাখো: হাত সরানোর প্রতিবর্তে সুষুম্না কাণ্ড দ্রুত সাড়া সৃষ্টি করে; সচেতন সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • প্রতিবর্ত চক্র: উত্তপ্ত পাত্রে তাৎক্ষণিক সাড়াচালিয়ে দেখো

    একদিন রান্নাঘরে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়ার হাত চুলার ওপর থাকা উত্তপ্ত কড়াইতে লেগে গেল। কিন্তু তানিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের পলকে তার হাতটি আপনা-আপনি সরে এলো! একটি সরল প্রতিবর্ত চক্রের ৫টি প্রধান অংশ থাকে। তানিয়ার হাত সরানোর এই প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় সময় লাগল মাত্র ৫০ ms (০.০৫ s), অথচ মস্তিষ্কে সচেতনভাবে চিন্তা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে মানুষের সময় লাগে প্রায় ২৫০ ms। এই অতি দ্রুত প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় উত্তপ্ত কড়াই থেকে হাত সরানোর তাৎক্ষণিক নির্দেশটি আসলে কে দিয়েছিল?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রান্নাঘরে কাজ করার সময় তানিয়ার হাত হঠাৎ চুলার একটি উত্তপ্ত পাত্রে লাগামাত্র সে সচেতনভাবে চিন্তা করার আগেই অত্যন্ত দ্রুত হাতটি টেনে নিল। এই প্রতিবর্ত চক্রে (reflex arc) স্নায়ু উদ্দীপনা সঞ্চালনের সঠিক ধারাবাহিক গতিপথ কোনটি?

    1. ক

      গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → অনুভূতিবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড (রিলে নিউরন) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    2. খ

      গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড → অনুভূতিবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    3. গ

      গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → অনুভূতিবাহী নিউরন → গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    4. ঘ

      কারক অঙ্গ (পেশি) → অনুভূতিবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড → আজ্ঞাবাহী নিউরন → গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) গ্রাহক অঙ্গ (ত্বক) → অনুভূতিবাহী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড (রিলে নিউরন) → আজ্ঞাবাহী নিউরন → কারক অঙ্গ (পেশি)

    1. প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি অনৈচ্ছিক ও তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষামূলক সাড়া। একটি আদর্শ প্রতিবর্ত চক্রের পাঁচটি অংশ ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকে: গ্রাহক অঙ্গ, অনুভূতিবাহী (সংজ্ঞাবহ) নিউরন, প্রতিবর্ত কেন্দ্র (সুষুম্নাকাণ্ডের রিলে নিউরন), আজ্ঞাবাহী (চালক) নিউরন এবং কারক অঙ্গ (পেশি)।
    2. হাতের ত্বকের গ্রাহক অঙ্গ তাপ অনুভব করার পর সংজ্ঞাবহ নিউরনের মাধ্যমে তাড়না সুষুম্নাকাণ্ডে পাঠায়। সুষুম্নাকাণ্ডের রিলে নিউরন তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশটি চালক নিউরনে পাঠায় এবং চালক নিউরন হাত সরানোর পেশিকে (কারক অঙ্গ) সংকুচিত করে। মস্তিষ্ক এ ঘটনার তথ্য পরে পেলেও তাৎক্ষণিক হাত সরানোর সিদ্ধান্তটি মস্তিষ্ক দেয় না।
  2. রাজশাহীর একটি আমবাগানে কাজ করার সময় এক কিশোরের আঙুলে অসাবধানতাবশত একটি ধারালো কাঁটা বিঁধল। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে মানব স্নায়ুতন্ত্রে স্নায়ু তাড়না বা আবেগের (nerve impulse) প্রবাহের বেগ প্রায় ১০০ m/s। আঙুলের গ্রাহক অঙ্গ থেকে সুষুম্নাকাণ্ড পর্যন্ত অনুভূতিবাহী স্নায়ুর দৈর্ঘ্য ০.৭৫ m এবং সুষুম্নাকাণ্ড থেকে হাত সরানোর পেশি পর্যন্ত চালক স্নায়ুর দৈর্ঘ্য ০.৪৫ m হলে, এই প্রতিবর্ত চক্রে (reflex arc) স্নায়ু তন্তু বরাবর মোট ১.২০ m দূরত্ব অতিক্রম করতে স্নায়ু আবেগের কত মিলিসেকেন্ড (ms) সময় লাগবে? (১ s = ১,০০০ ms এবং সময় = দূরত্ব ÷ বেগ)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ১২ ms

    1. প্রতিবর্ত চক্রে স্নায়ু তন্তু বরাবর অতিক্রান্ত মোট দূরত্ব d = ০.৭৫ m + ০.৪৫ m = ১.২০ m এবং স্নায়ু তাড়না প্রবাহের বেগ v = ১০০ m/s।
    d=0.75 m+0.45 m=1.20 m,v=100 m/sd = 0.75\text{ m} + 0.45\text{ m} = 1.20\text{ m}, \quad v = 100\text{ m/s}
    1. স্নায়ু তাড়না পরিবহনে প্রয়োজনীয় সময় t = d ⁄ v = ১.২০ m ⁄ ১০০ m/s = ০.০১২ s।
    t=dv=1.20 m100 m/s=0.012 st = \frac{d}{v} = \frac{1.20\text{ m}}{100\text{ m/s}} = 0.012\text{ s}
    1. যেহেতু ১ s = ১,০০০ ms, তাই প্রয়োজনীয় সময় = ০.০১২ × ১,০০০ ms = ১২ ms।
    t=0.012×1000 ms=12 mst = 0.012 \times 1000\text{ ms} = 12\text{ ms}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো