পড়ার নোট
প্রতিবর্তী ক্রিয়া হলো নির্দিষ্ট উদ্দীপনার ফলে সচেতন চিন্তা বা সিদ্ধান্তের অপেক্ষা ছাড়াই ঘটে যাওয়া দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া। অসাবধানে গরম হাঁড়িতে হাত লাগলে হাত সরিয়ে নেওয়া কিংবা সেলাইয়ের সময় সুচ ফুটলে হাত ঝাঁকিয়ে সরানো এর উদাহরণ। এ ধরনের সাড়া দেহকে ক্ষতিকর উদ্দীপক থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে সাহায্য করে।
হাত সরানোর প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক নির্দেশ সুষুম্না কাণ্ডের মাধ্যমে আসে। প্রথমে মস্তিষ্কে সচেতনভাবে ব্যথা বিশ্লেষণ করে তারপর হাত সরানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে মস্তিষ্ক কখনো ঘটনাটির খবর পায় না। পরে ব্যথা অনুভব করা ও কী ঘটেছে বোঝার সঙ্গে মস্তিষ্ক যুক্ত থাকে।
প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় স্নায়ুবার্তা যে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে, তাকে প্রতিবর্তী চাপ বলে। সুচ ফুটে হাত সরানোর ঘটনায় ধাপগুলো হলো:
- আঙুলের ত্বকের গ্রাহক সুচ ফোটার উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং স্নায়ুবার্তা সৃষ্টি হয়।
- সংবেদী নিউরন সেই বার্তা আঙুল থেকে সুষুম্না কাণ্ডের ধূসর পদার্থে নিয়ে যায়।
- সেখানে সংযোগকারী নিউরন বার্তা মোটর নিউরনে পৌঁছাতে সাহায্য করে। নিউরনগুলোর সিন্যাপসে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংকেত পার হয়।
- মোটর নিউরন নির্দেশ হাতের সংশ্লিষ্ট পেশিতে বহন করে।
- পেশি কার্যকরী অঙ্গ হিসেবে সংকুচিত হয় এবং হাত উদ্দীপকের উৎস থেকে সরে যায়।
অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত পথটি হলো: গ্রাহক → সংবেদী নিউরন → সংযোগকারী নিউরন → মোটর নিউরন → পেশি। গ্রাহক উদ্দীপনা শনাক্ত করে, কিন্তু হাত সরানোর কাজ করে পেশি। তাই গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন আলাদা অঙ্গের কাজ হলেও তারা একই প্রক্রিয়ার অংশ।
বাংলাদেশের রান্নাঘরে গরম পাতিলের সংস্পর্শে হাত সরানো এই প্রক্রিয়া বোঝার পরিচিত ঘটনা। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে বলে আমরা সাধারণত পৃথক ধাপগুলো অনুভব করি না। তবু স্নায়ুবার্তা একটি নির্দিষ্ট পথেই চলেছে।
সাধারণ ভুল হলো ইচ্ছাকৃত হাঁটা বা কথা বলাকেও প্রতিবর্তী ক্রিয়া মনে করা। প্রতিবর্তী ক্রিয়া আমরা ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না; এটি নির্দিষ্ট উদ্দীপনায় হঠাৎ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে। আবার মস্তিষ্ক পরে ব্যথা টের পায় বলে হাত সরানোকে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত ভাবাও ভুল।
মনে রাখো: হাত সরানোর প্রতিবর্তে সুষুম্না কাণ্ড দ্রুত সাড়া সৃষ্টি করে; সচেতন সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।