লজ্জাবতী আবার কখন খোলে?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
রমনা পার্কে তুহিন লজ্জাবতীর পাতা ছুঁয়ে দিতেই পাতাগুলো বুজে গেল। সে ভয় পেল, পাতাগুলো বুঝি নষ্ট হয়ে গেল। সূর্যের দিকে চারার ধীরে বাঁকার সঙ্গে এর পার্থক্য কী, আর পাতা কি আবার খুলবে?
ছোঁয়ার পর লজ্জাবতীর পত্রক কবে আবার পুরো খুলবে?
- প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে, কোষগুলো আবার পানি নিয়ে ফুলে উঠলে
- আর কখনো খুলবে না, পাতা ভেঙে গেছে
- কয়েক দিন পরে, নতুন করে বেড়ে উঠলে
- কেবল পরদিন সকালে সূর্য উঠলে
যা বদলাতে পারবে
- কী দেখছ: লজ্জাবতীর পাতা ছোঁয়া, জানালা দিয়ে এক পাশের আলো
- ছোঁয়ার পর সময়: ০ থেকে ৪০ min
- সময় (চারা): ০ থেকে ৭২ h
যা মেপে দেখাবে
- পত্রক খোলা (%)
- সাড়া
- কাণ্ড বেঁকেছে (°)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- ছোঁয়ার পর সময় ৫, ১০, ২০ মিনিট করে দেখো।
- জানালার চারা বেছে নাও। কোন চলন উদ্দীপকের দিক মেনে চলে?
নিজে করে দেখো
- কখন পত্রক ঠিক অর্ধেক খোলা থাকে, খুঁজে বের করো।
ইঙ্গিত
০ মিনিটে বোজা, ২০ মিনিটে খোলা।
- এমন একটি চলন দেখাও যার দিক উদ্দীপকের দিক মেনে চলে।
ইঙ্গিত
জানালার পাশের চারা।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
উদ্ভিদের চলন: ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলন
উদ্ভিদ জায়গা বদলাতে পারে না, কিন্তু অঙ্গ নাড়াতে পারে। উদ্দীপকের দিক অনুযায়ী যে চলন হয় তা ট্রপিক বা বক্রচলন, যেমন আলোর দিকে কাণ্ড বাঁকা (আলোকবৃত্তি), মূলের নিচে যাওয়া (অভিকর্ষবৃত্তি), লতার আকর্ষ দিয়ে খুঁটি জড়ানো; এগুলো ধীর, বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘটে, আর ফেরানো যায় না। উদ্দীপক যে দিক থেকেই আসুক, অঙ্গ একই ভাবে নড়লে তা ন্যাস্টিক বা ব্যাপ্তি চলন, যেমন ছোঁয়ায় লজ্জাবতীর পাতা বোজা, সন্ধ্যায় শাপলা বা সূর্যমুখীর পাপড়ি বন্ধ হওয়া। লজ্জাবতীর পত্রমূলে (পালভিনাস) কোষ থাকে; ছোঁয়ার সংকেতে সেখানকার কোষ দ্রুত পানি হারিয়ে চুপসে যায়, তাই কয়েক সেকেন্ডে পাতা বুজে যায়। পরে কোষগুলো ধীরে আবার পানি নিয়ে রসস্ফীত হয়, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পাতা খোলে।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
লজ্জাবতীর বোজা বৃদ্ধি নয়, পত্রমূলের কোষে পানি কমা-বাড়া। তাই এটি দ্রুত এবং ফেরানো যায়: কিছুক্ষণ পর পাতা আবার খোলে।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- ছুঁলে লজ্জাবতীর পাতা নষ্ট হয়ে যায়
- লজ্জাবতীর পাতা বোজা বৃদ্ধির কারণে হয়
- পাতা শুধু আলো পেলেই খোলে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- সন্ধ্যায় তেঁতুলের পাতা বুজে যাওয়াও ন্যাস্টিক চলন।