পড়ার নোট
চলন হলো উদ্দীপনার প্রভাবে জীব বা তার কোনো অংশের অবস্থানের পরিবর্তন। উদ্ভিদও বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা অনুভব করে সাড়া দিতে পারে। আলো, মাধ্যাকর্ষণ ও স্পর্শ উদ্ভিদের চলনের পরিচিত উদ্দীপক। কিছু চলন বৃদ্ধির ফলে ঘটে, আবার সব চলনকে শুধু বৃদ্ধিজনিত বলা যায় না।
উদ্ভিদের চলন প্রধানত দুইভাবে বোঝানো যায়। সামগ্রিক চলন হলো সম্পূর্ণ জীব বা কোনো চলনক্ষম অংশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া। ভলভক্স, ক্ল্যামাইডোমোনাস এবং কিছু জীবের চলনক্ষম জননকোষ বা জুওস্পোরে এ চলন দেখা যায়। তাই উদ্ভিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জীবই স্থান পরিবর্তন করতে পারে না—এ ধারণা ঠিক নয়।
মাটিতে মূল দিয়ে স্থির থাকা উন্নত উদ্ভিদ সাধারণত সম্পূর্ণ দেহ নিয়ে স্থান পরিবর্তন করে না। তবে এদের অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ বাঁকতে কিংবা ঘুরতে পারে। একে বক্র চলন বলে। কাণ্ডের আলোর দিকে বাঁকা হওয়া, মূলের আলো থেকে দূরে যাওয়া এবং লতার আকর্ষের অবলম্বন জড়িয়ে ধরা এর উদাহরণ। বাড়ির সবজির মাচায় আকর্ষের অবলম্বন আঁকড়ে ধরার ঘটনা দেখা যায়।
আলোর প্রভাবে দিকনির্দেশিত বক্র চলনকে ফটোট্রপিক চলন বলে। কাণ্ড ও শাখার আলোর দিকে চলন অনুকূল ফটোট্রপিক চলন, আর মূলের আলোর বিপরীত দিকে চলন প্রতিকূল ফটোট্রপিক চলন। একদিকে আলো এলে কাণ্ডের ছায়াযুক্ত পাশে অক্সিনের প্রভাব বেশি হয়। সেই পাশ বেশি বাড়ায় কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে।
একটি টবের চারা শ্রেণিকক্ষের জানালার পাশে রেখে এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করলে নতুন বর্ধনশীল অংশ আলোর দিকে বাঁকতে দেখা যেতে পারে। প্রথম দিনের অবস্থানের সঙ্গে পরের দিনের অবস্থান তুলনা করলে বোঝা যায়, টব সরেনি; কাণ্ডের অবস্থান বদলেছে। এই সাড়া পাতাকে আলো পেতে সাহায্য করে।
অঙ্কুরিত ছোলার মূলের নিচের দিকে বৃদ্ধি মাধ্যাকর্ষণের প্রতি সাড়ার উদাহরণ। মূল সাধারণত মাধ্যাকর্ষণের দিকে এবং কাণ্ড বিপরীত দিকে বাড়ে। মূলের এ বৃদ্ধি মাটির পানি ও খনিজ সংগ্রহে সহায়ক।
সাধারণ ভুল হলো ফটোট্রপিক চলনকে উদ্ভিদের চলনের একমাত্র ধরন বলা অথবা সব চলনই আলোর কারণে ঘটে মনে করা।
মনে রাখো: উদ্ভিদ স্থির থাকলেও তার অঙ্গ উদ্দীপনার প্রভাবে চলন প্রদর্শন করতে পারে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।