পড়ার নোট
প্রাণীর সমন্বয় হলো দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সংযোগ, নিয়ন্ত্রণ এবং সামঞ্জস্য বজায় রাখা। হাঁটা, বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, হাসা বা খাওয়ার সময় অনেক অঙ্গ একসঙ্গে কাজ করে। শুধু একটি অঙ্গ সক্রিয় হলেই কাজ সম্পন্ন হয় না; প্রয়োজন অনুসারে অন্য অঙ্গগুলোর কাজও তার সঙ্গে মিলতে হয়।
প্রাণীর সমন্বয়ে স্নায়ুতন্ত্র এবং হরমোন একসঙ্গে কাজ করে। স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে, স্নায়ুবার্তা বহন করে এবং উপযুক্ত সাড়া সৃষ্টি করে। হরমোন হলো গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক নিয়ন্ত্রক, যা রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোষ বা অঙ্গে পৌঁছে কাজ করে। এ দুই পদ্ধতির প্রধান পার্থক্য হলো বার্তা বহনের মাধ্যম ও কাজের সময়গত ধরন।
| বৈশিষ্ট্য | স্নায়ুবিক সমন্বয় | হরমোনজনিত সমন্বয় |
|---|---|---|
| বার্তার মাধ্যম | নিউরনের মাধ্যমে স্নায়ুবার্তা | রক্তবাহিত রাসায়নিক পদার্থ |
| সাধারণ কার্যধারা | দ্রুত সাড়া সৃষ্টি | তুলনামূলক ধীর ও দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ |
| উদাহরণ | গরম বস্তু থেকে হাত সরানো | বৃদ্ধি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ |
ধরা যাক, রান্নাঘরে গরম হাঁড়িতে হাত লাগল। ত্বক উদ্দীপনা গ্রহণ করে, স্নায়ুপথে বার্তা যায় এবং পেশি সংকুচিত হয়ে হাত সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, শিশুর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা বা খাবারের পর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা থাকে। অ্যাড্রিনালিন আবার জরুরি মানসিক বা দৈহিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করে।
স্নায়ুতন্ত্র হরমোনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবস্থাপক যেমন বিভিন্ন কর্মীর কাজ পরিচালনা করেন, স্নায়ুতন্ত্রও তেমনি হরমোনের কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আবার হরমোন স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি, বিকাশ ও কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ফলে একটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ব্যবস্থা ভাবা যায় না।
দেহের বাইরেও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে প্রাণীর আচরণে সমন্বয় দেখা যায়। ফেরোমন হলো একই প্রজাতির অন্য সদস্যের আচরণে প্রভাব ফেলা বাহ্যিক রাসায়নিক সংকেত। মেঝেতে চিনির দানার দিকে পিঁপড়ার সারি এটির পরিচিত উদাহরণ। খাদ্য পাওয়া পিঁপড়ার রেখে যাওয়া রাসায়নিক পথ অন্য পিঁপড়া অনুসরণ করে।
সাধারণ ভুল হলো সব হরমোন শুধু কাজ বাড়ায় মনে করা। কোনো হরমোন কাজ উদ্দীপিত করে, আবার কোনোটি বাধা দেয়।
মনে রাখো: প্রাণীর স্বাভাবিক কাজ ও পরিবেশের প্রতি সাড়া স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের যৌথ সমন্বয়ে ঘটে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।