পড়ার নোট
বৃদ্ধি হলো উদ্ভিদ বা তার কোনো অংশের আকার ও ভরের স্থায়ী বৃদ্ধি। কোষ বিভাজনের ফলে কোষের সংখ্যা বাড়ে এবং কোষ বড় হওয়ার ফলে অঙ্গের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বাড়ে। মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের বর্ধনশীল অঞ্চলে এ কাজ বেশি সক্রিয়। বৃদ্ধির হার সব সময় সমান নয়; কোনো অঙ্গের বৃদ্ধির শুরুতে ধীর, পরে দ্রুত এবং শেষের দিকে আবার ধীর হতে পারে।
বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অক্সিন কোষের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জিবেরেলিন বিশেষভাবে পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বাড়ায়, ফলে উদ্ভিদ লম্বা হয়। সাইটোকাইনিন কোষ বিভাজনে সহায়তা করে। পানি, পুষ্টি, আলো ও তাপমাত্রার মতো পরিবেশগত অবস্থার সঙ্গে হরমোনের কার্যক্রম মিলেই স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে।
জানালার পাশে রাখা একটি চারায় এক পাশ থেকে আলো এলে ছায়াযুক্ত পাশে অক্সিনের প্রভাব বেশি হয়। সেই পাশের কোষ তুলনামূলকভাবে বেশি লম্বা হয়। ফলে কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে। এখানে কাণ্ডের দুই পাশের অসম বৃদ্ধিই বাঁক সৃষ্টি করে; আলো গাছকে টেনে নেয় না। মূল ও ভ্রূণমুকুলের অগ্রভাগ মাধ্যাকর্ষণের উদ্দীপনাও অনুভব করতে পারে।
ফুল ফোটার ক্ষেত্রে দৈনিক আলোককাল গুরুত্বপূর্ণ। আলো ও অন্ধকারের ছন্দের সঙ্গে উদ্ভিদের কাজের এই সম্পর্ক জৈবিক ঘড়ির একটি উদাহরণ। আলোককালের ভিত্তিতে উদ্ভিদ তিন ধরনের:
- স্বল্প দিবা উদ্ভিদ: ফুল ফোটার জন্য দৈনিক গড়ে ৮–১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন; যেমন চন্দ্রমল্লিকা ও ডালিয়া।
- দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ: দৈনিক গড়ে ১২–১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন; যেমন লেটুস ও ঝিঙা।
- দিবা নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: ফুল ফোটায় আলোককালের নির্দিষ্ট ভূমিকা নেই; যেমন শসা ও সূর্যমুখী।
আলোর মতো তাপ ও শীতও বৃদ্ধি এবং ফুল ফোটানোকে প্রভাবিত করে। উপযুক্ত উদ্ভিদের অঙ্কুরিত বীজে শীত প্রয়োগ করে ফুল ফোটা ত্বরান্বিত করাকে ভার্নালাইজেশন বলে। শীতকালীন গমের ফুল ফোটার সঙ্গে শীতের প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে।
সাধারণ ভুল হলো সব উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে একই দৈর্ঘ্যের দিন দরকার মনে করা। বাড়ির চন্দ্রমল্লিকা ও সবজিখেতের ঝিঙার আলোককালের চাহিদা এক নয়।
মনে রাখো: কোষ বিভাজন ও কোষের আকার বৃদ্ধিকে হরমোন এবং পরিবেশ একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।