offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ২

উদ্ভিদের বৃদ্ধি

পড়ার নোট

বৃদ্ধি হলো উদ্ভিদ বা তার কোনো অংশের আকার ও ভরের স্থায়ী বৃদ্ধি। কোষ বিভাজনের ফলে কোষের সংখ্যা বাড়ে এবং কোষ বড় হওয়ার ফলে অঙ্গের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বাড়ে। মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের বর্ধনশীল অঞ্চলে এ কাজ বেশি সক্রিয়। বৃদ্ধির হার সব সময় সমান নয়; কোনো অঙ্গের বৃদ্ধির শুরুতে ধীর, পরে দ্রুত এবং শেষের দিকে আবার ধীর হতে পারে।

বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অক্সিন কোষের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জিবেরেলিন বিশেষভাবে পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বাড়ায়, ফলে উদ্ভিদ লম্বা হয়। সাইটোকাইনিন কোষ বিভাজনে সহায়তা করে। পানি, পুষ্টি, আলো ও তাপমাত্রার মতো পরিবেশগত অবস্থার সঙ্গে হরমোনের কার্যক্রম মিলেই স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে।

জানালার পাশে রাখা একটি চারায় এক পাশ থেকে আলো এলে ছায়াযুক্ত পাশে অক্সিনের প্রভাব বেশি হয়। সেই পাশের কোষ তুলনামূলকভাবে বেশি লম্বা হয়। ফলে কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে। এখানে কাণ্ডের দুই পাশের অসম বৃদ্ধিই বাঁক সৃষ্টি করে; আলো গাছকে টেনে নেয় না। মূল ও ভ্রূণমুকুলের অগ্রভাগ মাধ্যাকর্ষণের উদ্দীপনাও অনুভব করতে পারে।

ফুল ফোটার ক্ষেত্রে দৈনিক আলোককাল গুরুত্বপূর্ণ। আলো ও অন্ধকারের ছন্দের সঙ্গে উদ্ভিদের কাজের এই সম্পর্ক জৈবিক ঘড়ির একটি উদাহরণ। আলোককালের ভিত্তিতে উদ্ভিদ তিন ধরনের:

  • স্বল্প দিবা উদ্ভিদ: ফুল ফোটার জন্য দৈনিক গড়ে ৮–১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন; যেমন চন্দ্রমল্লিকা ও ডালিয়া।
  • দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ: দৈনিক গড়ে ১২–১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন; যেমন লেটুস ও ঝিঙা।
  • দিবা নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: ফুল ফোটায় আলোককালের নির্দিষ্ট ভূমিকা নেই; যেমন শসা ও সূর্যমুখী।

আলোর মতো তাপ ও শীতও বৃদ্ধি এবং ফুল ফোটানোকে প্রভাবিত করে। উপযুক্ত উদ্ভিদের অঙ্কুরিত বীজে শীত প্রয়োগ করে ফুল ফোটা ত্বরান্বিত করাকে ভার্নালাইজেশন বলে। শীতকালীন গমের ফুল ফোটার সঙ্গে শীতের প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে।

সাধারণ ভুল হলো সব উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে একই দৈর্ঘ্যের দিন দরকার মনে করা। বাড়ির চন্দ্রমল্লিকা ও সবজিখেতের ঝিঙার আলোককালের চাহিদা এক নয়।

মনে রাখো: কোষ বিভাজন ও কোষের আকার বৃদ্ধিকে হরমোন এবং পরিবেশ একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহীর একটি আমবাগানের চাষি লক্ষ্য করলেন কিছু আমের গুঁটি অকালে ঝরে পড়ছে এবং নতুন কলমের ডালে মূল গজাতে দেরি হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে কোন ফাইটোহরমোনটি প্রয়োগ করলে কলমে দ্রুত মূল গজায় এবং ফলের এই অকাল মোচন বা ঝরে পড়া রোধ করা যায়?

    1. ক

      অক্সিন (Auxin)

    2. খ

      ইথিলিন (Ethylene)

    3. গ

      অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid)

    4. ঘ

      জিব্বেরেলিন (Gibberellin)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) অক্সিন (Auxin)

    1. অক্সিন (Auxin) হলো উদ্ভিদের এমন এক শ্রেণির ফাইটোহরমোন যা কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শাখা কলমে মূল গজাতে সহায়তা করে এবং অপরিণত ফলের অকাল ঝরে পড়া (মোচন) রোধ করে।
    2. অপরদিকে ইথিলিন হলো গ্যাসীয় হরমোন যা ফল পাকায় ও ফলের মোচন ত্বরান্বিত করে; অ্যাবসিসিক এসিড উদ্ভিদের বৃদ্ধি রোধ ও সুপ্তাবস্থা সৃষ্টি করে; এবং জিব্বেরেলিন মূলত পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙতে কাজ করে।
  2. কয়েক দিন পর দ্বিতীয় গাছটি আলোর দিকে বেঁকে গেলেও প্রথম গাছটি সোজা রইল। প্রথম গাছটির আলোর দিকে না বাঁকার কারণ কী?

    1. ক

      অগ্রভাগে আলো না পৌঁছানোয় খাদ্য তৈরি ও কাণ্ডের বৃদ্ধি থেমে গেছে

    2. খ

      আলোর উদ্দীপনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অক্সিনের অসম বণ্টন ঘটেনি

    3. গ

      টুপি পরানোর ফলে কাণ্ডের ওপর অভিকর্ষ বলের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে

    4. ঘ

      অন্ধকারের কারণে কাণ্ডের শীর্ষমুকুলে অক্সিন হরমোন তৈরি বন্ধ হয়ে গেছে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) আলোর উদ্দীপনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অক্সিনের অসম বণ্টন ঘটেনি

    1. উদ্ভিদের কাণ্ডের অগ্রভাগ (শীর্ষমুকুল) আলোর উদ্দীপনা গ্রহণ করে। একপার্শ্বীয় আলোর প্রভাবে কাণ্ডের অগ্রভাগে থাকা অক্সিন আলোর বিপরীত দিকে (অন্ধকার দিকে) বেশি মাত্রায় স্থানান্তরিত হয়, ফলে অন্ধকার দিকের কোষগুলো বেশি দীর্ঘায়িত হয়ে কাণ্ডকে আলোর দিকে বাঁকিয়ে দেয়।
    2. অগ্রভাগে অস্বচ্ছ টুপি পরালে আলোর উদ্দীপনা অনুভূত হয় না। ফলে অক্সিনের অসম বণ্টন ঘটে না, বরং অক্সিন সুষমভাবে নিচের দিকে নেমে আসায় গাছটি কোনো দিকে না বেঁকে সোজা উপরের দিকে বৃদ্ধি পায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো