পড়ার নোট
উদ্ভিদে সমন্বয় হলো উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে এমন নিয়ন্ত্রণ ও সামঞ্জস্য, যার ফলে কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। একটি গাছে একই সময়ে শ্বসন, বিপাক, বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কাজ চলে। আবার জীবনচক্রে অঙ্কুরোদগম, বৃদ্ধি ও বিকাশ, পুষ্পায়ন, ফল সৃষ্টি, পূর্ণতা এবং সুপ্তাবস্থা পর্যায়ক্রমে আসে। এসব কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।
উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্র নেই। তাদের দেহে উৎপন্ন যেসব জৈব রাসায়নিক পদার্থ অল্প পরিমাণে বৃদ্ধি, বিকাশ ও অঙ্গ সৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোকে ফাইটোহরমোন বলে। এগুলো কোষে তৈরি হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে দূরবর্তী কোষ বা কোষপুঞ্জেও কাজ করতে পারে। উদ্ভিদের প্রতিটি কোষেরই হরমোন উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। হরমোন পুষ্টিদ্রব্য নয়; এটি জৈবিক কাজের নিয়ন্ত্রক।
কয়েকটি প্রধান হরমোনের উৎস ও কাজ তুলনা করা যায়:
| হরমোন | উৎপত্তি বা প্রাপ্তিস্থান | প্রধান কাজ |
|---|---|---|
| অক্সিন | ভ্রূণমুকুলাবরণীর অগ্রভাগ | বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, শাখা কলমে মূল সৃষ্টি ও অকাল ফলঝরা রোধ |
| জিবেরেলিন | পরিণত বীজ, চারা ও বর্ধনশীল অঞ্চল | পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ও অঙ্কুরোদগমে সহায়তা |
| সাইটোকাইনিন | ফল, শস্য ও ডাবের পানি | কোষ বিভাজন ও অঙ্গ বিকাশে সহায়তা |
| ইথিলিন | ফল, ফুল, বীজ, পাতা ও মূল | ফল পাকানো ও অঙ্গ ঝরে পড়া ত্বরান্বিত করা |
অ্যাবসিসিক এসিডও একটি প্রাকৃতিক ফাইটোহরমোন। কিছু প্রস্তাবিত কিন্তু পৃথকভাবে শনাক্ত না করা হরমোনকে পসটুলেটেড হরমোন বলে। ফ্লোরিজেন ও ভার্নালিন এর উদাহরণ; এগুলো ফুল ও জনন অঙ্গের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের বাড়িতে জানালার পাশে রাখা চারার কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকতে দেখা যায়। এতে আলো উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং হরমোনের প্রভাবে দুই পাশের বৃদ্ধির পার্থক্য তৈরি হয়। একইভাবে আম পাকা বা গাছে ফল ধরে থাকার সঙ্গেও হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। আলো, তাপমাত্রা ও মাধ্যাকর্ষণও সমন্বয়কে প্রভাবিত করে।
সাধারণ ভুল হলো হরমোনকে উদ্ভিদের খাদ্য বা সার মনে করা। খাদ্য বৃদ্ধি ও জীবনধারণের উপাদান দেয়; হরমোন সেই উপাদান ব্যবহার করে চলা কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
মনে রাখো: ফাইটোহরমোন অল্প পরিমাণে কাজ করে উদ্ভিদের জীবনপ্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।