পড়ার নোট
শ্রেণি বর্তনী
শ্রেণি সংযোগে রোধ বা বাতিগুলো একটির পর একটি যুক্ত থাকে, ফলে আধান চলার একটিমাত্র পথ পাওয়া যায়। একটি কোষের ধনাত্মক প্রান্ত থেকে সুইচ, প্রথম রোধ ও দ্বিতীয় রোধ হয়ে তার ঋণাত্মক প্রান্তে সংযোগ ফিরিয়ে দিলে এমন বর্তনী তৈরি হয়। সংযোগ সম্পূর্ণ হলে তবেই প্রবাহ চলবে।
এখানে প্রতিটি রোধে একই প্রবাহমাত্রা থাকে। কারণ মাঝখানে আধানের বেরিয়ে যাওয়ার অন্য শাখা নেই এবং আধান খরচ হয়ে যায় না। তবে উৎসের বিভব পার্থক্য রোধগুলোর মধ্যে ভাগ হয়: । এখানে উৎসের এবং , যথাক্রমে দুটি রোধের বিভব পার্থক্য; সবগুলোর একক ভোল্ট (V)। রোধ অসমান হলে বিভব পার্থক্যের ভাগও সাধারণত অসমান হয়।
শ্রেণিতে যুক্ত কোনো বাতির ফিলামেন্ট ছিঁড়লে একমাত্র পথটি বিচ্ছিন্ন হয়, তাই সব বাতি নিভে যায়। একটি সুইচ শ্রেণিতে বসিয়ে পুরো পথ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফিউজও যে অংশকে রক্ষা করে তার সঙ্গে শ্রেণিতে থাকে, যাতে গলে গেলে সেই অংশের প্রবাহ বন্ধ হয়।
সমান্তরাল বর্তনী
সমান্তরাল সংযোগে প্রতিটি রোধের এক প্রান্ত একটি সাধারণ বিন্দুতে এবং অন্য প্রান্ত আরেকটি সাধারণ বিন্দুতে যুক্ত হয়। কোষের ধনাত্মক প্রান্তের সঙ্গে প্রত্যেক রোধের এক মাথা এবং ঋণাত্মক প্রান্তের সঙ্গে অন্য মাথা যুক্ত করলে একাধিক পথ তৈরি হয়।
প্রতিটি শাখার দুই প্রান্ত একই দুটি বিন্দুতে থাকায় বিভব পার্থক্য সমান। মোট প্রবাহ শাখায় ভাগ হয়: । এখানে মোট এবং , শাখার প্রবাহমাত্রা; একক অ্যাম্পিয়ার (A)।
ধরো, ৪ ভোল্ট উৎসে ৮ ওহম ও ৪ ওহম রোধ সমান্তরালে আছে। ব্যবহার করি; এখানে রোধ, একক ওহম ()।
- প্রথম শাখায় ।
- দ্বিতীয় শাখায় ।
- মোট ।
বাড়ির বাতি ও পাখা সমান্তরালে থাকে বলে প্রত্যেকে সরবরাহের পূর্ণ বিভব পার্থক্য পায়। প্রতিটি শাখার নিজস্ব সুইচ দিয়ে আলাদা নিয়ন্ত্রণ করা যায়; একটি শাখা বিচ্ছিন্ন হলেও অন্যটি চলতে পারে। সাধারণ ভুল হলো সমান্তরালে প্রবাহ সব শাখায় সমান ভাবা; তা রোধের মানের ওপর নির্ভর করে।
মনে রাখো: শ্রেণিতে প্রবাহমাত্রা একই, সমান্তরালে প্রতিটি শাখার বিভব পার্থক্য একই।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।