পড়ার নোট
একটি তারের রোধ জানলেই তার উপাদান কত ভালো পরিবাহী তা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একই উপাদানের লম্বা ও সরু তারের রোধ বেশি, ছোট ও মোটা তারের রোধ কম হতে পারে। উপাদানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য তুলনা করতে তাই আপেক্ষিক রোধ বা রোধকতা ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একক দৈর্ঘ্য ও একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট পদার্থের রোধকে তার আপেক্ষিক রোধ বলে।
সূত্র , অথবা । এখানে আপেক্ষিক রোধ, একক ওহম-মিটার (); রোধ, একক ওহম (); প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, একক বর্গমিটার (); দৈর্ঘ্য, একক মিটার (m)। আপেক্ষিক রোধ উপাদান ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, তারের দৈর্ঘ্য বা মোটা-সরু হওয়ার ওপর নয়।
পরিবাহিতা কোনো পদার্থের তড়িৎ পরিবহনের ক্ষমতা নির্দেশ করে এবং এটি আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশি। সূত্র । এখানে পরিবাহিতা, একক ; আপেক্ষিক রোধ, একক । আপেক্ষিক রোধ কম হলে পরিবাহিতা বেশি হয়।
রুপা ও তামার আপেক্ষিক রোধ কম, তাই তারা সুপরিবাহী। হীরা ও বাতাসের আপেক্ষিক রোধ অনেক বেশি। বাড়ির তারে তামা এবং তারের বাইরের আবরণে রাবার ব্যবহারের কারণ এই পরিবহন ক্ষমতার পার্থক্য। তামার আপেক্ষিক রোধ হলে তার পরিবাহিতা প্রায় ।
নিজস্ব সংখ্যার একটি উদাহরণ ধরি। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি তারের দৈর্ঘ্য ২ মিটার, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং রোধ ৪ ওহম।
- আপেক্ষিক রোধ: ।
- পরিবাহিতা: ।
ধাতব পরিবাহীর তাপমাত্রা বাড়লে পরমাণুর কম্পন বাড়ে, আপেক্ষিক রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে। অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহিতা বাড়ে। তাই তুলনার সময় তাপমাত্রা নির্দিষ্ট থাকা দরকার।
সাধারণ ভুল হলো রোধ ও আপেক্ষিক রোধকে একই রাশি ভাবা। একই তামার তারের দৈর্ঘ্য বাড়ালে রোধ বাড়বে, কিন্তু তাপমাত্রা একই থাকলে আপেক্ষিক রোধ বদলাবে না। এদের এককও আলাদা।
মনে রাখো: আপেক্ষিক রোধ উপাদানের বৈশিষ্ট্য; পরিবাহিতা তার বিপরীত রাশি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।