পড়ার নোট
রোধ হলো তড়িৎপ্রবাহে বাধার পরিমাপক রাশি। কোনো তারের রোধ তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। একটি বিষয়ের প্রভাব তুলনা করার সময় অন্য বিষয়গুলো অপরিবর্তিত রাখতে হয়। নইলে রোধের পরিবর্তন শুধু কোন কারণে হলো, তা বোঝা যাবে না।
- দৈর্ঘ্য: একই উপাদান ও প্রস্থচ্ছেদের তার যত লম্বা, ইলেকট্রনকে তত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। ফলে বাধা বাড়ে। সম্পর্কটি ; দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হলে রোধ দ্বিগুণ হয়।
- প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল: তার মোটা হলে আধান চলার জন্য বেশি প্রশস্ত পথ পাওয়া যায়। তাই ; ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ হলে রোধ অর্ধেক হয়। এখানে ক্ষেত্রফল বোঝানো হচ্ছে, ব্যাস নয়।
- উপাদান: সমান দৈর্ঘ্য ও ক্ষেত্রফলের তামা এবং অন্য উপাদানের তারের রোধ এক নাও হতে পারে। কারণ তাদের আপেক্ষিক রোধ আলাদা। তামার আপেক্ষিক রোধ কম বলে সংযোগের তারে ব্যবহার করা হয়; বেশি আপেক্ষিক রোধের নাইক্রোম উত্তাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
- তাপমাত্রা: ধাতব পরিবাহীর তাপমাত্রা বাড়লে পরমাণুর কম্পন বাড়ে। এতে ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা বাড়ে এবং রোধ বাড়ে। জ্বলন্ত ফিলামেন্টের রোধ ঠান্ডা অবস্থার তুলনায় বেশি হয়।
সম্পর্কগুলো একত্রে । এখানে রোধ, একক ওহম (); আপেক্ষিক রোধ, একক ওহম-মিটার (); দৈর্ঘ্য, একক মিটার (m); প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, একক বর্গমিটার ()। আপেক্ষিক রোধের মান নির্দিষ্ট তাপমাত্রার জন্য প্রযোজ্য।
ধরো, একটি তারের রোধ ৮ ওহম। একই উপাদান ও তাপমাত্রায় নতুন তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ এবং ক্ষেত্রফল চার গুণ।
- দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হওয়ার প্রভাব: রোধ হবে ।
- ক্ষেত্রফল চার গুণ হওয়ার প্রভাব: নতুন রোধ হবে ।
বাড়ির দূরের ঘরে দীর্ঘ তার টানলে তারের রোধ ও বিভবপতন বাড়তে পারে। তুলনামূলক মোটা তার ব্যবহার করলে রোধ কমে। তবে শুধু দূরত্ব দেখেই কোনো বাতি ম্লান হওয়ার কারণ নিশ্চিত করা যায় না। সাধারণ ভুল হলো ধাতুর তাপমাত্রার নিয়ম অর্ধপরিবাহীর ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োগ করা।
মনে রাখো: অন্য শর্ত একই থাকলে লম্বা তারের রোধ বেশি এবং বেশি প্রস্থচ্ছেদের তারের রোধ কম।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।