পড়ার নোট
শক্তির নিত্যতার সূত্র
শক্তি সৃষ্টিও হয় না, ধ্বংসও হয় না; শুধু এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়। একে শক্তির নিত্যতার সূত্র বলে। শক্তির রূপ বদলালেও মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে।
পেন্ডুলামের উদাহরণ: সুতায় বাঁধা পাথর একপাশে টেনে উঁচু করলে বিভব শক্তি জমে। ছেড়ে দিলে নামার সময় বিভব শক্তি কমে গতিশক্তি বাড়ে; ঠিক মাঝখানে বেগ সবচেয়ে বেশি। তারপর অন্যপাশে উঠতে উঠতে গতিশক্তি আবার বিভব শক্তি হয়। ঘর্ষণ না থাকলে এ দোলন চিরকাল চলত।
শক্তির রূপান্তর
- বিদ্যুৎশক্তি: সবচেয়ে সহজে অন্য রূপে বদলানো ও দূরে পাঠানো যায়। পাখা ও মোটরে যান্ত্রিক, ইস্ত্রি ও হিটারে তাপ, বাল্ব ও এলইডিতে আলো, স্পিকারে শব্দ, আর মোবাইলের ব্যাটারি চার্জে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- রাসায়নিক শক্তি: চুলার গ্যাসে তাপ, মোমবাতিতে তাপ ও আলো, ইঞ্জিনে যান্ত্রিক, ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ, আর আমাদের দেহে খাদ্য থেকে যান্ত্রিক শক্তি।
- তাপশক্তি: ইঞ্জিনে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- যান্ত্রিক শক্তি: জেনারেটরে বিদ্যুতে, আর ঘর্ষণে তাপে।
- আলোক শক্তি: সোলার সেলে বিদ্যুতে।
- ভর: নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয় ()।
প্রতিটি রূপান্তরে কিছু শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হয়, যা আর কাজে লাগানো যায় না। এটি প্রযুক্তির দুর্বলতা নয়, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম। তাই মোটর দিয়ে জেনারেটর আর জেনারেটরের বিদ্যুতে আবার মোটর ঘুরিয়ে চিরকাল চলা যন্ত্র বানানো সম্ভব নয়।
উদাহরণ: 0.5 kg ভরের একটি পাথর 20 m উঁচু ছাদ থেকে ফেলা হলো।
- ছাদে: J, ।
- 10 m নামার পর: J, তাই J।
- মাটি ছোঁয়ার ঠিক আগে: , J; বেগ m/s।
সব অবস্থায় J। মাটিতে থামার পর এই শক্তি শব্দ ও তাপে রূপান্তরিত হয়, হারিয়ে যায় না।
মনে রাখো: শক্তি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, শুধু রূপ বদলায়; প্রতিটি রূপান্তরে কিছু শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।