পড়ার নোট
শক্তির উৎসকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: অনবায়নযোগ্য (ব্যবহারে ফুরিয়ে যায়) এবং নবায়নযোগ্য (ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই)।
অনবায়নযোগ্য উৎস
- জ্বালানি বা রাসায়নিক শক্তি (তেল, গ্যাস, কয়লা): এগুলো ফসিল জ্বালানি; লক্ষ-কোটি বছর আগে মাটিচাপা পড়া গাছপালা তাপ ও চাপে এ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস এগুলো। অপরিশোধিত তেল শোধন করে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন পাওয়া যায়; প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত মিথেন (), আর বাংলাদেশের গ্যাস তুলনামূলক পরিষ্কার। পোড়ালে রাসায়নিক শক্তি তাপে, তাপ থেকে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- নিউক্লিয়ার শক্তি: জ্বালানি ইউরেনিয়াম। নিউক্লিয়াস ভাঙার তাপে পানি বাষ্প করে টারবাইন ও জেনারেটর ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়।
বর্তমান হারে ব্যবহার চললে তেল, গ্যাস, কয়লা ও ইউরেনিয়াম বড়জোর কয়েক শ বছরের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে।
নবায়নযোগ্য উৎস
পৃথিবীর মোট ব্যবহৃত শক্তির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ নবায়নযোগ্য।
- জলবিদ্যুৎ: নদীতে বাঁধ দিয়ে জমানো পানির বিভব শক্তি নামার সময় গতিশক্তি হয়ে টারবাইন ঘোরায়, জেনারেটর তা বিদ্যুতে রূপান্তর করে। নবায়নযোগ্য শক্তির বেশির ভাগ এখান থেকে আসে।
- বায়োমাস: লাকড়ি, খড়কুটো ইত্যাদি; পোড়ালে রাসায়নিক শক্তি তাপ হয়। গাছপালা আবার জন্মায় বলে এটি নবায়নযোগ্য।
- সৌরশক্তি: এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় সূর্য থেকে প্রায় হাজার মেগাওয়াট শক্তি আসে। সোলার প্যানেল আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে; রাতে ও মেঘলা দিনে এটি অনিয়মিত।
- বায়ুশক্তি: বাতাসের গতিশক্তি টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে; একটি টারবাইন থেকে কয়েক মেগাওয়াট পাওয়া যায় এবং জায়গাও কম লাগে।
- ভূতাপীয় বা জিওথার্মাল শক্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ; কয়েক কিলোমিটার গর্ত করে এ তাপ কাজে লাগানো যায়, তবে প্রক্রিয়াটি এখনো সহজ নয়।
- বায়োফুয়েল: ভুট্টা বা আখ থেকে জ্বালানি অ্যালকোহল, কিংবা রান্নার তেল ডিজেলের বদলে।
উদাহরণ: একটি গ্রামে রান্নায় লাকড়ি, সেচ পাম্পে ডিজেল, আর বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল ব্যবহৃত হয়। লাকড়ি (বায়োমাস) ও সৌরশক্তি নবায়নযোগ্য, কিন্তু ডিজেল ফসিল জ্বালানি বলে অনবায়নযোগ্য।
মনে রাখো: তেল, গ্যাস, কয়লা ও ইউরেনিয়াম অনবায়নযোগ্য; জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, সৌর, বায়ু ও ভূতাপীয় শক্তি নবায়নযোগ্য, আর প্রতিটি উৎসে শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।