ফিশন
ইউরেনিয়ামের মতো কোনো ভারী নিউক্লিয়াসকে একটি নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে তা ভেঙে দুটি মাঝারি ভরের নিউক্লিয়াস হয়, কয়েকটি নিউট্রন বের হয়, আর প্রচুর শক্তি মুক্ত হয়। বের হওয়া নিউট্রন আবার অন্য নিউক্লিয়াস ভাঙে, এভাবে বিক্রিয়া চলতে থাকে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই শক্তিতে পানি ফুটিয়ে বাষ্প বানিয়ে টারবাইন ঘোরানো হয়। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এই নীতিতে চলে।
ফিউশন
দুটি হালকা নিউক্লিয়াস মিলে একটি ভারী নিউক্লিয়াস হলে তাকে ফিউশন বলে। সূর্য ও নক্ষত্রে হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস মিলে হিলিয়াম হয়, আর তা থেকেই আসে সূর্যের আলো ও তাপ। এর জন্য লাগে অকল্পনীয় উচ্চ তাপমাত্রা, যেখানে পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় থাকে। পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিত ফিউশন দিয়ে বিদ্যুৎ বানানো এখনো পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। সফল হলে জ্বালানির বড় উৎস হবে সমুদ্রের পানি, কারণ এর জ্বালানি হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম পানিতে প্রচুর আছে।
শক্তি আসে কোথা থেকে
দুই ক্ষেত্রেই বিক্রিয়ার পরের মোট ভর আগের চেয়ে সামান্য কম হয়। হারানো এই ভর আইনস্টাইনের সূত্র অনুযায়ী বিপুল শক্তি হয়ে বের হয়, কারণ আলোর বেগ অনেক বড়।
সাধারণ ভুল
- ফিশন আর ফিউশন উল্টে লেখা। মনে রাখো, ফিশন মানে ভাঙা, ফিউশন মানে জোড়া।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিউশন হয় বলা। বর্তমানের সব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিশন হয়।
পাঠ্যবইয়ে ফিশন ও ফিউশন সংক্ষেপে এসেছে; এই পাতা সেই পর্যায়েই রাখা হয়েছে।