offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · তেজস্ক্রিয়তা ও ইলেকট্রনিকস

আলফা, বিটা ও গামা রশ্মির পার্থক্য

সর্বশেষ হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

আলফা রশ্মি হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন), ধনাত্মক চার্জযুক্ত; আয়নন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু একটি কাগজেই থেমে যায়। বিটা রশ্মি হলো উচ্চগতির ইলেকট্রন, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত; কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়াম পাতে থামে। গামা রশ্মি চার্জহীন উচ্চশক্তির তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ; ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, থামাতে পুরু সিসা লাগে, কিন্তু আয়নন ক্ষমতা সবচেয়ে কম।

আলফা রশ্মি (α), বিটা রশ্মি (β) ও গামা রশ্মি (γ): পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়আলফা রশ্মি (α)বিটা রশ্মি (β)গামা রশ্মি (γ)
প্রকৃতি

হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (২ প্রোটন + ২ নিউট্রন)

উচ্চগতির ইলেকট্রন

উচ্চশক্তির তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ

চার্জ

ধনাত্মক

ঋণাত্মক

চার্জ নেই

তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রে

বেঁকে যায়

বিপরীত দিকে বেঁকে যায়

বাঁকে না

ভেদন ক্ষমতা

সবচেয়ে কম; বাতাসে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার যায়, কাগজে থামে

মাঝারি; কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়াম পাতে থামে

সবচেয়ে বেশি; থামাতে পুরু সিসার পাত লাগে

আয়নন ক্ষমতা

সবচেয়ে বেশি

মাঝারি

সবচেয়ে কম

নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন

পারমাণবিক সংখ্যা ২ ও ভর সংখ্যা ৪ কমে

পারমাণবিক সংখ্যা ১ বাড়ে, ভর সংখ্যা একই থাকে

কোনো সংখ্যা বদলায় না, কেবল শক্তি কমে

তিন রশ্মি কোথা থেকে আসে

কিছু ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল; এগুলো নিজে থেকেই ভেঙে রশ্মি নির্গত করে। এই ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি বের হয়: আলফা, বিটা ও গামা।

ভেদন বনাম আয়নন: উল্টো সম্পর্ক

আলফা কণা ভারী ও দ্বিগুণ চার্জযুক্ত, তাই চলার পথে যেকোনো পরমাণুর সাথে জোরে ধাক্কা খেয়ে ইলেকট্রন ছিটকে দেয়; অর্থাৎ খুব ভালো আয়নিত করে। কিন্তু প্রতিটি ধাক্কায় শক্তি হারায় বলে বেশিদূর যেতে পারে না। গামা রশ্মির চার্জ নেই, তাই কম ধাক্কা খায়, কম আয়নিত করে, কিন্তু অনেক পুরু পদার্থও ভেদ করে যায়। বিটা এ দুইয়ের মাঝামাঝি। মনে রাখার সূত্র: যে বেশি আয়নিত করে, সে কম ভেদ করে।

ব্যবহার ও সাবধানতা

গামা রশ্মি ক্যান্সারের চিকিৎসায় ও চিকিৎসা-যন্ত্র জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে তিনটিই জীবকোষের ক্ষতি করতে পারে; তাই হাসপাতালে তেজস্ক্রিয় উৎসের চারপাশে পুরু সিসা বা কংক্রিটের দেয়াল রাখা হয়।

সাধারণ ভুল

  • গামা রশ্মিকে আলফা ও বিটার মতো চার্জযুক্ত কণার স্রোত বলা। গামা রশ্মি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, এর ভর বা চার্জ নেই।
  • আলফা সবচেয়ে বেশি ভেদ করে ভাবা। আলফার ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে কম, আয়নন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

তিনটির তুলনা সাধারণত বহুনির্বাচনি বা খ অংশে আসে: "কোন রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?" বা "আলফা ও গামা রশ্মির মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো"। নিরাপদ পার্থক্য হলো প্রকৃতি, চার্জ আর ভেদন ক্ষমতা:

আলফা রশ্মিগামা রশ্মি
১. হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জযুক্ত।১. তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, চার্জহীন।
২. ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে কম।২. ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

নিউক্লিয়ার সমীকরণ মেলাতে বললে মনে রাখো: আলফা নির্গমনে ভর সংখ্যা ৪ ও পারমাণবিক সংখ্যা ২ কমে, বিটা নির্গমনে পারমাণবিক সংখ্যা ১ বাড়ে।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে একটি তেজস্ক্রিয় উৎস থেকে নির্গত আলফা (alpha), বিটা (beta) ও গামা (gamma) রশ্মিকে একটি সুষম তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে চালনা করা হলো। তড়িৎ ক্ষেত্রের ধনাত্মক পাতের দিকে কোন রশ্মিটি সবচেয়ে বেশি বেঁকে যাবে?

    1. ক

      বিটা রশ্মি, কারণ এটি ঋণাত্মক আধানযুক্ত অতি হালকা ইলেকট্রন কণা

    2. খ

      আলফা রশ্মি, কারণ এর ভর ও আধান সবচেয়ে বেশি

    3. গ

      গামা রশ্মি, কারণ এটি ভরহীন ও উচ্চ শক্তি সম্পন্ন রশ্মি

    4. ঘ

      আলফা ও গামা উভয় রশ্মিই সমানভাবে ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে যাবে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) বিটা রশ্মি, কারণ এটি ঋণাত্মক আধানযুক্ত অতি হালকা ইলেকট্রন কণা

    1. তড়িৎ ক্ষেত্রে বিপরীত আধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে। বিটা (beta) কণা হলো ঋণাত্মক আধানযুক্ত তীব্র গতির ইলেকট্রন প্রবাহ, তাই এটি ধনাত্মক পাতের দিকে আকৃষ্ট হয়ে তীব্রভাবে বেঁকে যায়।
    2. আলফা কণা ধনাত্মক আধানযুক্ত হওয়ায় তা ঋণাত্মক পাতের দিকে অল্প বেঁকে যায় এবং গামা রশ্মি চার্জহীন ফোটন হওয়ায় কোনো বিক্ষেপ ছাড়াই সোজা চলে যায়।
  2. পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে— i. PP-এর আয়নীকরণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি; ii. QQ তড়িৎ ক্ষেত্রে বেঁকে যাবে; iii. RR আধানহীন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i, ii ও iii

    1. ভেদনক্ষমতা থেকে বোঝা যায়, PP আলফা, QQ বিটা ও RR গামা রশ্মি।
    2. আলফা রশ্মির আয়নীকরণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। বিটা কণা আধানযুক্ত হওয়ায় তড়িৎ ক্ষেত্রে বেঁকে যায়।
    3. গামা রশ্মি আধানহীন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। তাই তিনটি বিবৃতিই সঠিক।
  3. তেজস্ক্রিয়তা কোন ধরনের ঘটনা?

    1. ক

      বাহ্যিক তাপে সংঘটিত রাসায়নিক ঘটনা

    2. খ

      অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসের স্বতঃস্ফূর্ত ভাঙনের ঘটনা

    3. গ

      পরমাণুর বহিঃস্থ ইলেকট্রনের স্থানান্তরের ঘটনা

    4. ঘ

      বাহ্যিক চাপে সংঘটিত আণবিক ভাঙনের ঘটনা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসের স্বতঃস্ফূর্ত ভাঙনের ঘটনা

    1. অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে বিকিরণ নির্গত করে। এই ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কোন রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?

গামা রশ্মি। একে থামাতে পুরু সিসার পাত লাগে।

আলফা রশ্মি আসলে কী?

হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন মিলে তৈরি ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো