তিন রশ্মি কোথা থেকে আসে
কিছু ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল; এগুলো নিজে থেকেই ভেঙে রশ্মি নির্গত করে। এই ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরনের রশ্মি বের হয়: আলফা, বিটা ও গামা।
ভেদন বনাম আয়নন: উল্টো সম্পর্ক
আলফা কণা ভারী ও দ্বিগুণ চার্জযুক্ত, তাই চলার পথে যেকোনো পরমাণুর সাথে জোরে ধাক্কা খেয়ে ইলেকট্রন ছিটকে দেয়; অর্থাৎ খুব ভালো আয়নিত করে। কিন্তু প্রতিটি ধাক্কায় শক্তি হারায় বলে বেশিদূর যেতে পারে না। গামা রশ্মির চার্জ নেই, তাই কম ধাক্কা খায়, কম আয়নিত করে, কিন্তু অনেক পুরু পদার্থও ভেদ করে যায়। বিটা এ দুইয়ের মাঝামাঝি। মনে রাখার সূত্র: যে বেশি আয়নিত করে, সে কম ভেদ করে।
ব্যবহার ও সাবধানতা
গামা রশ্মি ক্যান্সারের চিকিৎসায় ও চিকিৎসা-যন্ত্র জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে তিনটিই জীবকোষের ক্ষতি করতে পারে; তাই হাসপাতালে তেজস্ক্রিয় উৎসের চারপাশে পুরু সিসা বা কংক্রিটের দেয়াল রাখা হয়।
সাধারণ ভুল
- গামা রশ্মিকে আলফা ও বিটার মতো চার্জযুক্ত কণার স্রোত বলা। গামা রশ্মি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, এর ভর বা চার্জ নেই।
- আলফা সবচেয়ে বেশি ভেদ করে ভাবা। আলফার ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে কম, আয়নন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।