পড়ার নোট
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার
- চিকিৎসা ও রোগনির্ণয়: খুব কম তেজস্ক্রিয়তার পদার্থ শরীরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তার গতিবিধি দেখে শরীরের অনেক তথ্য জানা যায়। এসব পদার্থের অর্ধায়ু খুব কম (কয়েক মিনিট), তাই ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায়।
- প্রাচীন জীবাশ্মের বয়স নির্ণয়: জীবদেহে কার্বনের ভেতর নির্দিষ্ট পরিমাণ থাকে। প্রাণী মারা গেলে নতুন ঢুকতে পারে না, আর আগেরটুকু অর্ধায়ু অনুযায়ী কমতে থাকে। কতটুকু থাকা স্বাভাবিক এবং কতটুকু কমেছে তা থেকে বয়স নিখুঁতভাবে বের করা যায়।
- ক্যান্সার চিকিৎসা: তেজস্ক্রিয় কণা ক্ষতিকর কোষ ধ্বংস করতে পারে, তাই ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে এটি ব্যবহার হয়।
- যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা, আগুনের ধোঁয়ার উপস্থিতি নির্ণয় এবং খনিজে বিভিন্ন ধাতুর পরিমাণ নির্ণয়েও এর ব্যবহার আছে।
সতর্কতা
উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা শরীরের নানা সমস্যা তৈরি করে। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায় এবং বংশপরম্পরায় বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিতে পারে। প্রথম দিকের বিজ্ঞানীরা ক্ষতি না জেনে তেজস্ক্রিয় পদার্থের কাছে গিয়ে রোগাক্রান্ত হয়েছিলেন। মেরি কুরি দীর্ঘদিন কাজ করে লিউকেমিয়ায় মারা যান।
নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয়তা তৈরি হয়। অনেক বর্জ্যের অর্ধায়ু অনেক বেশি, ফলে লক্ষ বছর তেজস্ক্রিয় থাকে। দুর্ঘটনায় বাইরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিউক্লিয়ার বোমায় অসংখ্য মানুষ তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়েছিল। তাই নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে সতর্কতা চিহ্ন দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।
মনে রাখো: তেজস্ক্রিয়তা রোগনির্ণয়, ক্যান্সার চিকিৎসা ও জীবাশ্মের বয়স নির্ণয়ে কাজে লাগে, কিন্তু উচ্চমাত্রায় এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাই সতর্কতা জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।