পড়ার নোট
তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে প্রধানত তিন ধরনের রশ্মি বের হয়। এদের প্রকৃতি, আধান ও ভেদনক্ষমতা আলাদা।
আলফা রশ্মি আসলে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস: দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন। এটি আধানযুক্ত, তাই বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্র এর গতিপথ বদলাতে পারে। নির্গত হওয়ার সময় এর শক্তি কয়েক MeV; বাতাসের অণু-পরমাণুকে তীব্রভাবে আয়নিত করে মাত্র প্রায় 6 cm গিয়েই থেমে যায়। একটি কাগজই একে থামাতে পারে। জিংক সালফাইড পর্দায় এটি অনুপ্রভা সৃষ্টি করে।
বিটা রশ্মি হলো নিউক্লিয়াস থেকে বেরিয়ে আসা ইলেকট্রন, তাই এর আধান ঋণাত্মক এবং বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রে এটিও প্রভাবিত হয়। এটি আলফার চেয়ে কম আয়নিত করে কিন্তু ভেদনক্ষমতা অনেক বেশি; কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম পাত একে থামাতে পারে। নির্গত বিটা কণার শক্তি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যেকোনো মান হতে পারে।
গামা রশ্মি শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এর আধান ও ভর নেই, বেগ সবসময় আলোর বেগের সমান। তাই বিদ্যুৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্রে বাঁকে না। একে থামাতে কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সিসার পাত লাগে। আলফা বা বিটা বিকিরণের পর নিউক্লিয়াস উত্তেজিত থাকলে বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে।
নিউক্লিয়াসের ওপর প্রভাব:
| রশ্মি | পারমাণবিক সংখ্যা | নিউক্লিওন সংখ্যা |
|---|---|---|
| আলফা | 2 কমে | 4 কমে |
| বিটা (ইলেকট্রন) | 1 বাড়ে | অপরিবর্তিত |
| গামা | অপরিবর্তিত | অপরিবর্তিত |
উদাহরণ: ইউরেনিয়াম-238 (পারমাণবিক সংখ্যা 92) আলফা কণা বিকিরণ করলে পারমাণবিক সংখ্যা এবং নিউক্লিওন সংখ্যা হয়; এটি থোরিয়াম-234। আবার বিটা বিকিরণ করলে একটি নিউট্রন প্রোটনে পরিণত হয়; পারমাণবিক সংখ্যা হয় কিন্তু নিউক্লিওন সংখ্যা 14 থাকে, তাই এটি এ পরিণত হয়।
সাধারণ ভুল হলো মনে করা যে আধান নেই বলে গামা রশ্মি আয়নিত করতে পারে না। চার্জহীন হলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে, তবে আলফার তুলনায় অনেক কম।
মনে রাখো: আলফা সবচেয়ে বেশি আয়নিত করে কিন্তু কাগজেই থামে; বিটা থামে কয়েক মিলিমিটার অ্যালুমিনিয়ামে; গামা থামাতে কয়েক সেন্টিমিটার সিসা লাগে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।