offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ১৩ · টপিক ১

তেজস্ক্রিয়তা

পড়ার নোট

পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে। প্রোটনগুলো ধনাত্মক আধানযুক্ত বলে শুধু প্রোটন দিয়ে নিউক্লিয়াস টিকতে পারত না; পারস্পরিক বিকর্ষণে ছিটকে যেত। চার্জহীন নিউট্রন ও প্রোটন মিলে প্রবল নিউক্লিয়ার বলের আকর্ষণে নিউক্লিয়াসকে স্থিতিশীল রাখে।

প্রোটনের সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল রাখতে নিউট্রনও বাড়তে থাকে, তবু প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে; এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে, আর নিউক্লিয়াস থেকে বেরিয়ে আসা বিকিরণকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বলে। প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি তিনটি: আলফা, বিটা ও গামা।

শুধু ভারী মৌল নয়, হালকা মৌলের নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। একই প্রোটন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যার নিউক্লিয়াসযুক্ত পরমাণুকে সেই মৌলের আইসোটোপ বলে। একটি মৌলের এক আইসোটোপ স্থিতিশীল আর অন্যটি তেজস্ক্রিয় হতে পারে।

উদাহরণ: কার্বনের প্রধান তিনটি আইসোটোপে প্রোটন 6টি করে, কিন্তু নিউট্রন যথাক্রমে 6, 7 ও 8টি। তাই নিউক্লিওন সংখ্যা 6+6=126+6=12, 6+7=136+7=13 এবং 6+8=146+8=14। এদের মধ্যে শুধু কার্বন-14 (C14C_{14}) তেজস্ক্রিয়।

1896 সালে হেনরি বেকেরেল প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। পরে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি ও অন্যান্য বিজ্ঞানী অন্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে তেজস্ক্রিয়তাকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাই এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা। তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন বদলে মৌলটি ভিন্ন মৌলেও রূপান্তরিত হতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো মনে করা যে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থকে গরম বা ঠান্ডা করে তার তেজস্ক্রিয়তা বাড়ানো-কমানো যায়। তেজস্ক্রিয়তা নিউক্লিয়াসের ভেতরের ঘটনা, তাই বাইরের এসব প্রভাবে বদলায় না।

মনে রাখো: অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে; এটিই তেজস্ক্রিয়তা।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ও অর্ধায়ুচালিয়ে দেখো

    ঢাকার একটি পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে টেকনিশিয়াম-99m আইসোটোপ দেওয়া হলো। এই আইসোটোপের অর্ধায়ু ৬ ঘণ্টা, যাতে কয়েক দিনের মধ্যে তা শরীর থেকে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়। শুরুতে রোগীর শরীরে ১৬০০টি অক্ষত তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস ছিল। ২৪ ঘণ্টা পর এই আইসোটোপের কত অংশ অক্ষত অবশিষ্ট থাকবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য ঢাকার একটি পরমাণু চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে ০.০৮ kg তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ আনা হলো। আইসোটোপটির অর্ধায়ু ৬ দিন হলে, ১৮ দিন পর নমুনাটির কত কিলোগ্রাম (kg) তেজস্ক্রিয় পদার্থ অবশিষ্ট থাকবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.০১ kg

    1. তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ক্ষেত্রে অর্ধায়ুর সংখ্যা n = t / T_half সূত্র দিয়ে নির্ণয় করা হয়।
    n=tT1/2n = \frac{t}{T_{1/2}}
    1. এখানে মোট সময় t = ১৮ দিন এবং অর্ধায়ু T_half = ৬ দিন; সুতরাং অর্ধায়ুর সংখ্যা n = ১৮ / ৬ = ৩।
    2. অবশিষ্ট ভরের সূত্র: m = m₀ × (১/২)ⁿ = ০.০৮ × (১/২)³ = ০.০৮ / ৮ = ০.০১ kg।
    m=m0(12)n=0.08×(12)3=0.01 kgm = m_0 \left(\frac{1}{2}\right)^n = 0.08 \times \left(\frac{1}{2}\right)^3 = 0.01\text{ kg}
  2. বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষণাগারে সংরক্ষিত একটি স্বল্পায়ু তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের নমুনার প্রারম্ভিক সক্রিয়তা (activity) ছিল ৯৬০০ Bq। আইসোটোপটির অর্ধায়ু ১২ s হলে, কত সেকেন্ড (s) পর নমুনাটির সক্রিয়তা কমে ৬০০ Bq হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৮ s

    1. তেজস্ক্রিয় সক্রিয়তার হ্রাস সূত্র: A = A₀ × (১/২)ⁿ, যেখানে n হলো অতিক্রান্ত অর্ধায়ুর সংখ্যা।
    A=A0(12)nA = A_0 \left(\frac{1}{2}\right)^n
    1. মান বসিয়ে পাই, ৬০০ = ৯৬০০ × (১/২)ⁿ ⇒ (১/২)ⁿ = ৬০০ / ৯৬০০ = ১/১৬ = (১/২)⁴; অর্থাৎ n = ৪।
    (12)n=6009600=116=(12)4  ⟹  n=4\left(\frac{1}{2}\right)^n = \frac{600}{9600} = \frac{1}{16} = \left(\frac{1}{2}\right)^4 \implies n = 4
    1. মোট সময় t = n × T_half = ৪ × ১২ = ৪৮ s।
    t=n×T1/2=4×12 s=48 st = n \times T_{1/2} = 4 \times 12\text{ s} = 48\text{ s}
  3. তেজস্ক্রিয়তা কোন ধরনের ঘটনা?

    1. ক

      বাহ্যিক তাপে সংঘটিত রাসায়নিক ঘটনা

    2. খ

      অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসের স্বতঃস্ফূর্ত ভাঙনের ঘটনা

    3. গ

      পরমাণুর বহিঃস্থ ইলেকট্রনের স্থানান্তরের ঘটনা

    4. ঘ

      বাহ্যিক চাপে সংঘটিত আণবিক ভাঙনের ঘটনা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসের স্বতঃস্ফূর্ত ভাঙনের ঘটনা

    1. অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে বিকিরণ নির্গত করে। এই ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো