পড়ার নোট
উন্নয়নের জন্য শক্তি দরকার, কিন্তু শক্তি পেতে গিয়ে অনেক সময় পরিবেশের ক্ষতি হয়। তাই এখন মানুষ পরিবেশের ক্ষতি না করে, প্রকৃতির সাথে বিরোধ না করে শক্তি ব্যবহার করতে চায়।
ফসিল জ্বালানি
তেল, গ্যাস ও কয়লায় কার্বনের পরিমাণ অনেক। এগুলো পুড়িয়ে তাপশক্তি তৈরির সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, যা একটি গ্রিনহাউস গ্যাস: এটি পৃথিবীতে তাপ ধরে রাখে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। একে বৈশ্বিক উষ্ণতা বলে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হবে, বাংলাদেশ তাদের একটি। তাই পৃথিবীর সব দেশ মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করছে।
নিউক্লিয়ার শক্তি
নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে না। কিন্তু এর বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়, এবং তেজস্ক্রিয়তা নিরাপদ মাত্রায় নামতে লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে কেন্দ্রগুলো অনেক নিরাপদ হলেও মানুষের ভুল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে; উদাহরণ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল এবং জাপানের ফুকুশিমা।
নবায়নযোগ্য শক্তি
পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতিকর প্রভাব তুলনামূলক কম। তবে জলবিদ্যুতের জন্য নদীতে বাঁধ দিলে একদিকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে বাঁধের পরের এলাকায় তীব্র খরা হতে পারে। বায়ু টারবাইন একটি থামের উপর বসে বলে জায়গা কম নষ্ট হয়, তাই পরিবেশবাদীরা এটি পছন্দ করেন।
উদাহরণ: একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত দিক তুলনা করো।
| বিদ্যুৎকেন্দ্র | প্রধান ঝুঁকি |
|---|---|
| কয়লা | কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ, বৈশ্বিক উষ্ণতা |
| নিউক্লিয়ার | তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, দুর্ঘটনার ঝুঁকি |
| সৌর | ক্ষতি তুলনামূলক কম; রাতে ও মেঘে উৎপাদন অনিয়মিত |
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে নবায়নযোগ্য শক্তি মানেই পরিবেশের কোনো ক্ষতি নেই। জলবিদ্যুতের বাঁধ প্লাবন ও খরা দুটিই ঘটাতে পারে।
মনে রাখো: ফসিল জ্বালানি পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়, নিউক্লিয়ার শক্তিতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকি থাকে, আর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতি তুলনামূলক কম।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।