পড়ার নোট
পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যার মধ্যে ওই মৌলের বৈশিষ্ট্য থাকে। নাইট্রোজেন পরমাণু নাইট্রোজেনের এবং অক্সিজেন পরমাণু অক্সিজেনের পরিচয় বহন করে। একটি পরমাণুকে বোঝাতে সংশ্লিষ্ট মৌলের প্রতীক ব্যবহার করা যায়, যেমন অক্সিজেনের জন্য O এবং কার্বনের জন্য C।
দুই বা তার বেশি পরমাণু রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। এখানে শুধু পাশাপাশি থাকা যথেষ্ট নয়; পরমাণুগুলোর মধ্যে রাসায়নিক বন্ধন থাকতে হবে। অণু বোঝার সময় দুটি প্রশ্ন করবে: এতে মোট কতটি পরমাণু আছে এবং সেগুলো কয় ধরনের মৌলের পরমাণু?
মৌলের অণু গঠিত হয় একই মৌলের একাধিক পরমাণু যুক্ত হলে। দুটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু গঠন করে। একইভাবে নাইট্রোজেনের অণু -তে দুটি নাইট্রোজেন পরমাণু থাকে। পরমাণুর সংখ্যা দুই হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে মৌলের ধরন একটি। তাই এগুলো যৌগ নয়।
যৌগের অণু গঠিত হয় ভিন্ন মৌলের পরমাণু যুক্ত হলে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের অণু -তে একটি কার্বন ও দুটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। অর্থাৎ মোট তিনটি পরমাণু, কিন্তু মৌল দুই ধরনের। পানির অণু -তেও তিনটি পরমাণু থাকে—দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন। এখানে C, O, H ও N যথাক্রমে কার্বন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেনের প্রতীক; নিচের সংখ্যা পরমাণুর গণনা, কোনো SI একক নেই।
বাংলাদেশের বাড়ি বা বিদ্যালয়ের চারপাশের বাতাসে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মতো মৌলের অণু এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো যৌগের অণু থাকে। একই বাতাসে উপস্থিত থাকলেই এসব অণু মিলে একটি নতুন অণু হয়ে যায় না। রান্নাঘরে ভাত রান্নার পানির প্রতিটি পানির অণুতেও হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নির্দিষ্ট সংখ্যায় যুক্ত থাকে।
একটি অণু চিনতে আগে প্রতীকগুলো পড়বে, তারপর প্রতিটি মৌলের পরমাণু গুনবে। শুধু মোট পরমাণু গুনে মৌলের অণু ও যৌগের অণুর পার্থক্য করা যায় না; মৌলের ধরনও দেখতে হয়।
সাধারণ ভুল হলো O ও -কে একই অর্থে ব্যবহার করা, অথবা দুটি পরমাণু আছে বলেই অক্সিজেন অণুকে যৌগ বলা। O একটি অক্সিজেন পরমাণু বোঝাতে পারে, আর দুটি যুক্ত অক্সিজেন পরমাণুর অণু বোঝায়।
মনে রাখো: অণুতে যুক্ত পরমাণুগুলো একই মৌলের হলে মৌলের অণু, ভিন্ন মৌলের হলে যৌগের অণু।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।