পড়ার নোট
মৌলিক পদার্থ বা মৌল হলো এমন বিশুদ্ধ পদার্থ, যাকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো মৌল পাওয়া যায় না। যৌগিক পদার্থ বা যৌগ হলো এমন পদার্থ, যাকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক ভিন্ন মৌল পাওয়া যায়। এই দুই ধরনের পদার্থ চেনার জন্য তাদের উপাদান ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফল বিবেচনা করতে হয়।
সোনা, রুপা ও লোহা মৌলের উদাহরণ। বিশুদ্ধ সোনার টুকরো ছোট করলে ছোট সোনার টুকরোই পাওয়া যায়। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সালফারও মৌল। তাই মৌল বলতে শুধু ধাতব পদার্থ বোঝায় না। মোট ১১৮টি মৌলের মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। গবেষণাগারে তৈরি মৌলগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে।
পানি ও লেখার চক যৌগের পরিচিত উদাহরণ। পানির রাসায়নিক বিশ্লেষণে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। লেখার চকের উপাদান হলো ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন। এখানে ‘ভাঙা’ বলতে রাসায়নিক বিশ্লেষণ বোঝানো হচ্ছে। চক গুঁড়ো করলেই এই তিনটি মৌল আলাদা হয়ে যায় না; গুঁড়োগুলোও চক থাকে।
মৌল ও যৌগের প্রধান পার্থক্য:
| তুলনার বিষয় | মৌল | যৌগ |
|---|---|---|
| উপাদান | এক ধরনের মৌল | দুই বা ততোধিক ভিন্ন মৌল |
| রাসায়নিক বিশ্লেষণ | অন্য মৌল পাওয়া যায় না | উপাদান মৌল পাওয়া যায় |
| উদাহরণ | লোহা, অক্সিজেন | পানি, লেখার চক |
যৌগের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে:
- একটি নির্দিষ্ট যৌগে উপাদান মৌলগুলোর পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত নির্দিষ্ট থাকে। পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর অনুপাত । এটি পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত, ভরের অনুপাত নয়; এর কোনো একক নেই। পুকুর, নলকূপ বা বৃষ্টির পানিতে থাকা পানি যৌগটির ক্ষেত্রে একই অনুপাত প্রযোজ্য।
- যৌগের ধর্ম উপাদান মৌলের ধর্ম থেকে আলাদা। সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস হলেও তাদের তৈরি পানি তরল। তাই উপাদানের ধর্ম দেখেই যৌগের ধর্ম নির্ধারণ করা যায় না।
মনে রাখো: মৌল থেকে রাসায়নিক বিশ্লেষণে অন্য মৌল পাওয়া যায় না, কিন্তু যৌগ থেকে নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকা দুই বা ততোধিক মৌল পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।