পড়ার নোট
সবাত শ্বসন
যে শ্বসনে অক্সিজেন লাগে এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণ জারিত হয়ে , ও বিপুল শক্তি তৈরি হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে। এটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন:
শক্তি ( kcal/mole)
একটি গ্লুকোজ অণু সম্পূর্ণ জারিত হয়ে অণু , অণু পানি এবং অণু ATP তৈরি করে। এর চারটি ধাপ:
- গ্লাইকোলাইসিস: সাইটোপ্লাজমে একটি গ্লুকোজ ভেঙে দুটি পাইরুভিক এসিড হয়; অক্সিজেন লাগে না। এটি সবাত ও অবাত দুই শ্বসনেরই প্রথম ধাপ।
- অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি: প্রতিটি পাইরুভিক এসিড থেকে অ্যাসিটাইল কো-এ, একটি ও একটি তৈরি হয়।
- ক্রেবস চক্র: মাইটোকন্ড্রিয়ায় অ্যাসিটাইল কো-এ জারিত হয়ে তৈরি করে। স্যার হ্যান্স ক্রেবসের নামে এর নাম।
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম: মাইটোকন্ড্রিয়ায় ও জারিত হয়ে সবচেয়ে বেশি ATP ও পানি তৈরি হয়।
অবাত শ্বসন
অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে এনজাইমের সাহায্যে শ্বসনিক বস্তু আংশিক জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল ও অথবা শুধু ল্যাকটিক এসিড এবং অল্প শক্তি তৈরি হলে তাকে অবাত শ্বসন বলে:
শক্তি ( kcal/mole)
এর দুটি ধাপ: গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ (গ্লাইকোলাইসিসের মতো) এবং সাইটোপ্লাজমে পাইরুভিক এসিডের অসম্পূর্ণ বিজারণ। অক্সিজেন না থাকায় পরের ধাপে ATP তৈরি হয় না, তাই প্রতি গ্লুকোজে মাত্র অণু ATP মেলে। ব্যাকটেরিয়া ও ইস্টের মতো কিছু অণুজীবে এটি ঘটে।
উদাহরণ: দুই শ্বসনে প্রতি মোল গ্লুকোজে শক্তির তুলনা করি: । অর্থাৎ সবাত শ্বসনে অবাত শ্বসনের চেয়ে প্রায় গুণ বেশি শক্তি পাওয়া যায়, আর ATP এর হিসাবে বনাম ।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে অবাত শ্বসনে কোনো শক্তি তৈরি হয় না। শক্তি তৈরি হয়, তবে অনেক কম, কারণ গ্লুকোজ সম্পূর্ণ ভাঙে না।
মনে রাখো: সবাত শ্বসনে অক্সিজেন লাগে, গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয় এবং ATP মেলে; অবাত শ্বসনে অক্সিজেন লাগে না, জারণ আংশিক এবং মাত্র ATP মেলে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।