পড়ার নোট
চলন, ক্ষত সারানো, বৃদ্ধি ও প্রজননের মতো জীবনের সব কাজে শক্তি লাগে। সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শর্করায় স্থিতিশক্তি হিসেবে জমা রাখে, কিন্তু খাদ্যে সঞ্চিত এই শক্তি জীব সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। শ্বসন প্রক্রিয়ায় এই স্থিতিশক্তি ATP হিসেবে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং কিছু শক্তি তাপ হিসেবে বের হয়। এই শক্তিই বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে লাগে।
শ্বসনে শর্করা, চর্বি, প্রোটিন ও বিভিন্ন জৈব এসিড জাতীয় শ্বসনিক বস্তু ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং শক্তি ATP তে জমা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জীবদেহে দিনরাত সবসময় শ্বসন চলে। উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশে, যেমন পুষ্পমুকুল ও পার্শ্বমুকুল, অঙ্কুরিত বীজ এবং কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে শ্বসনের হার বেশি। শ্বসন ঘটে কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়ায়।
অক্সিজেনের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে শ্বসন দুই প্রকার: সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন।
শ্বসনের প্রভাবক
- বাহ্যিক: তাপমাত্রা (– উপযুক্ত; এর কম বা বেশিতে হার কমে), অক্সিজেন (সবাত শ্বসনে অপরিহার্য), পানি (খুব কম বা বেশি হলে শ্বসন ব্যাহত হয়), আলো (সরাসরি না লাগলেও দিনে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় হার বেশি) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (বাতাসে বেশি হলে হার কমে)।
- অভ্যন্তরীণ: খাদ্যবস্তুর পরিমাণ ও ধরন, এনজাইম, কোষের বয়স (তরুণ কোষে হার বেশি), অজৈব লবণ এবং কোষের ভেতরের পানি।
উদাহরণ: একটি থার্মোফ্লাস্কে ভেজা অঙ্কুরিত ছোলা আর আরেকটিতে সিদ্ধ করা (মৃত) ছোলা রেখে প্রতিটিতে থার্মোমিটার বসাও। কয়েক ঘণ্টা পর অঙ্কুরিত ছোলার ফ্লাস্কের তাপমাত্রা বেশি দেখা যায়, কারণ জীবিত বীজের শ্বসনে শক্তির একটি অংশ তাপ হিসেবে বের হয়। তাপমাত্রার একক এখানে ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাধারণ ভুল হলো শ্বসন আর শ্বাসক্রিয়া (নিঃশ্বাস নেওয়া-ছাড়া) একই ভাবা। শ্বসন কোষের ভেতরের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা উদ্ভিদেও দিনরাত চলে; উদ্ভিদ শুধু দিনে সালোকসংশ্লেষণ করে, কিন্তু শ্বসন সারাক্ষণই চলে।
মনে রাখো: শ্বসনে খাদ্যের স্থিতিশক্তি ATP তে রূপ নেয় এবং কিছু তাপ বের হয়; এটি সব জীবকোষে দিনরাত চলে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।