offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৪ · টপিক ৭

শ্বসন

পড়ার নোট

চলন, ক্ষত সারানো, বৃদ্ধি ও প্রজননের মতো জীবনের সব কাজে শক্তি লাগে। সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শর্করায় স্থিতিশক্তি হিসেবে জমা রাখে, কিন্তু খাদ্যে সঞ্চিত এই শক্তি জীব সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। শ্বসন প্রক্রিয়ায় এই স্থিতিশক্তি ATP হিসেবে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং কিছু শক্তি তাপ হিসেবে বের হয়। এই শক্তিই বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে লাগে।

শ্বসনে শর্করা, চর্বি, প্রোটিন ও বিভিন্ন জৈব এসিড জাতীয় শ্বসনিক বস্তু ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং শক্তি ATP তে জমা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জীবদেহে দিনরাত সবসময় শ্বসন চলে। উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশে, যেমন পুষ্পমুকুল ও পার্শ্বমুকুল, অঙ্কুরিত বীজ এবং কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে শ্বসনের হার বেশি। শ্বসন ঘটে কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়ায়।

অক্সিজেনের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে শ্বসন দুই প্রকার: সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন।

শ্বসনের প্রভাবক

  • বাহ্যিক: তাপমাত্রা (2020–45 ∘C45\,^{\circ}\mathrm{C} উপযুক্ত; এর কম বা বেশিতে হার কমে), অক্সিজেন (সবাত শ্বসনে অপরিহার্য), পানি (খুব কম বা বেশি হলে শ্বসন ব্যাহত হয়), আলো (সরাসরি না লাগলেও দিনে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় হার বেশি) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (বাতাসে বেশি হলে হার কমে)।
  • অভ্যন্তরীণ: খাদ্যবস্তুর পরিমাণ ও ধরন, এনজাইম, কোষের বয়স (তরুণ কোষে হার বেশি), অজৈব লবণ এবং কোষের ভেতরের পানি।

উদাহরণ: একটি থার্মোফ্লাস্কে ভেজা অঙ্কুরিত ছোলা আর আরেকটিতে সিদ্ধ করা (মৃত) ছোলা রেখে প্রতিটিতে থার্মোমিটার বসাও। কয়েক ঘণ্টা পর অঙ্কুরিত ছোলার ফ্লাস্কের তাপমাত্রা বেশি দেখা যায়, কারণ জীবিত বীজের শ্বসনে শক্তির একটি অংশ তাপ হিসেবে বের হয়। তাপমাত্রার একক এখানে ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সাধারণ ভুল হলো শ্বসন আর শ্বাসক্রিয়া (নিঃশ্বাস নেওয়া-ছাড়া) একই ভাবা। শ্বসন কোষের ভেতরের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা উদ্ভিদেও দিনরাত চলে; উদ্ভিদ শুধু দিনে সালোকসংশ্লেষণ করে, কিন্তু শ্বসন সারাক্ষণই চলে।

মনে রাখো: শ্বসনে খাদ্যের স্থিতিশক্তি ATP তে রূপ নেয় এবং কিছু তাপ বের হয়; এটি সব জীবকোষে দিনরাত চলে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • স্প্রিন্ট দৌড়, অবাত শ্বসন ও এটিপি: পেশি ক্লান্তিচালিয়ে দেখো

    স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দৌড়ে অংশ নিল নবম শ্রেণির ছাত্রী রিমি। তীব্র গতিতে দৌড়ে প্রথম হয়ে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করার পরপরই তার পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভূত হতে লাগল এবং সে হাঁপাতে লাগল। স্বাভাবিক অবস্থায় কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ১ অণু গ্লুকোজ সবাত শ্বসনে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে মোট ৩৮টি ATP উৎপন্ন করে। কিন্তু তীব্র দৌড়ের সময় পেশিকোষে অক্সিজেনের চরম ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে অবাত শ্বসন (ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান) ঘটে। অক্সিজেনের এই ঘাটতিতে রিমির পেশিকোষে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে শেষ পর্যন্ত কতটি ATP অণু উৎপন্ন হয়?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. একটি আমন ধানের চারাগাছের মূলের কোষে সম্পূর্ণ সবাত শ্বসন (aerobic respiration) প্রক্রিয়ায় ১ অণু গ্লুকোজ জারিত হয়ে মোট ৩৮টি ATP অণু উৎপন্ন করে। ওই কোষগুলোতে সবাত শ্বসনের মাধ্যমে মোট ১৯০ mol ATP উৎপাদনের জন্য কত mol গ্লুকোজ (C6H12O6\text{C}_6\text{H}_{12}\text{O}_6) সম্পূর্ণরূপে জারিত হতে হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৫ mol

    1. সবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণে ৩৮ অণু ATP উৎপন্ন হয়। সুতরাং মোলার পরিমাপে ১ mol গ্লুকোজ থেকে ৩৮ mol ATP উৎপন্ন হয়।
    1 mol glucose→38 mol ATP1\text{ mol glucose} \rightarrow 38\text{ mol ATP}
    1. প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের পরিমাণ = মোট উৎপাদিত ATP-এর মোল সংখ্যা ⁄ প্রতি মোল গ্লুকোজ থেকে প্রাপ্ত ATP-এর মোল সংখ্যা = ১৯০ mol ⁄ ৩৮ = ৫ mol।
    nglucose=190 mol38=5 moln_{\text{glucose}} = \frac{190\text{ mol}}{38} = 5\text{ mol}
  2. জীবিত অঙ্কুরিত বীজের ফ্লাস্কে তাপমাত্রা বাড়ার কারণ কোনটি?

    1. ক

      সালোকসংশ্লেষণে আলোকশক্তি সঞ্চিত হওয়া

    2. খ

      প্রস্বেদনে বীজ থেকে পানি বের হওয়া

    3. গ

      অভিস্রবণে বীজের ভেতরে পানি প্রবেশ করা

    4. ঘ

      শ্বসনে খাদ্য ভেঙে তাপশক্তি নির্গত হওয়া

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) শ্বসনে খাদ্য ভেঙে তাপশক্তি নির্গত হওয়া

    1. জীবিত অঙ্কুরিত বীজে শ্বসনের সময় সঞ্চিত খাদ্য ভেঙে শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তির একটি অংশ তাপ হিসেবে বের হয়।
    2. সিদ্ধ বীজে জীবিত কোষের শ্বসন বন্ধ থাকে। তাই তুলনামূলক ফল থেকে শ্বসনে তাপ নির্গমনের বিষয়টি বোঝা যায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো