পড়ার নোট
জীবের প্রতিটি কাজ চলে শ্বসনে উৎপন্ন শক্তি দিয়ে। শ্বসনের গুরুত্ব কয়েকটি দিক থেকে বোঝা যায়।
সবাত শ্বসনের গুরুত্ব:
- শক্তির জোগান: খাদ্যের স্থিতিশক্তি ATP তে রূপ নেয়, যা চলাফেরা, কথা বলা, পরিপাক থেকে শুরু করে সব শারীরবৃত্তীয় কাজে লাগে।
- সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা: শ্বসনে নির্গত সালোকসংশ্লেষণে শর্করা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা জীবের প্রধান খাদ্য।
- খনিজ শোষণ ও বৃদ্ধি: এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদকে খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে বৃদ্ধি ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজ চালায়।
- কোষ বিভাজন: কোষ বিভাজনের শক্তি শ্বসন থেকে আসে, তাই শ্বসন জীবের বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন জৈব এসিড: শ্বসনে তৈরি বিভিন্ন জৈব এসিড জীবনের অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে সাহায্য করে।
অবাত শ্বসনের গুরুত্ব:
- কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না; অবাত শ্বসনই তাদের শক্তির প্রধান উৎস।
- এ প্রক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি হয়, যা শিল্পে কাজে লাগে।
- ল্যাকটিক এসিড তৈরির মাধ্যমে দই ও পনির তৈরি হয়।
- রুটি তৈরিতে ইস্ট অ্যালকোহল ও গ্যাস তৈরি করে; এই রুটিকে ফুলিয়ে তোলে।
উদাহরণ: বাড়িতে দই পাততে গরম দুধে সামান্য পুরোনো দই মেশানো হয়। এর ব্যাকটেরিয়া দুধের শর্করা থেকে অবাত শ্বসনে ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে, ফলে কয়েক ঘণ্টায় দুধ জমে টক দই হয়। একইভাবে আটার খামিতে ইস্ট মেশালে উৎপন্ন এর বুদবুদ খামিকে ফুলিয়ে দেয়।
দুই প্রক্রিয়া মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, সালোকসংশ্লেষণ খাদ্য ও অক্সিজেন তৈরি করে, আর শ্বসন সেই খাদ্য ভেঙে শক্তি ও দেয়; একটির উৎপাদ অন্যটির কাঁচামাল।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে অবাত শ্বসন শুধু ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয়। দই, পনির, রুটি ও শিল্পে অ্যালকোহল তৈরিতে এর সরাসরি ব্যবহার আছে।
মনে রাখো: সবাত শ্বসন জীবের সব কাজের শক্তি জোগায় ও বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে; অবাত শ্বসন কিছু ব্যাকটেরিয়ার শক্তির উৎস এবং দই, পনির, রুটি ও অ্যালকোহল তৈরিতে কাজে লাগে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।