offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৮

নেফ্রনে রক্তের পরিস্রাবণ ও পুনঃশোষণ

মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।

একজন সুস্থ মানুষের দুটি বৃক্কে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ L রক্ত প্রবাহিত হয় এবং গ্লোমেরুলাসে তার ১৫% অর্থাৎ ১৮০ L তরল পরিশ্রুত হয়ে বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। যদি এই পরিশ্রুত তরলের (ফিলট্রেট) ৯৯% পানি ও দরকারি উপাদান রেনাল নালিকায় পুনরায় রক্তে শোষিত (reabsorption) হয়, তবে প্রতিদিন প্রায় কত লিটার মূত্র তৈরি হবে?

১৮০ L ফিলট্রেট থেকে প্রতিদিন প্রায় কত লিটার মূত্র তৈরি হবে?

  1. ১.৮ L (মাত্র ১%) — ফিলট্রেটের প্রায় ৯৯% পানিই রক্তে ফিরে আসে
  2. ৯০ L (৫০%) — শরীর অর্ধেক দরকারি তরল রেখে বাকি অর্ধেক বের করে দেয়
  3. ১৮০ L (১০০%) — রক্ত থেকে ছাঁকা সব তরলই সরাসরি মূত্রে যায়

যা বদলাতে পারবে

  • পুনঃশোষণ হার: ৮০ থেকে ৯৯.৫ %

যা মেপে দেখাবে

  • পরিস্রুত তরল (ফিলট্রেট) (L)
  • রক্তে পুনঃশোষিত তরল (L)
  • দৈনিক মূত্রের পরিমাণ (L)
  • মূত্র হিসেবে নির্গত হার (%)

চালানোর সময় খেয়াল করো

  • পুনঃশোষণ হার বাড়িয়ে ৯৯% করো। লক্ষ্য করো মূত্রের পরিমাণ ১৮ L থেকে কমে কতটা হয়!

নিজে করে দেখো

  1. একটি রোগে বৃক্কনালি কম পানি পুনঃশোষণ করে এবং রোগী দিনে ৯ লিটার মূত্র ত্যাগ করে। পুনঃশোষণের হার সেট করো।
    ইঙ্গিত

    মূত্র = ছাঁকা তরল × (১ − পুনঃশোষণের হার)।

ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।

বৃক্কের ছাঁকন ও নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ

Vurine=Vfiltrate×(1−Reabsorption%100)V_{\text{urine}} = V_{\text{filtrate}} \times \left(1 - \frac{\text{Reabsorption\%}}{100}\right)

নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস একটি অতিসূক্ষ্ম ছাঁকনির মতো কাজ করে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্তরস পরিশ্রুত করে বোম্যান্স ক্যাপসুলে পাঠায়। কিন্তু শরীর এই বিপুল পরিমাণ পানি হারালে কয়েক মিনিটেই মৃত্যু ঘটবে। তাই রেনাল নালিকার চারপাশের রক্তজালক দিয়ে ফিলট্রেটের প্রায় ৯৯% পানি, গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ পুনরায় রক্তে শোষিত হয়। অবশিষ্ট মাত্র প্রায় ১% (১.৫–১.৮ লিটার) তরল মূত্র হিসেবে শরীর থেকে নির্গত হয়।

অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল

যদি পরিশ্রুত হওয়া তরল পুনঃশোষিত না হতো, তবে দিনে ১৮০ লিটার বা অর্ধেক পুনঃশোষিত হলেও দিনে ৯০ লিটার মূত্র তৈরি হতো! শরীরকে স্বাভাবিক ও আর্দ্র রাখতে বৃক্কের ৯৯% পানি পুনঃশোষণ করা অত্যাবশ্যক।

যেসব ভুল ধারণা হয়

  • পরিশ্রুত তরলের প্রায় অর্ধেক অপচয় হিসেবে মূত্রে বের হয়ে যায়
  • বৃক্কে পরিশ্রুত হওয়া সব তরলই সরাসরি মূত্রে পরিণত হয়

বাস্তবে কোথায় দেখা যায়

  • গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম হলে এডিএইচ (ADH) হরমোনের প্রভাবে বৃক্কে পানির পুনঃশোষণ বেড়ে গিয়ে মূত্র ঘন ও কম তৈরি হয়, যা পানিশূন্যতা রোধ করে।
  • ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস বা কিডনি অকার্যকর হলে পুনঃশোষণ ব্যাহত হয়, ফলে রোগী বারবার অতিরিক্ত মূত্র ত্যাগ করে গুরুতর দুর্বলতায় ভোগে।

পাঠ্যবইয়ের টপিক