ডায়ালাইসিস তরলে গ্লুকোজ কেন রাখা হয়?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
কিডনি বিকল হওয়ায় করিম চাচা সপ্তাহে তিনবার হাসপাতালে ডায়ালাইসিস নেন। যন্ত্রে তাঁর রক্ত একটি পাতলা পর্দার পাশ দিয়ে বয়, পর্দার ওপারে ডায়ালাইসিস তরল। এই তরলে রক্তের মতো স্বাভাবিক মাত্রার গ্লুকোজ থাকে। তরলে গ্লুকোজ না রাখলে চাচার রক্তের গ্লুকোজের কী হতো?
তরলে গ্লুকোজ না থাকলে রক্তের গ্লুকোজ?
- ইউরিয়ার মতোই পর্দা পেরিয়ে তরলে চলে যেত, রক্তে কমে যেত
- একই থাকত, পর্দা শুধু বর্জ্য পার হতে দেয়
- বেড়ে যেত
- কমত, সঙ্গে প্রোটিনও বেরিয়ে যেত
যা বদলাতে পারবে
- ডায়ালাইসিসের সময়: ০ থেকে ২৪০ min
- তরলে স্বাভাবিক গ্লুকোজ: চালু বা বন্ধ
যা মেপে দেখাবে
- রক্তে ইউরিয়া বাকি (%)
- রক্তে গ্লুকোজ বাকি (%)
- রক্তে প্রোটিন বাকি (%)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- সময় বাড়িয়ে ইউরিয়া, গ্লুকোজ আর প্রোটিন একসঙ্গে দেখো।
নিজে করে দেখো
- রক্তের অন্তত ৯০% ইউরিয়া সরাও।
ইঙ্গিত
সময় বাড়াও।
- এমন অবস্থা দেখাও যেখানে রক্ত থেকে গ্লুকোজও হারায়।
ইঙ্গিত
তরলের গ্লুকোজ সরিয়ে দাও।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
ডায়ালাইসিস
কিডনি রক্ত ছেঁকে ইউরিয়া ও বাড়তি লবণ-পানি বের করে দেয়। কিডনি বিকল হলে এগুলো রক্তে জমে বিষক্রিয়া করে; তখন হিমোডায়ালাইসিস যন্ত্রে রক্তকে একটি অর্ধভেদ্য পর্দার পাশ দিয়ে চালানো হয়, ওপারে বিপরীত দিকে বয় ডায়ালাইসিস তরল। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছোট অণু বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে পর্দা পেরোয়: তরলে ইউরিয়া নেই, তাই রক্তের ইউরিয়া তরলে চলে যায়। প্রোটিন আর রক্তকণিকা বড়, পর্দা পেরোতে পারে না। গ্লুকোজও ছোট অণু, তাই তরলে স্বাভাবিক মাত্রার গ্লুকোজ ও লবণ রাখা হয়, যাতে দুই পাশে সমান থাকায় সেগুলো রক্ত থেকে হারিয়ে না যায়। প্রতি সেশনে প্রায় চার ঘণ্টা লাগে। কিডনি প্রতিস্থাপন হলো স্থায়ী সমাধান।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
পর্দা চিনে চিনে বর্জ্য বাছে না, আকার দেখে ছোট সব অণুকে যেতে দেয়। গ্লুকোজ ছোট, তাই তরলে না থাকলে ব্যাপনে রক্ত থেকে তরলে চলে যেত।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- ডায়ালাইসিস পর্দা শুধু বর্জ্য চিনে পার হতে দেয়
- ব্যাপনে অণু কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বে যায়
- পর্দা দিয়ে সব অণু, প্রোটিনও, পার হয়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, লবণ কম খাওয়া আর ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কিডনি রক্ষা করে।