পড়ার নোট
বৃক্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো হলে রক্ত থেকে বর্জ্য সরানো বন্ধ হয়ে যায়। তখন যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃত্রিমভাবে রক্ত ছেঁকে পরিশোধন করা হয়, তাকে ডায়ালাইসিস বলে। সাধারণত ডায়ালাইসিস যন্ত্র বা কিডনি মেশিন দিয়ে এ কাজ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
- রোগীর কবজির ধমনির সাথে ডায়ালাইসিস যন্ত্রের নলের এক প্রান্ত এবং একই কবজির শিরার সাথে অন্য প্রান্ত যুক্ত করা হয়।
- ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস নলে প্রবেশ করে।
- ডায়ালাইসিস নলের প্রাচীর বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে তৈরি। নলটি রক্তরসের মতো একটি তরলে (ডায়ালাইসিস তরল) ডোবানো থাকে।
- ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ পর্দা ভেদ করে ডায়ালাইসিস তরলে চলে যায়।
- পরিশোধিত রক্ত শিরা দিয়ে রোগীর দেহে ফিরে যায়।
এভাবে ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য যন্ত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়। রোগীকে নিয়মিত বিরতিতে এভাবে রক্ত পরিশোধন করাতে হয়।
সীমাবদ্ধতা
পদ্ধতিটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, আর বারবার করাতে হয়। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. শুভ রায় মানবদেহে প্রতিস্থাপনযোগ্য একটি কৃত্রিম বৃক্ক উদ্ভাবন করেছেন।
উদাহরণ: ডায়ালাইসিস যন্ত্র ও নেফ্রনের তুলনা করো।
| বিষয় | নেফ্রন | ডায়ালাইসিস যন্ত্র |
|---|---|---|
| ছাঁকনি | গ্লোমেরুলাস | বৈষম্যভেদ্য পর্দার নল |
| রক্ত প্রবেশ | অন্তর্মুখী ধমনিকা দিয়ে | কবজির ধমনি থেকে |
| বর্জ্য যায় | মূত্রে | ডায়ালাইসিস তরলে |
| পরিশোধিত রক্ত ফেরে | শিরা দিয়ে | কবজির শিরা দিয়ে |
| কখন চলে | অবিরাম | নির্দিষ্ট সময় পরপর |
ডায়ালাইসিস যন্ত্র নেফ্রনের ছাঁকার কাজটি বাইরে থেকে করে দেয়, কিন্তু বৃক্কের মতো সারাক্ষণ চলে না।
সাধারণ ভুল হলো ডায়ালাইসিসকে স্থায়ী নিরাময় ভাবা। এটি বিকল বৃক্কের কাজ কৃত্রিমভাবে চালায়, বৃক্ক সারায় না; তাই নিয়মিত করাতে হয়।
মনে রাখো: ডায়ালাইসিস হলো বিকল বৃক্কের রোগীর রক্ত বৈষম্যভেদ্য পর্দার নলের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ছেঁকে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য সরানোর পদ্ধতি; এটি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং নিয়মিত করাতে হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।