পড়ার নোট
তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকল হলো হঠাৎ বৃক্কের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়া, যার ফলে রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি যথাযথভাবে অপসারিত হয় না। এতে মূত্র তৈরি ও দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা দেখা দেয়।
কারণ ও লক্ষণ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হঠাৎ বৃক্ক বিকলের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও পাথরের কারণে বৃক্কের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরেও নষ্ট হতে পারে। তাই সব ধরনের বৃক্ক বিকলকে তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকল বলা যায় না।
বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে সমস্যাগুলো পরপর এভাবে দেখা দিতে পারে:
- বর্জ্য অপসারণ কমে যাওয়ায় রক্তে বর্জ্য জমতে থাকে। রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিন, অর্থাৎ একটি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ধরা পড়তে পারে।
- প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয়; প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে বা বন্ধ হতে পারে।
- অতিরিক্ত পানি বের হতে না পারলে চোখ-মুখসহ শরীর ফুলে যেতে পারে এবং রক্তচাপ বাড়তে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত বা জ্বালাপোড়াও বৃক্ক ও মূত্রনালীর সমস্যার সতর্কসংকেত। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে বৃক্ক বিকল নিশ্চিত করা যায় না; চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।
করণীয়
- প্রস্রাব হঠাৎ কমে গেলে বা শরীর ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। লক্ষণ উপেক্ষা করে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
- চিকিৎসকের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃক্কের সমস্যা মূল্যায়নে সাহায্য করে।
- ডায়রিয়া বা রক্তক্ষরণের মতো কারণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
- প্রয়োজনে চিকিৎসক ডায়ালাইসিস, অর্থাৎ বিশেষ পদ্ধতিতে রক্তের ক্ষতিকর বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করতে পারেন। এটি নির্দিষ্ট বিরতিতে করতে হতে পারে।
মনে রাখো: হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়া ও শরীর ফুলে যাওয়া অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।