পড়ার নোট
বৃক্কে পাথরের চিকিৎসা নির্ভর করে পাথরের আকার ও অবস্থানের উপর। তাই প্রথমে চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন পাথর কত বড় এবং কোথায় আছে।
চিকিৎসার পদ্ধতি
পাথর অপসারণের কয়েকটি পদ্ধতি:
- ইউরেটারোস্কোপিক পদ্ধতি: মূত্রপথ দিয়ে যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে পাথর বের করা।
- আলট্রাসনিক লিথোট্রিপসি: শব্দতরঙ্গের সাহায্যে পাথর ভেঙে ছোট টুকরা করা, যাতে টুকরাগুলো মূত্রের সাথে বের হয়ে যায়।
- অস্ত্রোপচার (অপারেশন): প্রয়োজনে কেটে পাথর বের করা।
কোন পদ্ধতি লাগবে, তা চিকিৎসক পাথরের আকার ও অবস্থান দেখে ঠিক করেন।
প্রতিরোধ: পাথর যেন না হয়
পাথরের কারণগুলো দূর করাই প্রতিরোধের মূল কথা:
- দৈহিক ওজন কমানো: স্থূলতা পাথরের একটি কারণ।
- পর্যাপ্ত পানি পান: কম পানি পান পাথরের কারণ; তবে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত পানিও নয়, তৃষ্ণা অনুযায়ী পান করাই যথেষ্ট।
- কম প্রোটিন খাওয়া: অতিরিক্ত প্রোটিন মূত্রের অম্লতা বাড়ায়।
- বৃক্কের সংক্রমণের দ্রুত চিকিৎসা।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
কোমরের পেছনে একটানা ভোঁতা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর বা প্রস্রাবে বাধা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
উদাহরণ: নিচের কোন অভ্যাস বৃক্কে পাথরের ঝুঁকি কমায়?
| অভ্যাস | ঝুঁকি | কারণ |
|---|---|---|
| ওজন কমানো | কমায় | স্থূলতা দূর হয় |
| কম পানি পান | বাড়ায় | পানির অভাব পাথরের কারণ |
| কম প্রোটিন খাওয়া | কমায় | মূত্রের অম্লতা কমে |
| তৃষ্ণা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান | কমায় | মূত্র যথেষ্ট পাতলা থাকে |
অর্থাৎ ওজন কমানো ও কম প্রোটিন খাওয়া ঝুঁকি কমায়, কিন্তু কম পানি পান ঝুঁকি বাড়ায়।
সাধারণ ভুল হলো সব পাথরের জন্য একই চিকিৎসা আশা করা। ছোট পাথর ভেঙে বের করা যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন লাগে; সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক।
মনে রাখো: বৃক্কে পাথরের চিকিৎসা পাথরের আকার ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে এবং ইউরেটারোস্কোপিক পদ্ধতি, আলট্রাসনিক লিথোট্রিপসি বা অপারেশনে পাথর অপসারণ করা হয়; ওজন কমানো, পর্যাপ্ত পানি পান ও কম প্রোটিন খাওয়া পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।