পড়ার নোট
কিছু রোগের কারণে বৃক্কের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। তখন বৃক্কে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবে সমস্যা ও বৃক্কে পাথর দেখা দিতে পারে।
বৃক্কের রোগের লক্ষণ
- সারা শরীর ফুলে যাওয়া (পানি জমা)।
- প্রস্রাবের সাথে অ্যালবুমিন বের হওয়া।
- প্রস্রাবে রক্তের ছোপ।
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া।
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রস্রাব কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বৃক্কে পাথর
বৃক্কে তৈরি ছোট পাথরের মতো পদার্থকে বৃক্কের পাথর বলে। যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে, তবে নারীদের চেয়ে পুরুষদের পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কারণ: অতিরিক্ত দৈহিক ওজন (স্থূলতা), বৃক্কে সংক্রমণ এবং প্রয়োজনের চেয়ে কম পানি পান।
লক্ষণ: শুরুতে পাথর তেমন সমস্যা করে না। পাথর নিচে নেমে ইউরেটারে আটকে মূত্রপ্রবাহে বাধা দিলে সমস্যা শুরু হয়: কোমরের পেছনে একটানা ভোঁতা ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।
বৃক্ক বিকল
নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও পাথরের মতো রোগে বৃক্ক ধীরে ধীরে বিকল হতে পারে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হঠাৎ বৃক্ক বিকল হতে পারে। প্রস্রাবে অসুবিধা ও রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বৃক্ক বিকলের লক্ষণ।
উদাহরণ: সুমনের শরীর কিছুদিন ধরে ফুলে আছে, কোমরের পেছনে ব্যথা এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া। কোন লক্ষণ কী নির্দেশ করে?
| লক্ষণ | কী নির্দেশ করে |
|---|---|
| শরীর ফুলে যাওয়া | দেহে পানি জমছে, পানিসাম্যে ত্রুটি |
| কোমরের পেছনে ব্যথা | ইউরেটারে পাথর আটকে থাকতে পারে |
| প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া | বৃক্ক বা মূত্রনালীর রোগ বা সংক্রমণ |
সব লক্ষণ মিলিয়ে বৃক্কের গুরুতর সমস্যার সন্দেহ হয়; চিকিৎসকের পরীক্ষায় নিশ্চিত হতে হবে।
সাধারণ ভুল হলো ব্যথা না থাকলে পাথর নেই ভাবা। পাথর শুরুতে প্রায় কোনো সমস্যা করে না; সমস্যা হয় যখন তা ইউরেটারে নেমে আসে।
মনে রাখো: বৃক্কের রোগে শরীর ফোলা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা রক্ত, জ্বালাপোড়া ও প্রস্রাবের পরিমাণে পরিবর্তন দেখা দেয়; স্থূলতা, সংক্রমণ ও কম পানি পান বৃক্কে পাথরের কারণ, আর পুরুষদের ঝুঁকি বেশি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।