পড়ার নোট
অভিস্রবণ ও অভিস্রবণ চাপ
ষষ্ঠ অধ্যায়ে অভিস্রবণ শেখা হয়েছে। একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দার এক পাশে দ্রবণ এবং অন্য পাশে বিশুদ্ধ দ্রাবক (এখানে পানি) রাখলে বিশুদ্ধ দ্রাবকের দিক থেকে দ্রবণের দিকে অভিস্রবণ ঘটে। দ্রবণের দিক থেকে চাপ দিয়ে এই অভিস্রবণ থামানো যায়; এর জন্য ন্যূনতম যে চাপ লাগে, তাকে ওই দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ বলে।
অসমোরেগুলেশন
জীবদেহে পানি ও লবণের পরিমাণ ও ঘনত্ব এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় যে সামগ্রিক অভিস্রবণ চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। এই প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বা পানিসাম্য বলে।
বৃক্কের ভূমিকা
- সব শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি দরকার, আর দেহের বেশির ভাগ পানি মূত্রের মাধ্যমে বের হয়।
- তাই বৃক্কের প্রধান কাজ পানির ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লোমেরুলাসে রেচন তরল, পানি ও অন্যান্য পদার্থ ছেঁকে আসে; নেফ্রন পুনঃশোষণের মাধ্যমে প্রয়োজনমতো পানি রক্তে ফিরিয়ে নিয়ে পানিসাম্য বজায় রাখে।
- দেহে পানি বেশি হলে কম পানি ফিরিয়ে নেয়, ফলে মূত্র বেশি ও পাতলা হয়; পানি কম হলে বেশি ফিরিয়ে নেয়, ফলে মূত্র কম ও গাঢ় হয়।
পানিসাম্যে গোলমাল হলে
বৃক্ক বিকল হলে দেহে পানি জমে যায়। চোখ-মুখসহ সারা দেহ ফুলে যেতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এগুলো অসমোরেগুলেশনে ত্রুটির লক্ষণ।
উদাহরণ: একই ব্যক্তির দুই দিনের অবস্থা তুলনা করো।
| অবস্থা | দেহের পানি | নেফ্রনে পানির পুনঃশোষণ | মূত্র |
|---|---|---|---|
| শীতের দিনে বেশি পানি পান | বেশি | কম | বেশি, হালকা রঙের |
| গরমে ঘেমে কম পানি পান | কম | বেশি | কম, গাঢ় হলুদ |
দুই ক্ষেত্রেই বৃক্ক রক্তের অভিস্রবণ চাপ প্রায় একই রাখার চেষ্টা করে। গাঢ় মূত্রে পানি কম, কিন্তু ইউরোক্রোম প্রায় একই থাকায় রং গাঢ় দেখায়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে প্রয়োজন ছাড়া যত বেশি পানি খাওয়া যায় ততই ভালো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বের করতে বৃক্ককে বাড়তি কাজ করতে হয়; তৃষ্ণা মেটানোর মতো পানি পান করাই যথেষ্ট।
মনে রাখো: অসমোরেগুলেশন হলো দেহে পানি ও লবণ নিয়ন্ত্রণ করে অভিস্রবণ চাপ প্রায় স্থির রাখা; বৃক্কের নেফ্রন পুনঃশোষণের মাধ্যমে এ কাজ করে, আর বৃক্ক বিকল হলে দেহ ফুলে যায় ও রক্তচাপ বাড়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।