offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৮ · টপিক ১১

অসমোরেগুলেশনে বৃক্কের ভূমিকা

পড়ার নোট

অভিস্রবণ ও অভিস্রবণ চাপ

ষষ্ঠ অধ্যায়ে অভিস্রবণ শেখা হয়েছে। একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দার এক পাশে দ্রবণ এবং অন্য পাশে বিশুদ্ধ দ্রাবক (এখানে পানি) রাখলে বিশুদ্ধ দ্রাবকের দিক থেকে দ্রবণের দিকে অভিস্রবণ ঘটে। দ্রবণের দিক থেকে চাপ দিয়ে এই অভিস্রবণ থামানো যায়; এর জন্য ন্যূনতম যে চাপ লাগে, তাকে ওই দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ বলে।

অসমোরেগুলেশন

জীবদেহে পানি ও লবণের পরিমাণ ও ঘনত্ব এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় যে সামগ্রিক অভিস্রবণ চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। এই প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বা পানিসাম্য বলে।

বৃক্কের ভূমিকা

  • সব শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি দরকার, আর দেহের বেশির ভাগ পানি মূত্রের মাধ্যমে বের হয়।
  • তাই বৃক্কের প্রধান কাজ পানির ভারসাম্য রক্ষা।
  • গ্লোমেরুলাসে রেচন তরল, পানি ও অন্যান্য পদার্থ ছেঁকে আসে; নেফ্রন পুনঃশোষণের মাধ্যমে প্রয়োজনমতো পানি রক্তে ফিরিয়ে নিয়ে পানিসাম্য বজায় রাখে।
  • দেহে পানি বেশি হলে কম পানি ফিরিয়ে নেয়, ফলে মূত্র বেশি ও পাতলা হয়; পানি কম হলে বেশি ফিরিয়ে নেয়, ফলে মূত্র কম ও গাঢ় হয়।

পানিসাম্যে গোলমাল হলে

বৃক্ক বিকল হলে দেহে পানি জমে যায়। চোখ-মুখসহ সারা দেহ ফুলে যেতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এগুলো অসমোরেগুলেশনে ত্রুটির লক্ষণ।

উদাহরণ: একই ব্যক্তির দুই দিনের অবস্থা তুলনা করো।

অবস্থাদেহের পানিনেফ্রনে পানির পুনঃশোষণমূত্র
শীতের দিনে বেশি পানি পানবেশিকমবেশি, হালকা রঙের
গরমে ঘেমে কম পানি পানকমবেশিকম, গাঢ় হলুদ

দুই ক্ষেত্রেই বৃক্ক রক্তের অভিস্রবণ চাপ প্রায় একই রাখার চেষ্টা করে। গাঢ় মূত্রে পানি কম, কিন্তু ইউরোক্রোম প্রায় একই থাকায় রং গাঢ় দেখায়।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে প্রয়োজন ছাড়া যত বেশি পানি খাওয়া যায় ততই ভালো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বের করতে বৃক্ককে বাড়তি কাজ করতে হয়; তৃষ্ণা মেটানোর মতো পানি পান করাই যথেষ্ট।

মনে রাখো: অসমোরেগুলেশন হলো দেহে পানি ও লবণ নিয়ন্ত্রণ করে অভিস্রবণ চাপ প্রায় স্থির রাখা; বৃক্কের নেফ্রন পুনঃশোষণের মাধ্যমে এ কাজ করে, আর বৃক্ক বিকল হলে দেহ ফুলে যায় ও রক্তচাপ বাড়ে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • নেফ্রনে রক্তের পরিস্রাবণ ও পুনঃশোষণচালিয়ে দেখো

    একজন সুস্থ মানুষের দুটি বৃক্কে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ L রক্ত প্রবাহিত হয় এবং গ্লোমেরুলাসে তার ১৫% অর্থাৎ ১৮০ L তরল পরিশ্রুত হয়ে বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। যদি এই পরিশ্রুত তরলের (ফিলট্রেট) ৯৯% পানি ও দরকারি উপাদান রেনাল নালিকায় পুনরায় রক্তে শোষিত (reabsorption) হয়, তবে প্রতিদিন প্রায় কত লিটার মূত্র তৈরি হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা কম পানি পান করলে মূত্রের পরিমাণ কমে এবং তা গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করে কেন? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে শারীরবৃত্তীয় কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    অতিরিক্ত ঘাম বা কম পানি পানের কারণে রক্তে পানির ঘাটতি দেখা দিলে অভিস্রবণিক ভারসাম্য (osmoregulation) রক্ষার্থে পিটুইটারি হরমোনের প্রভাবে নেফ্রনের রেনাল নালিকায় পানির পুনঃশোষণ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে অধিকাংশ পানি রক্তে ফিরে গিয়ে মূত্রের সামগ্রিক পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে মূত্রের আয়তন হ্রাস পেলেও বর্জ্য ও রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ প্রায় একই থাকে, যার দরুন মূত্রে ইউরোক্রোম (Urochrome) নামক স্বাভাবিক রঞ্জকের আপেক্ষিক ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে মূত্র গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

    1. পানিশূন্যতায় অসমোরেগুলেশন: রক্তে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পিটুইটারি হরমোনের প্রভাবে নেফ্রনের নালিকায় পানির পুনঃশোষণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে মূত্রের সামগ্রিক আয়তন কমে যায়।
    2. ইউরোক্রোমের ঘনত্ব বৃদ্ধি: স্বল্প আয়তনের ঘনীভূত মূত্রে স্বাভাবিক পিত্তজাত রঞ্জক ইউরোক্রোমের আপেক্ষিক ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মূত্র গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
  2. মানবদেহে অসমোরেগুলেশন (osmoregulation) প্রক্রিয়ায় বৃক্কের ভূমিকা হলো—

    i. রক্তে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে অধিক মূত্র উৎপাদন করা

    ii. ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি বের হলে পানির পুনঃশোষণ বৃদ্ধি করা

    iii. রক্তে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামসহ খনিজ লবণের ঘনত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i, ii ও iii

    1. অসমোরেগুলেশন হলো দেহে পানি এবং বিভিন্ন খনিজ লবণের ঘনত্বের সমতা রক্ষার প্রক্রিয়া। রক্তে অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করলে বৃক্ক লঘু ও অধিক মূত্র তৈরির মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক মাত্রা ফিরিয়ে আনে (বিবৃতি i সঠিক)।
    2. অতিরিক্ত ঘাম হলে দেহে পানির ঘাটতি রোধে বৃক্ক রেনাল টিউবিউলে পানি পুনঃশোষণ বাড়িয়ে দিয়ে মূত্রের পরিমাণ কমিয়ে দেয় (বিবৃতি ii সঠিক)।
    3. বৃক্ক রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্লোরাইড আয়নের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তাই তিনটি বিবৃতিই সঠিক (বিবৃতি iii সঠিক)।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো