পড়ার নোট
বৃক্ক প্রতিস্থাপন
বৃক্ক ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো হলে সুস্থ মানুষের একটি সুস্থ বৃক্ক দিয়ে তা বদলে দেওয়া যায়; একে বৃক্ক প্রতিস্থাপন বলে। বৃক্ক দুইভাবে পাওয়া যায়:
- নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে: রোগীর বাবা, মা, ভাইবোন, চাচা, মামা, খালা, ফুফু।
- মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে (মরণোত্তর): এমন ব্যক্তি, যার মস্তিষ্কের মৃত্যু (ব্রেন ডেড) হয়েছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে অঙ্গগুলো সচল রাখা হয়েছে।
শর্ত: প্রতিস্থাপনের আগে টিস্যুর মিল থাকা জরুরি। বাবা, মা, ভাইবোন ও নিকটাত্মীয়ের সাথে টিস্যু মেলার সম্ভাবনা বেশি। একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য একটি বৃক্কই যথেষ্ট, তাই একটি বৃক্ক প্রতিস্থাপন করেই বৃক্ক বিকলের চিকিৎসা করা যায়, আর দাতাও এক বৃক্ক নিয়ে সুস্থ থাকতে পারেন।
মরণোত্তর বৃক্কদান
মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃক্কদানও বৃক্ক বিকল রোগীকে বাঁচাতে পারে। এটি মানবতার এক মহৎ সেবা। আমাদের দেশে বৃক্ক প্রতিস্থাপন অত্যন্ত সফলভাবে হচ্ছে; তবে আইনি জটিলতার কারণে নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কেউ বৃক্ক দান করতে পারেন না, ফলে অনেক রোগী সুস্থ বৃক্ক পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। তাই মরণোত্তর বৃক্কদানে সামাজিক সচেতনতা দরকার।
উদাহরণ (জনমত জরিপ): একটি দল এলাকার 40 জনকে জিজ্ঞেস করল, তারা মরণোত্তর বৃক্কদানে রাজি কি না।
| উত্তর | সংখ্যা | শতকরা হার |
|---|---|---|
| রাজি | 26 | |
| নিশ্চিত নন | 10 | |
| রাজি নন | 4 |
মোট জন, আর । যারা নিশ্চিত নন, তাদের জন্য পোস্টার ও আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো যায়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে যেকোনো মানুষের বৃক্ক যেকোনো রোগীর দেহে লাগানো যায়। প্রতিস্থাপনের আগে টিস্যুর মিল পরীক্ষা করতে হয়।
মনে রাখো: বৃক্ক প্রতিস্থাপনে নিকটাত্মীয় বা ব্রেন ডেড ব্যক্তির সুস্থ বৃক্ক লাগানো হয়, আর আগে টিস্যুর মিল জরুরি; একটি বৃক্কই বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট, এবং মরণোত্তর বৃক্কদান মানবতার এক মহৎ সেবা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।