পড়ার নোট
মূত্রনালীর রোগ ও লক্ষণ
মূত্রনালী বা মূত্রতন্ত্র হলো মূত্র তৈরি, বহন, জমা রাখা ও দেহ থেকে বের করার অঙ্গগুলোর (বৃক্ক, ইউরেটার, মূত্রথলি ও ইউরেথ্রা) সমন্বয়ে গঠিত পথ। এতে বৃক্ক, ইউরেটার, মূত্রথলি ও ইউরেথ্রা থাকে। ইউরেটার বৃক্ক থেকে মূত্রথলিতে মূত্র বহন করে, আর ইউরেথ্রা মূত্রথলি থেকে মূত্র বাইরে বের করে। তাই এই দুটি নালির কাজ আলাদা।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও অপর্যাপ্ত পানি পান মূত্রনালীর সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। মূত্রনালীতে সংক্রমণ হলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে। উপযুক্ত চিকিৎসায় অনেক রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।
বৃক্কে তৈরি পাথর ইউরেটারে নেমে মূত্রপ্রবাহে বাধা দিতে পারে। তখন কোমরের পেছনে ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত এবং কাঁপুনিসহ জ্বর দেখা দিতে পারে। বারবার প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাব কমে যাওয়াও সতর্কসংকেত। শরীর ফুলে যাওয়া ও প্রস্রাবের সঙ্গে অ্যালবুমিন বের হওয়া বৃক্কের সমস্যার লক্ষণ; এগুলোকে আলাদা মূত্রনালীর রোগের নাম হিসেবে লেখা ঠিক নয়।
সুস্থ রাখার উপায়
- তৃষ্ণা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সবার জন্য প্রতিদিন একই সংখ্যক গ্লাস পানি নির্ধারিত নয়। পানির চাহিদা কাজ, আবহাওয়া, লিঙ্গ ও অসুস্থতার ধরন অনুযায়ী বদলায়।
- প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত পানি বা খাবার স্যালাইন পান করা উচিত নয়। অপ্রয়োজনে খাবার স্যালাইন পান করা, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য, বিপজ্জনক হতে পারে। সাধারণ ক্লান্তি বা ঘামে স্যালাইনের বদলে লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মেশানো পানিই যথেষ্ট।
- উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কারণ এগুলো বৃক্কের ক্ষতি করতে পারে।
- ডায়রিয়া ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
- শিশুদের টনসিলের প্রদাহ ও খোসপাঁচড়ার চিকিৎসায় অবহেলা করা উচিত নয়; এগুলোর সঙ্গে বৃক্কের রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে।
- ধূমপান ও নিজের সিদ্ধান্তে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার এড়াতে হবে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, রক্ত বা প্রবাহের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শুধু বেশি পানি খেলেই সব সমস্যা সেরে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
মনে রাখো: প্রয়োজনমতো পানি, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সমস্যার দ্রুত চিকিৎসা বৃক্ক-মূত্রনালী সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।