পড়ার নোট
বৃক্কের গঠন
বৃক্কের লম্বচ্ছেদে বাইরের আবরণ, ভেতরের দুটি অঞ্চল এবং মূত্র সংগ্রহের স্থান দেখা যায়। প্রতিটি অংশের অবস্থানের সঙ্গে তার কাজ মিলিয়ে বুঝলে চিত্রের চিহ্নগুলো মনে রাখা সহজ হয়।
- বৃক্ক ক্যাপসুল হলো বৃক্ককে ঘিরে রাখা শক্ত তন্তুময় আবরণ। এটি বৃক্কের বাইরের আচ্ছাদন গঠন করে।
- কর্টেক্স হলো ক্যাপসুলের ঠিক নিচের বাইরের অঞ্চল। মেডুলা হলো তার ভেতরের অঞ্চল। কর্টেক্স ও মেডুলা ক্যাপসুলের দুটি স্তর নয়; এগুলো বৃক্কের অভ্যন্তরীণ অংশ।
- মেডুলায় সাধারণত ৮–১২টি রেনাল পিরামিড থাকে। পিরামিডের অগ্রভাগকে রেনাল প্যাপিলা বলে। প্যাপিলা পেলভিসের দিকে উন্মুক্ত হয়।
- রেনাল পেলভিস হলো ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রসারিত অংশ, যেখানে বৃক্কের তৈরি মূত্র জমা হয়ে ইউরেটারে যায়।
- হাইলাম হলো বৃক্কের অবতল পাশের খাঁজ। এখান দিয়ে রেনাল ধমনী প্রবেশ করে এবং রেনাল শিরা ও ইউরেটার বের হয়।
বৃক্কের বিশেষ নালিকাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। এর দুটি প্রধান অংশ হলো নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা। নেফ্রন বৃক্কের কার্যকরী একক; প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০–১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে, আর সংগ্রাহী নালিকা তা পেলভিসে বহন করে।
বৃক্কের কাজ
কাজের ধারায় প্রথমে রক্ত বৃক্কে আসে এবং নেফ্রনে পরিস্রুত হয়। পরিস্রুত তরল থেকে গ্লুকোজ, প্রয়োজনীয় লবণ ও পানি আবার রক্তে ফিরে যায়। বর্জ্যযুক্ত অবশিষ্ট তরল মূত্রে পরিণত হয়। মূত্র সংগ্রাহী নালিকা, পেলভিস ও ইউরেটার হয়ে মূত্রথলিতে পৌঁছায়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে।
এভাবে বৃক্ক ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও ক্রিয়েটিনিনের মতো নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য অপসারণ করে। পাশাপাশি পানি ও খনিজ লবণের পরিমাণ, রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এসব কাজ দেহের স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বজায় রাখে। একটি সুস্থ বৃক্কও দেহের স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে নিতে পারে।
মনে রাখো: বৃক্কের নেফ্রন মূত্র তৈরি করে এবং সংগ্রাহী নালিকা সেই মূত্র পেলভিসে পৌঁছে দেয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।