offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৮ · টপিক ৯

নেফ্রন

পড়ার নোট

বৃক্কের ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম নালিকা থাকে, যাদের ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকার দুটি প্রধান অংশ: নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা।

নেফ্রন কী

ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশকে নেফ্রন বলে। নেফ্রনই বৃক্কের কার্যকরী একক, কারণ রক্ত ছাঁকা থেকে শুরু করে মূত্র তৈরির পুরো কাজ নেফ্রনে হয়। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে, আর সংগ্রাহী নালিকা সেই মূত্র রেনাল পেলভিসে বহন করে।

সংখ্যা

মানুষের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় 10–12 লক্ষ নেফ্রন থাকে। এত বেশি নেফ্রন একসাথে কাজ করে বলেই বৃক্ক প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রক্ত ছেঁকে বর্জ্য সরাতে পারে।

নেফ্রনের দুই অংশ

  • রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ: এতে আছে গ্লোমেরুলাস (কৈশিক জালিকার গুচ্ছ) ও তাকে ঘিরে থাকা পেয়ালার মতো বোমান্স ক্যাপসুল। এখানে রক্ত ছাঁকা হয়।
  • রেনাল টিউবুল: বোমান্স ক্যাপসুলের পরের প্যাঁচানো নালিকা, যেখানে ছাঁকা তরল থেকে প্রয়োজনীয় পদার্থ রক্তে ফিরে যায়।

চিত্র আঁকার সময়

নেফ্রনের চিত্রে উপরে বোমান্স ক্যাপসুলের ভেতর গ্লোমেরুলাস, তার সাথে যুক্ত অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ধমনিকা, তারপর প্যাঁচানো রেনাল টিউবুল এবং শেষে সংগ্রাহী নালিকা চিহ্নিত করতে হয়।

উদাহরণ: দুটি বৃক্কে মোট কতটি নেফ্রন থাকে? প্রতিটিতে কম পক্ষে 10 লক্ষ হলে 2×10=202 \times 10 = 20 লক্ষ; সর্বোচ্চ 12 লক্ষ হলে 2×12=242 \times 12 = 24 লক্ষ। অর্থাৎ দুই বৃক্কে মোট প্রায় 20–24 লক্ষ নেফ্রন। একটি বৃক্ক নষ্ট হলেও অন্যটির 10–12 লক্ষ নেফ্রন দিয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, তাই একটি বৃক্কই বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট।

সাধারণ ভুল হলো নেফ্রন ও ইউরিনিফেরাস নালিকাকে একই জিনিস ভাবা। ইউরিনিফেরাস নালিকা = নেফ্রন + সংগ্রাহী নালিকা; মূত্র তৈরি করে নেফ্রন, আর সংগ্রাহী নালিকা শুধু তা বহন করে।

মনে রাখো: নেফ্রন হলো ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও বৃক্কের কার্যকরী একক; প্রতিটি বৃক্কে প্রায় 10–12 লক্ষ নেফ্রন থাকে, আর প্রতিটি নেফ্রন রেনাল করপাসল ও রেনাল টিউবুল নিয়ে গঠিত।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. নেফ্রনের রেনাল করপাসলে বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতরে অ্যাফারেন্ট ধমনিকা (afferent arteriole) প্রায় ৫০টি কৈশিকজালিকায় বিভক্ত হয়ে গ্লোমেরুলাস গঠন করে এবং এগুলো পুনরায় একত্রিত হয়ে ইফারেন্ট ধমনিকা (efferent arteriole) হিসেবে বের হয়ে যায়। গ্লোমেরুলার কৈশিকজালিকায় উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণ কোনটি?

    1. ক

      ইফারেন্ট ধমনিকার ব্যাস অ্যাফারেন্ট ধমনিকার চেয়ে সরু হওয়া

    2. খ

      অ্যাফারেন্ট ধমনিকার ব্যাস ইফারেন্ট ধমনিকার চেয়ে সরু হওয়া

    3. গ

      বোম্যান্স ক্যাপসুলের প্রাচীর অধিক পুরু ও অনমনীয় হওয়া

    4. ঘ

      রেনাল শিরার রক্তচাপ রেনাল ধমনির চেয়ে বেশি থাকা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ইফারেন্ট ধমনিকার ব্যাস অ্যাফারেন্ট ধমনিকার চেয়ে সরু হওয়া

    1. রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট ধমনিকা বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে প্রায় ৫০টি কৈশিকজালিকায় বিভক্ত হয়ে গ্লোমেরুলাস গঠন করে এবং পুনরায় মিলিত হয়ে ইফারেন্ট ধমনিকা হিসেবে বাইরে আসে।
    2. প্রবেশকারী অ্যাফারেন্ট ধমনিকার ব্যাস নির্গমনকারী ইফারেন্ট ধমনিকার ব্যাসের চেয়ে বেশি। নির্গমনের পথ সরু হওয়ায় গ্লোমেরুলার কৈশিকজালিকায় প্রচণ্ড উদস্থিতিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা রক্তরস থেকে পানি ও ক্ষুদ্র দ্রবণীয় অণুকে বোম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে পরিশ্রুত (ultrafiltration) হতে বাধ্য করে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো