পড়ার নোট
বৃক্ক হলো মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ, যা রক্ত থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি-লবণ অপসারণ করে মূত্র তৈরি করে। দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মানুষের দুটি বৃক্ক থাকে। এগুলো উদরগহ্বরের পেছনের দেয়ালের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায়, মেরুদণ্ডের দুই পাশে এবং পাঁজরের নিচের দিকে অবস্থিত। বৃক্কের রং লালচে বাদামি এবং আকৃতি শিমবীজের মতো। এর বাইরের দিক উত্তল, আর ভেতরের দিক অবতল। অবতল দিকের খাঁজকে হাইলাম বলে। এই স্থান দিয়ে রক্তবাহী নালি ও মূত্র বহনকারী নালি বৃক্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
মানব রেচনতন্ত্রের চিত্রে বৃক্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি অংশ চিনতে হবে:
- রেনাল ধমনী বৃক্কে রক্ত নিয়ে আসে। এটি মহাধমনি থেকে শাখা হিসেবে বের হয়।
- রেনাল শিরা বৃক্ক থেকে রক্ত নিয়ে যায় এবং নিম্ন মহাশিরার সঙ্গে যুক্ত হয়।
- ইউরেটার হলো প্রতিটি বৃক্ক থেকে মূত্রথলি পর্যন্ত বিস্তৃত মূত্র বহনকারী নালি। দুটি বৃক্কের জন্য দুটি ইউরেটার থাকে।
- মূত্রথলি হলো মূত্র সাময়িকভাবে জমা থাকার থলি।
- ইউরেথ্রা হলো মূত্রথলি থেকে দেহের বাইরে মূত্র বের হওয়ার নালি।
কাজের ধারাটি সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে: প্রথমে রেনাল ধমনী দিয়ে রক্ত বৃক্কে আসে। বৃক্কের কার্যকরী একক নেফ্রন মূত্র তৈরি করে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকা ও পেলভিস হয়ে ইউরেটারে পৌঁছায়। ইউরেটার সেই মূত্র মূত্রথলিতে নিয়ে যায়। মূত্রথলি পূর্ণ হলে প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয় এবং ইউরেথ্রা দিয়ে মূত্র বের হয়।
অর্থাৎ, বৃক্ক মূত্র তৈরি করে, ইউরেটার তা বহন করে এবং মূত্রথলি তা জমা রাখে। বৃক্ক রক্তচাপ ও রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষায়ও সাহায্য করে। একটি সুস্থ বৃক্ক দিয়েও দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকতে পারে।
মনে রাখো: বৃক্ক মূত্র তৈরি করে; ইউরেটার মূত্র বহন করে এবং মূত্রথলি তা সাময়িকভাবে জমা রাখে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।